নির্বাচন কিমিশনের নিয়ম মেনে একাধিক লাভজনন পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন মমতা বন্দোপাধ্যা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২৪ মার্চ মঙ্গলবার বিভিন্ন সরকারি বোর্ড, কাউন্সিল ও কমিশনের ২৩টি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। নবান্ন থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি বহাল রয়েছেন এবং স্বাস্থ্য, অর্থ ও সংখ্যালঘু উন্নয়ন দফতরের দায়িত্বও তাঁর কাছেই থাকছে। তবে বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও কমিটির চেয়ারপারসন বা সদস্য পদ থেকে তিনি স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়িয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ রান্নার গ্যাস বুক করার নিয়মে আবার বদল! অপেক্ষা বাড়ল ডবল সিলিন্ডারে
এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন। মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রাক্কালে কোনো আইনি জটিলতা বা ‘অফিস অফ প্রফিট’ সংক্রান্ত বিতর্ক এড়াতেই মমতা এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী লাভজনক পদে থেকে মনোনয়ন জমা দিতে পারেন না। এমন নিয়ম লঙ্ঘন করলে মনোনয়ন বাতিল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাখতে এবং নিজের প্রার্থিতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন না ওঠাতে তিনি এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন।
সূত্র জানিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন সরকারি ও আধা-সরকারি সংস্থায় চেয়ারপারসন বা সদস্য হিসেবে যুক্ত ছিলেন। এর মধ্যে রয়েছে কিছু স্বায়ত্তশাসিত বোর্ড, উন্নয়ন কাউন্সিল ও কমিশন। এসব পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ফলে তাঁর উপর থেকে ‘লাভজনক পদ’ ধারণের অভিযোগের সম্ভাবনা অনেকটাই কমে গেল। তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা বলছেন, এটি একটি রুটিন ও আইনসম্মত সিদ্ধান্ত।
আরও পড়ুনঃ বাংলার লোকসংস্কৃতি মানে শুধু নাচ গান নয়, এটি এক সমগ্র জীবনদর্শন
মুখ্যমন্ত্রী নিজে সবসময় বলে এসেছেন যে, নির্বাচনী নিয়ম মেনে চলাই তাঁর অভ্যাস।রাজনৈতিক মহলে এই ইস্তফাকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে যখন বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পর রাজ্যজুড়ে প্রচারের প্রস্তুতি চলছে, তখন এমন সিদ্ধান্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক পরিপক্বতা দেখাচ্ছে।
বিরোধী দল বিজেপি অবশ্য এই ইস্তফাকে ‘নাটক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, এটি শুধু আইনি জটিলতা এড়ানোর জন্য নয়, বরং জনমত তৈরির একটি কৌশল। তবে তৃণমূল নেতারা বলছেন, মমতা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সংস্থায় যুক্ত ছিলেন এবং এখন শুধু নির্বাচনী নিয়ম মেনেই তিনি পদত্যাগ করেছেন।



