প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে সিপিআইএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের বৈঠককে ভালো নজরে দেখছে না সিপিআইএমএল লিবারেশন। দলের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের মতে, “হুমায়ুনের সঙ্গে সেলিমের বৈঠক করা উচিত হয়নি, ঠিক হয়নি৷”
আরও পড়ুনঃ নিখোঁজ-রহস্য! শত শত লোকের খোঁজ মিলছে না রাজধানী দিল্লিতে
এমনকী, আগামিদিনে রাজ্যে তৃণমূল এবং বিজেপি বিরোধী গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ জোটের হুমায়ুন কবীরের উপস্থিতি পার্টি উপস্থিত থাকবে না বলেই মনে করেন লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক।
মঙ্গলবার সিপিআইএমএল লিবারেশনের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির বৈঠক হয়। সূত্রের দাবি, সেই বৈঠকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল-বিজেপি বিরোধী গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ জোটে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷ বুধবার দলের রাজ্য দফতরে সাংবাদিক বৈঠক করে এই বিষয়টি জানান লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য৷
তিনি বলেন, “সময়ের দাবি মেনে বাংলায় বামপন্থার পুনর্জাগরণ ঘটুক। আমাদের কাছে বড় লক্ষ্য বাংলায় যাতে বিজেপি ক্ষমতা দখল করতে না পারে। একই ভাবে বাংলায় অপশাসনের অবসান ঘটুক। বামপন্থার শক্তিবৃদ্ধি হোক। এই কারণেই বামপন্থীদের বাইরেও তৃণমূল এবং বিজেপি বিরোধী শক্তিদের সঙ্গে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন রয়েছে।”
আরও পড়ুনঃ ‘মাস্টারস্ট্রোক’ দিতে পারবেন মমতা! চন্দ্রিমা বাজেট বই খুললেই মিলবে উত্তর
কিন্তু তৃণমূল-বিজেপি বিরোধী শিবিরের তালিকায় হুমায়ুন কবীরের জনতা উন্নয়ন পার্টিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ লিবারেশন নেতৃত্ব। যে কারণে, হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে মহম্মদ সেলিমের বৈঠককে ভালো নজরে দেখছে না তারা। এই সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য বলেন, “হুমায়ুন, সেলিমের বৈঠক আমার মনে হয় সঠিক হয়নি। উচিত হয়নি। যিনি 2019 সালে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন। তৃণমূলের বিধায়ক ছিলেন। উল্টোপালটা কথা বলে যাচ্ছেন। যাঁর কোনও কথায় বাংলার মানুষের কাছে ভরসাযোগ্য নয়। তার সঙ্গে কথা বলা। তাঁর মন বোঝার তাগিদটা কেন অনুভব করলেন মহম্মদ সেলিম, আমি বুঝলাম না।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘এটা মহম্মদ সেলিমই বলতে পারবেন। তারপরেও আমি এটা দেখেছি, এটা নিয়ে প্রচুর বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। সেলিমের নিজের দলের ভিতরেও বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। এই বিভ্রান্তির কোনও প্রয়োজন ছিল না। বামপন্থীদের মধ্যে কথা হোক। আরও ভালো করে কথা হোক। অন্য পার্টির সঙ্গে কথা হোক। কংগ্রেসের সঙ্গে কথা হোক। আইএসএফের সঙ্গে কথা হোক। আজকে যে জরুরি প্রশ্নগুলো আছে, সেগুলো নিয়ে কথা হোক। শুধু দলীয় বিষয় নয়, SIR নিয়ে কথা হোক। মানুষের নিত্যদিনের সমস্যা নিয়ে কথা হোক।”
যদিও সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের বক্তব্যের দায় সম্পূর্ণতা তাঁর। নির্বাচন নিয়ে তাঁদের সঙ্গে যখন আলোচনা হবে নিশ্চয়৷ সে প্রসঙ্গ আসবে। আমি সে কথার উত্তর দিচ্ছি না।’’





