এখন প্রবল শীতে ঠকঠকিয়ে কাঁপছে উত্তরভারত। ভয়াবহ অবস্থা দিল্লি-উত্তরপ্রদেশ-পঞ্জাবের। পারদ পতনের পূর্বাভাসই রয়েছে মৌসম ভবনের। ফলে শৈত্যপ্রবাহ আরও বেশ কয়েক দিন দাপুটে ইনিংস খেলবে বলেই মনে করা হচ্ছে। এই প্রতিকৃল পরিস্থিতিতে পঞ্জাবের বিভিন্ন অংশে সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ল।
আরও পড়ুনঃ শীতের সন্ধ্যায় জ্বলছে কলকাতা! নোনাডাঙার বস্তিতে আগুন
রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী হরজোত সিং বেইনস ৭ জানুয়ারি, বুধবার X হ্যান্ডেলে পোস্ট করে জানালেন, ‘ক্রমবর্ধমান ঠান্ডা ও কুয়াশার কারণে ছাত্রছাত্রী ও কর্মীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে রাজ্যের সমস্ত সরকারি, সাহায্যপ্রাপ্ত, স্বীকৃত এবং বেসরকারি স্কুলে ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হল। এখন রাজ্যের সকল স্কুল ১৪ জানুয়ারি থেকে নিয়মিত দিনের মতোই খুলবে।’ পঞ্জাবের স্কুলগুলি এর আগে ৮ জানুয়ারি খোলার কথা ছিল।
উত্তর প্রদেশ
উত্তর প্রদেশে শৈত্যপ্রবাহ এবং ঘন কুয়াশার কারণে বেশ কয়েকটি জেলায় অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নয়ডা এবং গাজিয়াবাদ -সহ জাতীয় রাজধানী অঞ্চলের জেলা প্রশাসন প্রবল ঠান্ডার কারণে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সমস্ত স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এই নির্দেশি জেলার সমস্ত স্বীকৃত স্কুলের জন্য প্রযোজ্য, যার মধ্যে সিবিএসই, আইসিএসই, আইবি, উত্তর প্রদেশ বোর্ড এবং অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের অন্তর্ভুক্ত স্কুলগুলোও রয়েছে।
নয়ডা
নয়ডার জেলা প্রাথমিক শিক্ষাকর্তা রাহুল পানওয়ার সরকারি আদেশে বলেছেন, ‘এই আদেশটি জেলায় পরিচালিত সিবিএসই, আইসিএসই, আইবি, উত্তর প্রদেশ বোর্ড এবং অন্যান্য বোর্ডের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত স্বীকৃত স্কুলের জন্য প্রযোজ্য। বর্তমান আবহাওয়ার পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের জারি করা নির্দেশাবলী মেনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ আদেশে বলা হয়েছে, ‘গাজিয়াবাদের জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ অনুসারে, জেলার তীব্র শৈত্যপ্রবাহের পরিপ্রেক্ষিতে, গাজিয়াবাদ জেলার সিবিএসই, আইসিএসই, ইউপি বোর্ড এবং অন্যান্য বোর্ডের সাথে যুক্ত সমস্ত বেসরকারি স্কুল (নার্সারি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত) ৭ জানুয়ারি থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। অতএব, সিবিএসই, আইসিএসই, ইউপি বোর্ড এবং অন্যান্য বোর্ডের সাথে যুক্ত সমস্ত বেসরকারি স্কুলের অধ্যক্ষ/প্রধান শিক্ষকদের উপরোক্ত আদেশগুলি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।’
আরও পড়ুনঃ মহারাষ্ট্রে গ্রেফতার হওয়া সুকান্তের এলাকার শ্রমিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ অভিষেকের
দিল্লি
দিল্লিতে বেশ কয়েকটি স্কুলে ইতিমধ্যেই তাদের নির্ধারিত শীতকালীন ছুটি চলছে। যদিও কর্তৃপক্ষ ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তীব্র শীত এবং ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকলে ছুটির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। শিক্ষা বিভাগগুলির অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের জেলা প্রশাসন ও স্কুল কর্তৃপক্ষের জারি করা সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আপডেট থাকার পরামর্শ দিয়েছে, কারণ স্থানীয় আবহাওয়ার পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে স্কুল খোলার তারিখ পরিবর্তিত হতে পারে।
ত্রিপুরা
ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা শীতের কারণে রাজ্যে ৬ থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত সমস্ত স্কুল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। আইএমডি-র আগরতলা কেন্দ্রের এক কর্তা বলেছেন, গত এক সপ্তাহ ধরে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এই রাজ্যটি শৈত্যপ্রবাহের কবলে রয়েছে এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে গেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “তীব্র শীতের কারণে ৬ থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত সব স্কুল (সরকারি/সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত ও বেসরকারি) বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
বাকি রাজ্যের ছুটির আপডেট
বিহার, অসম, পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং জম্মু-কাশ্মীরের মতো রাজ্যগুলিতেও একই রকম আবহাওয়াজনিত কারণে স্কুল বন্ধ এবং শীতকালীন ছুটি বাড়ানোর ঘোষণা করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্যই হল তীব্র ঠান্ডা এবং কম দৃশ্যমানতার কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করা, বিশেষ করে সকালের ভ্রমণের সময়। সকালে ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, এবং তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকছে। এই সময়ে স্কুল বাস চলাচল করার কারণে, কর্তৃপক্ষ শিশুদের যাতায়াতের জন্য প্রতিকূল আবহাওয়ার কথা উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষকে এই নির্দেশ কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।









