লিখিত পরীক্ষায় প্রায় ফুল মার্কস। কারও খাতায় ৬০-এ ৬০, কারও ৫৯। তবুও ইন্টারভিউ তালিকায় নাম নেই! অথচ কম নম্বর পেয়েও অনেকে ইন্টারভিউয়ের ডাক পেয়েছেন। অগত্যা, ফের বেনিয়মের অভিযোগ। আর সেই অভিযোগেই ফের বিকাশ ভবন অভিযানে এসএসসির নতুন চাকরি-প্রার্থীরা। আপাতত করুণাময়ীতে প্রচণ্ড বিক্ষোভ চলছে। সেখান থেকেই মিছিল করে বিকাশ ভবনের দিকে এগোনোর প্রস্তুতি তাঁদের।
আরও পড়ুনঃ নজিরবিহীন! রাজভবন জুড়ে চিরুনি তল্লাশি করাবেন স্বয়ং রাজ্যপাল; সরাসরি টিভিতে সম্প্রচার
প্রার্থীদের অভিযোগ একটাই—অভিজ্ঞ শিক্ষকদের অতিরিক্ত ১০ নম্বরই তাঁদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার করছে। তাই সেই ১০ নম্বর অবিলম্বে বাতিল করার দাবি তুলেছেন তাঁরা। শুধু তাই নয়, শূন্যপদের সংখ্যা বাড়ানো ও প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর ওএমআর প্রকাশের দাবিও তুলছেন বিক্ষুব্ধরা।
মালদহ থেকে বিক্ষোভে যোগ দিতে আসা মুক্তার আহমেদ খান ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “আমি ইংরেজিতে লিখিত পরীক্ষায় ৬০-এর মধ্যে ৬০ পেয়েছি। শিক্ষাগত যোগ্যতায় পেয়েছি দশে দশ—মোট নম্বর ৭০। তবুও দেখা যাচ্ছে কাট-অফ ৭৭! অভিজ্ঞদের অতিরিক্ত ১০ নম্বর না থাকলে আমিই সুযোগ পেতাম। এই নম্বর বাতিল করতেই হবে।”
আরও পড়ুনঃ ধানমণ্ডিতে তিনটি বুলডোজার নিয়ে ঢুকে পড়েছে উন্মত্ত জনতা; সাজার রায় পড়া শুরু
প্রার্থীদের বক্তব্য, যাঁরা প্রথমবার পরীক্ষা দিচ্ছেন, তাঁদের সঙ্গে বহু বছরের অভিজ্ঞ প্রার্থীদের একই তালিকায় ফেলে ‘অতিরিক্ত নম্বর’ দেওয়া সম্পূর্ণ অন্যায়। ফলেই ‘অসাম্য’ তৈরি হয়েছে কাট-অফের হিসেবেই। তাঁদের প্রশ্ন—“৬০-এ ৬০ পেয়ে যদি সুযোগ না-ই পাওয়া যায়, তাহলে আরও কত নম্বর পেলে ইন্টারভিউ তালিকায় নাম ওঠে?”
প্রতিবাদে করুণাময়ীতে চলছে স্লোগান, ধর্না, প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ। এরপরই বিকাশ ভবনের দিকে যাত্রা করার পরিকল্পনা।
প্রার্থীদের কথায়, “লিখিত পরীক্ষায় মেধাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হোক। অভিজ্ঞতার অতিরিক্ত নম্বর দিলে নতুন প্রার্থীদের জন্য সুযোগই থাকে না।”
এসএসসি কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে প্রশ্ন উঠছে, ফুল মার্কস পেয়ে কেউ যদি ইন্টারভিউয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছতে না পারে, এই নিয়োগ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা কোথায়?









