কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
জলপাইগুড়ির একটি বেকারি কারখানার ম্যানেজারকে খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মুর্শিদাবাদ থেকে এক যুবককে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। শুক্রবার রাতে যৌথ অভিযান চালিয়ে মুর্শিদাবাদের সালার এলাকা থেকে অভিযুক্ত নুর মহম্মদ শেখ (৩৪)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি, সালার এবং কান্দি থানার পুলিশ যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে।
আরও পড়ুনঃ থরে থরে সাজানো বোতল, ‘বেআইনি ভাণ্ডার’ বাগুইআটির গোডাউনে
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও রহস্য উদ্ঘাটন
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জলপাইগুড়ির নয়াবস্তি এলাকার সংশ্লিষ্ট বেকারি কারখানায় বিগত তিন বছর ধরে কাজ করতেন ধৃত নুর মহম্মদ। শুক্রবার ভোরে ওই কারখানার ম্যানেজার হাফিজুল রহমান (৫৪)-এর রক্তাক্ত দেহ তাঁর নিজস্ব শোয়ার ঘর থেকে উদ্ধার হয়। প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে, ভোরে ঘুমানো অবস্থাতেই তাঁর মাথায় কোনো ভারী বস্তু দিয়ে সজোরে আঘাত করে খুন করা হয়েছে।
-
সন্দেহের তীর ও সিসিটিভি: ঘটনার তদন্তে নেমে কারখানার সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। ফুটেজ বিশ্লেষণ ও সহকর্মীদের বয়ানের ভিত্তিতে নুরের ওপর কড়া সন্দেহ জাগে।
-
আত্মগোপন ও ট্র্যাকিং: জানা যায়, বৃহস্পতিবার বাড়ি যাওয়ার কথা বলে কারখানা থেকে ছুটি নিয়েছিলেন নুর। কিন্তু তিনি সরাসরি বাড়ি না গিয়ে কাছাকাছি কোথাও আত্মগোপন করে ছিলেন এবং শুক্রবার ভোরে ট্রেনে চেপে মুর্শিদাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
অভিযুক্তকে নাটকীয় গ্রেপ্তার
শুক্রবার রাতে সালার স্টেশনে ট্রেন থেকে নেমে একটি অটো ধরে নিজ গ্রাম শালিন্দার দিকে যাচ্ছিলেন নুর মহম্মদ। আগাম খবরের ভিত্তিতে ওস্তাদপুর রাস্তার ওপরই আগে থেকে ওত পেতে থাকা যৌথ পুলিশ বাহিনী তাঁকে ঘেরাও করে পাকড়াও করে।
আরও পড়ুনঃ বিতর্কের আবহে কমিশন ‘ঐক্যবদ্ধ’, একফ্রেমে ছবি প্রকাশ করে বিতর্ক ওড়াল টিম জ্ঞানেশ
তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ
স্থানীয় প্রতিবেশীদের মতে অভিযুক্ত স্বভাবগতভাবে শান্ত থাকলেও এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো পুরনো শত্রুতা বা অন্য কারো উস্কানি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার পুলিশ। ধৃতকে ট্রানজিট রিমান্ডে এনে আরও বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হবে বলে আধিকারিকেরা জানিয়েছেন।


