জটে আটকে চিংড়িঘাটা ৷ মেট্রো প্রকল্পে আরও গতি আসত কিন্তু রাজ্যের অসহযোগিতায় তা থমকে যাচ্ছে । কলকাতা মেট্রোয় কাজ আটকে থাকা নিয়ে এভাবেই সোমবার রেল বাজেটের বৈঠকে সরব হলেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ৷
আরও পড়ুনঃ রাত দশটা থেকে ভোর ছ’টা পর্যন্ত শবেবরাতে বাজি ফাটানো যাবে না; নিষেধাজ্ঞা হাইকোর্টের
হাইকোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও চিংড়িঘাটায় কাজে বাধা রাজ্যের । না-হলে এই প্রকল্পের কাজ আরও গতিতে হতে পারত । আগামী দুই বছরের মধ্যে বিমানবন্দর পর্যন্ত অরেঞ্জ লাইন যুক্ত হচ্ছে না ৷ সোমবার এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন মেট্রোরেলের জেনারেল ম্যানেজার এসএস মিশ্র । রবিঠাকুরের মোড় বা রুবি মোড় থেকে বেলেঘাটা মেট্রো স্টেশন যার পোশাকি নাম মেট্রোপলিটন স্টেশন, এই অংশে অরেঞ্জ লাইনে পরিষেবা শুরু হয় গেলেও চিংড়িঘাটার অংশটিতে কাজ শুরু হওয়া নিয়ে ধন্দে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ ।
অসমাপ্ত এই ৩৬৬ মিটারের কাজ শেষ হয়ে গেলে ও এই পথে মেট্রো পরিষেবা চালু হয়ে গেলে নিঃসন্দেহে শহরের একটা বড় অংশের মানুষজন ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন । একবার চিংড়িঘাটা অংশের কাজ শেষ হয়ে গেলে অরেঞ্জ লাইনে একেবারে জয় হিন্দ বিমানবন্দর পর্যন্ত যুক্ত হবে রুটটি । তখন কলকাতা মেট্রো নেটওয়ার্কের অরেঞ্জ লাইন পথের মোট দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ২৯.৮৭ কিমি ৷ সেইসঙ্গে সবচেয়ে লম্বা মেট্রো রুট হবে এটি । এক ট্রেনেই শহরের এক প্রান্ত (নিউ গড়িয়া) থেকে পৌঁছে যাওয়া যাবে দমদম বিমানবন্দর ।
সোমবার রেল বাজেট নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে এই বিষয় নিয়ে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, “হাইকোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও চিংড়িঘাটায় কাজ শুরু করার অনুমতি এখনও দেওয়া হচ্ছে না । মেট্রোর তরফ থেকে ওই এলাকায় একটি বাইপাসও করে দেওয়া হয়েছে ৷ তবে গত দেড় বছর ধরে চিংড়িঘাটার কাজ শুরু করার জন্য অনুমতি মিলছে না ।”
এরপর এই বিষয়ে মেট্রোরেলের জেনারেল ম্যানেজার এসএস মিশ্র বলেন, “এই কাজ গত নভেম্বর মাসে শুরু হওয়ার কথা ছিল তা এখনও শুরু করা যায়নি ৷ বলা সম্ভব না এই কাজ কবে শুরু হবে ৷ তবে অনুমান, ২০২৮ সালের মাঝামাঝি সময় লাগবে এই কাজ শেষ হতে । চিংড়িঘাটায় গাটার লঞ্চিংয়ের কাজ বাকি রয়েছে ৷ আর এই কাজ করার জন্য ট্রাফিক পাওয়ার ব্লক নিতে হবে ৷ তবে রাজ্য সরকারকে একাধিকবার জানানো এবং হাইকোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকারের থেকে অনুমতি মিলছে না ৷ তাই কাজ কোনওভাবেই এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না ।”
তাঁর কথায়, “হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্য সরকারের একটি তারিখ দেওয়ার কথা ছিল ৷ কিন্তু সেই তারিখ বা তার অনুমতি এখনও মেলেনি । নিয়মিত রাজ্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগে রয়েছে রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড ।”
অন্যদিকে, এদিন রেল বাজেট পেশ করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব আরও বলেন, “এই অর্থবর্ষে অরেঞ্জ লাইনের জন্য আর্থিক বরাদ্দ হয়েছে ৭০৫.৫০ কোটি । পার্পল লাইনের জন্য আর্থিক বরাদ্দ 906.60 কোটি । গ্রিন লাইন (KMRCL)-এর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৫২৯.00 কোটি টাকা ৷
দেশের প্রথম মেট্রো পরিষেবা হওয়া সত্ত্বেও গত ৪০ বছরে কলকাতা মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক মাত্র ২৭ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তার পেয়েছে । তবে ২০১৪ সালের পর থেকে মেট্রোর কাজে কিছুটা হলেও গতি এসেছে ।”
প্রসঙ্গত, দেশে প্রথম বুলেট ট্রেন পাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ ৷ এই বুলেট ট্রেনটি শিলিগুড়ি থেকে পটনা হয়ে বারাণসী পর্যন্ত যাবে । ভবিষ্যতে এই ট্রেনটি গুয়াহাটি পর্যন্ত যাবে । এছাড়াও নতুন একটি ফ্রেন্ড করিডোরও বাংলা পেল । যা বাংলার ডানকুনি থেকে গুজরাত হয়ে ওড়িশা, ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ এবং মহারাষ্ট্রকে যুক্ত করবে ।





