Wednesday, 21 October, 2026
21 October
HomeকলকাতাChorbagan: ফেরার ক্লাবকর্তারা, প্রতিমা বিসর্জন দেবে কে? চিন্তায় পল্লিবাসী

Chorbagan: ফেরার ক্লাবকর্তারা, প্রতিমা বিসর্জন দেবে কে? চিন্তায় পল্লিবাসী

বেশিরভাগ সদস্য পলাতক থাকায় পুজোর বিসর্জন প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হবে, তা নিয়ে তীব্র সংশয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মনে।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ সংবাদদাতা, কলকাতা:

উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব মণ্ডপে মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যুর রহস্যভেদে এবার বড় সাফল্য পেল কলকাতা পুলিশ। ঘটনার দু’দিন পর মণ্ডপের সিসি ক্যামেরা (CCTV) ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খट्टे এবং ধৃত ক্লাব কর্তাদের জেরা করে মাইকে ‘মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে’ বলে ভীতিপ্রদ ঘোষণা করার অভিযোগে দুই সন্দেহভাজনের নাম চিহ্নিত করেছে গোয়েন্দা বিভাগ। একই সঙ্গে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার নেপথ্যের সত্য উদঘাটনে ছয় সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে লালবাজার। গোয়েন্দা বিভাগের সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার এক আধিকারিকের নেতৃত্বে এই দলটি কাজ শুরু করেছে।

আরও পড়ুনঃ ‘দেশের শত্রুদের বিনাশ করতে হবে’, রাবণ বধ করে বললেন প্রধানমন্ত্রী

সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও ঘটনার পুনর্নির্মাণ

তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার পাশাপাশি শনিবারের সেই বিশৃঙ্খল মুহূর্তে মণ্ডপে উপস্থিত সিভিক ভলান্টিয়ার ও ক্লাব সদস্যদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার ক্রম পুনর্নির্মাণ করছেন। এক তদন্তকারী আধিকারিকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রবল বৃষ্টির জেরে বাইরে যাওয়ার প্রধান গেট আটকে অনেক দর্শনার্থী আশ্রয় নিয়েছিলেন। অন্যদিকে ‘প্রবেশ পথ’ খোলা থাকায় হুড়মুড় করে ভেতরে ঢুকে পড়া অতিরিক্ত জনস্রোতের চাপে মাঝপথে আটকে পড়া বহু মানুষ অসুস্থবোধ করতে শুরু করেন।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলিতে দেখা গিয়েছে, গ্রিলে ঘেরা ঘোরানো উড়ালপথের ওপরে এবং বাইরে যাওয়ার গেট থেকে মাত্র ৮-১০ মিটার ভেতরে প্রবল ধাক্কাধাক্কির জেরে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছেন বহু মানুষ। আতঙ্কে চারদিকে হাহাকার ও চিৎকার শুরু হয়। এমন এক চরম আপৎকালীন ও থমথমে পরিস্থিতির মধ্যেই মণ্ডপের ভিআইপি লাউঞ্জ বা ক্লাব অফিসের মাইক থেকে কেউ বা কারা বারবার ঘোষণা করতে শুরু করেন— “মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে, সবাই দ্রুত বাইরে বেরিয়ে যান!” প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি এবং বাজেয়াপ্ত সিসিটিভি ফুটেজ স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই ত্রাসসৃষ্টিকারী ভুয়া ঘোষণার পরেই জনতার মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং হুড়োহুড়িতে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে।

শনাক্ত হওয়া সন্দেহভাজন ও ক্লাব কর্তাদের রহস্যজনক ভূমিকা

পুলিশ সূত্রে খবর, মণ্ডপের বাইরে যাওয়ার পথ সংলগ্ন অমর বসু সরণির ক্লাব অফিস ও বিশেষ অতিথির ঘর থেকেই ওই ঘোষণা করা হয়েছিল। তদন্তে দুই স্থানীয় বাসিন্দার নাম উঠে এসেছে, যাঁদের বাড়ি মণ্ডপ থেকে মাত্র ৫০ মিটারের মধ্যে। মঙ্গলবার আনন্দবাজার ডট কম-এর প্রতিনিধি তাঁদের বাড়িতে গিয়ে জানতে পারেন যে, দুর্ঘটনার পর থেকেই দু’জনেরই মোবাইল ফোন বন্ধ এবং তাঁরা পলাতক। প্রথম সন্দেহভাজনের পিসি জানান যে তাঁর ভাইপো পুজোয় যুক্ত থাকলেও ঘটনার পর থেকে বাড়ি ফেরেননি। অন্যদিকে, দ্বিতীয় সন্দেহভাজন পেশায় অ্যাপ ক্যাব চালক; তাঁর স্ত্রীর দাবি, আসল দোষীদের আড়াল করতে তাঁর স্বামীকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।

পাশাপাশি, স্থানীয়দের একাংশের সন্দেহের তির অভিষেক হোড় ওরফে সোনাই নামে ক্লাবের আরেক সদস্যের দিকেও। যদিও ফোনে যোগাযোগ করা হলে অভিষেক দাবি করেন যে দুর্ঘটনার ১০-১৫ মিনিট আগেই তিনি অন্য একটি এলাকায় চলে গিয়েছিলেন এবং এই ঘোষণার বিষয়ে তিনি সম্পূর্ণ অজ্ঞ। একইভাবে পুজোর ‘ফিল্ড সেক্রেটারি’ অমর পালেরও নাগাল মেলেনি। তবে তাঁর দাবি, অফিসঘর খোলা থাকলেও এই ধরনের কোনো ঘোষণা করার নির্দেশ তিনি দেননি। মণ্ডপের থিম শিল্পী সুশান্ত পাল জানিয়েছেন, বাইরে যাওয়ার রাস্তার ধারে তৈরি ওই অফিসঘরে প্রবেশের জন্য একটি আলাদা পথ ছিল, ফলে বাইরের কারও পক্ষে সেখানে গিয়ে ঘোষণা করা অসম্ভব।

আরও পড়ুনঃ ‘লোকে হাসাহাসি করলেও পিছু হটব না!’ দিপাবলী পর্যন্ত আন্দোলন-বিক্ষোভ নয়, ঘোষণা CJP-র দীপকের

রাজনৈতিক বিতর্ক ও বিসর্জন নিয়ে অনিশ্চয়তা

এই ঘটনার পরই চোরবাগান পুজো কমিটির দখল এবং পরিচালনা নিয়ে শাসক ও বিরোধীদের রাজনৈতিক তরজা চরমে উঠেছে। স্থানীয় বিধায়ক বিজয় ওঝা, উত্তর কলকাতার বিজেপি নেতা তমোঘ্ন ঘোষ এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভাইপো দেবদীপ অধিকারীর নাম জড়ানোয় বিরোধী শিবির জোরালো আক্রমণ শানিয়েছে। পাশাপাশি, ক্লাবের নতুন কর্তাদের অনভিজ্ঞতা, আপৎকালীন গেট বন্ধ থাকা এবং পুলিশের দেরিতে পদক্ষেপ করার মতো বিষয়গুলি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ বেড়েই চলেছে। এদিকে, কমিটির বেশিরভাগ সদস্য পলাতক থাকায় পুজোর বিসর্জন প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হবে, তা নিয়ে তীব্র সংশয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মনে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন