প্রথম কিস্তির ২৫ শতাংশ ডিএ এই মুহূর্তে দেওয়া সম্ভব নয়, নতুন করে শীর্ষ আদালতে আবেদন করল রাজ্য। আরও সময় চাইল রাজ্য। রাজ্যের এই আর্জিতে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদন রাজ্য উল্লেখ করেছে, আগামী ডিসেম্বর মাসের ৩১ তারিখের আগে ডিএ তারা দিতে পারছে না। এই আপিলে রাজ্য স্পষ্ট করেছে কত সংখ্যক সরকারি কর্মী রয়েছেন, কতজন পেনশনরত কর্মচারী রয়েছেন। যাঁদের নিয়োগ ২০১৬ সালের আগে, তাঁদের সার্ভিস বুক খুঁজে বার করতে অনেকটা সময় লাগবে।
আরও পড়ুনঃ আপনি চাইলেই হবে না রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার বুক! LPG Cylinder সরবরাহ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা
রাজ্য আবেদনে উল্লেখ করেছে, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যবর্তী সময়ের বকেয়া ডিএ পাওয়ার জন্য বর্তমানে কর্মরত মোট ৩,১৭,৯৫৪ জন কর্মচারী রয়েছেন।
রাজ্য স্পষ্ট করেছে যে, অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের সম্পূর্ণ ডেটাবেস তাদের কাছে নেই, এই সমস্ত তথ্য কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (C&AG)-এর দফতরে সংরক্ষিত আছে।
AICPI (সর্বভারতীয় উপভোক্তা মূল্য সূচক) অনুযায়ী ডিএ নির্ধারণের বিষয়টি কর্মরত এবং অবসরপ্রাপ্ত—উভয় পক্ষের জন্যই প্রযোজ্য। তবে একটি প্রযুক্তিগত সমস্যা হল, ডিজিট্যাল পদ্ধতিতে বেতনের রেকর্ড শুধুমাত্র ২০১৬ সাল থেকে উপলব্ধ। এর আগের সমস্ত হিসাবের জন্য হাতে লেখা ‘সার্ভিস বুক’ (Service Book) পরীক্ষা করতে হবে, যা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ।
আরও পড়ুনঃ নেপালের নির্বাচনে Gen Z সুনামি; কুর্সিতে তরুণ ব্রিগেডের নেতা বলেন্দ্র
বকেয়া মেটানোর ক্ষেত্রে দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে বলে জানানো হয়েছে। রাজ্য বাজেটে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের সুযোগ আছে কি না, সেটা উল্লেখ রয়েছে। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। এই কম সময়ের মধ্যে এই কাজ অসম্ভব বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ফেব্রুয়ারি মাসের ৬ তারিখই সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দেয় রাজ্যকে ২৫ শতাংশ ডিএ দিতে হবে এরিয়ার সমেত। আর বাকি ৭৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ মেটাতে হবে ৩১ মার্চের মধ্যে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরও সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আন্দোলনকারীরা সংশয়ে ছিলেন, আদৌ এরপরও রাজ্য সরকার ডিএ মেটাবে কিনা। তাঁরা একটি স্মারকলিপিও জমা দেন। যদিও সে স্মারকলিপি নবান্নে গিয়ে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও, তা দিতে পারেননি। পরে পুলিশের হাত দিয়েই সেই স্মারকলিপি পাঠানো হয় নবান্নে। তার মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে সময় চেয়ে নতুন করে আবেদন রাজ্যের।









