ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর জওয়ানদের মধ্যে চাকরি ছাড়ার প্রবণতা এবং আত্মহত্যার ঘটনা বাড়ছে, যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংস্থা। দীর্ঘদিনের কঠোর কর্মপরিবেশ, পরিবার থেকে দূরে থাকা, মানসিক চাপ এবং ব্যক্তিগত সমস্যাগুলো এই সংকটের পিছনে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ “আবার সে এসেছে ফিরিয়া”; আজকে এই ভরা শীতে বিশ্বকর্মা পুজো! পুজো করছে কারা? কোথায় হচ্ছে?
সম্প্রতি এই বিষয়ে গঠিত একটি কমিটির রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিএসএফ সহ কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীগুলোতে (সিএপিএফ) আত্মহত্যার ঘটনাগুলোর ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে ঘটছে। এতে কাজের পরিবেশের সমস্যার পাশাপাশি পারিবারিক দ্বন্দ্ব, আর্থিক সংকট, সম্পর্কের জটিলতা এবং মানসিক অবসাদকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
এই রিপোর্ট দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে এবং সরকারের কাছে আরও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জোরালো হয়েছে।বিএসএফ ভারতের সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহিনী, যার জওয়ানরা পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সীমান্তে কঠিন পরিবেশে দিনরাত ডিউটি করেন। কিন্তু এই দায়িত্বের চাপে অনেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুসারে, গত কয়েক বছরে সিএপিএফ-এর মধ্যে বিএসএফ-এ আত্মহত্যা ও স্বেচ্ছায় অবসরের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বিএসএফ-এ ১৭৪টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে, যা সিআরপিএফ-এর পরেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। একই সময়ে প্রায় ২৩,৫৫৩ জওয়ান চাকরি ছেড়েছেন, যা মোট অ্যাট্রিশনের একটা বড় অংশ।
কমিটির রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, এই আত্মহত্যাগুলোর অধিকাংশই কাজের চাপের চেয়ে ব্যক্তিগত জীবনের সমস্যা যেমন পরিবারে দ্বন্দ্ব, সম্পত্তি নিয়ে ঝামেলা, আর্থিক চাপ বা সম্পর্কের ভাঙন থেকে উদ্ভূত হয়েছে। তবে কাজের পরিবেশও এই সমস্যাগুলোকে আরও বাড়িয়ে তুলছে, কারণ দীর্ঘদিন পরিবার থেকে দূরে থাকলে ব্যক্তিগত সমস্যা মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়ে।এই সংকটের পিছনে আরও কয়েকটি কারণ চিহ্নিত হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ফের মর্মান্তিক রেল দুর্ঘটনা, বরুয়া নদীতে পড়ে গেল বেশ কিছু কামরা!
ঘন ঘন ট্রান্সফার, ধীরগতির প্রমোশন, কর্মক্ষেত্রে বুলিং বা অপমান, উচ্চপদস্থদের সঙ্গে যোগাযোগের অভাব এগুলো জওয়ানদের মানসিকভাবে দুর্বল করে তুলছে। একটি টাস্ক ফোর্সের রিপোর্টে উল্লেখ আছে যে, সাব-গ্রুপের মধ্যে বৈষম্য, অপমানের ট্রমা এবং শাস্তির ভয়ও আত্মহত্যা ও ভ্রাতৃঘাতী ঘটনার কারণ। অনেক জওয়ান নতুন পেনশন স্কিম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন, কারণ এতে তাদের ভবিষ্যতের নিরাপত্তা কমে যায়।
ফলে অনেকে স্বেচ্ছায় অবসর নিচ্ছেন বা মানসিক রোগে ভুগছেন। বিএসএফ-এর মতো বাহিনীতে কর্মরত জওয়ানরা প্রায়ই কঠিন এলাকায় পোস্টেড থাকেন, যেখানে ছুটি পাওয়া কঠিন এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত। এতে বাড়ির সমস্যাগুলো আরও জটিল হয়ে ওঠে, যা শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার মতো চরম পদক্ষেপে নিয়ে যায়।









