দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা:
আগামী বছর বাংলার মাটিতে হবে বিধানসভা নির্বাচন। যদিও এখন থেকেই একটা ভোট পরিবেশ যে তৈরি হয়ে গিয়েছে রাজ্যে, তা বলাই যায়। শাসক থেকে বিরোধী, দুই শিবিরই এখন জোরদার প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এক কথায় বলতে গেলে, মসনদ দখলের লড়াইকে কেন্দ্র করে ধীরে ধীরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিচ্ছে বাংলা। তবে এমন পরিস্থিতিতে আরও একবার দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিল বামেরা। বলা ভালো, আরও একবার নির্লজ্জতার প্রমাণ দিল তারা।
কী ঘটনা এবার? শুক্রবার দুবাই এয়ার শো চলার সময়ে ভেঙে পড়ে ভারতীয় বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান তেজস। ঘটনা জানাজানি হতেই চরম চাঞ্চল্য ছড়ায় জাতীয় রাজনীতিতে। স্বাভাবিকভাবেই, এটি একটি বড় ধাক্কা কেন্দ্র সরকারের কাছে।
অনেকে সমাজমাধ্যম থেকে এই বিষয়টি নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করেছেন। তবে এখানেই শেষ নয়, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলেও এর আঁচ পড়েছে। একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে, গোটা দেশের নজর এখন রয়েছে এই বিষয়টির উপর। কেন বা কীভাবে এমনটা হল? এই প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে চারিদিকে।

এরই মাঝে নিন্দনীয় কাজ করে বসেন শত্রুদেশ পাকিস্তানের এক সাংবাদিক। বলা ভালো, রীতিমতো পৈশাচিক উল্লাস করেন সেই সাংবাদিক। সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে যেখানে দেখা যাচ্ছে সেই পাক সাংবাদিক দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে হাসতে হাসতে বলছেন, “হাম শহীদ হোনে সে বাচ গায়ে”। এখানেই থেমে যাননি, এরপর তাঁকে “শুকরিয়া আল্লাহ” বলে উল্লাস করতে দেখা যায়। বিষয়টি জনসম্মুখে আসতেই তীব্র নিন্দা করেছেন ভারতীয় নেটিজেনরা। সকলেই বেশ ক্ষুব্ধ হয়েছেন শত্রুদেশের এমন আচরণ দেখে।
আরও পড়ুনঃ হালকা শীত, শিলিগুড়িতে পালটে গিয়েছে ছবি, ব্ল্যাঙ্কেটের বাজারে ধুনকরদের রুজিতে টান
এই আবহাওয়ায় নিন্দনীয় কাজ করে বসলেন বামেদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শরিক দল আরএসপির এক নেতা। শিলিগুড়ির সেই আরএসপি নেতা তাপস গোস্বামী ফেসবুকে এই ঘটনা নিয়ে একটি পোস্ট করেন, যাতে লেখা, “তেজসের যত তেজ দুর্ঘটনায় শেষ। ৫৬ ইঞ্চির কি রইলো অবশেষে।” শুধু দেশের প্রধানমন্ত্রীকেই তিনি নক্কারজনকভাবে আক্রমণ করেননি। বরং দেশবাসীর সেন্টিমেন্টেও যে আঘাত করেছেন তিনি, তা না বললেও চলে। যদিও এমন পোস্টের জন্য তিনি সমর্থন তো পাননি বরং নিন্দাই কুড়িয়েছেন। কমেন্টবক্সে অধিকাংশই এর বিরোধিতা করেছেন।
এই কথাটি বরাবরই বামবিরোধীদের তরফ থেকে ধেয়ে আসে যে বামেরা ভারতবর্ষের উন্নতি চান না। শুধু তাই নয়, অনেকে আবার তাদের পাকিস্তান বা চীনের দালালেরও তকমা দিয়েছেন। এই সবকিছুর মাঝে এমন একটি পোস্ট যেন এগুলিকে সত্যি বলেই প্রমাণ করছে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে দেশের প্রতি বামেদের দায়বদ্ধতা নিয়ে। শুধু তাই নয়, এই প্রশ্নও ঘোরাফেরা করছে যে ক্ষমতায় কোনদিন এলে বামেরা আদৌ দেশের ভালোর দিকে গুরুত্ব দেবে কিনা। সবমিলিয়ে, আরও একবার লজ্জাহীনতার প্রমাণ দিল তারা। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এটাই যে এমনটা চলতে থাকলে আগামীদিনে তাদের আর কেউ পাত্তা দেবে কিনা। নির্বাচনে জয় তো দূরের কথা।









