spot_img
Monday, 2 March, 2026
2 March
spot_img
Homeআন্তর্জাতিক নিউজMayor of Newyork: ঐতিহাসিক অধ্যায়! কোরানে হাত দিয়ে শপথ নিলেন ডেমোক্র্যাট নেতা...

Mayor of Newyork: ঐতিহাসিক অধ্যায়! কোরানে হাত দিয়ে শপথ নিলেন ডেমোক্র্যাট নেতা জোহরান মামদানি

মামদানিকে শপথবাক্য পাঠ করান নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

হাকিকুল ইসলাম খোকন, নিউইয়র্ক সিটিঃ

আমেরিকার নিউইয়র্কে সৃষ্টি হল এক নতুন ঐতিহাসিক অধ্যায়। ভারতীয় বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট নেতা জোহরান মামদানি নিউইয়র্ক সিটির নতুন মেয়র  হিসেবে শপথ নিলেন। তিনি এই শহরের প্রথম মুসলিম মেয়র। শপথগ্রহণের সময় কোরান শরিফে হাত রেখে শপথ নেন মামদানি।

আরও পড়ুনঃ ‘তোমাদের চৈতন্য হউক’, বাজি ফাটিয়ে বর্ষবরণ করেছে আপামর বঙ্গবাসী; দিল্লির সঙ্গে দূষণে টেক্কা দিচ্ছে কলকাতা! এবার সামলান

ম্যানহাটনের ওল্ড সিটি হল স্টেশনে এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠান হয়। শতাব্দীপ্রাচীন খিলান ও স্থাপত্যের জন্য পরিচিত এই স্টেশনেই নিউইয়র্কের ইতিহাসে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় রচিত হল। মামদানিকে শপথবাক্য পাঠ করান নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস। পাশে ছিলেন মামদানির স্ত্রী রামা দুয়াজি, যিনি কোরানটি ধরে রাখেন। শপথ নেওয়ার পর মামদানি বলেন, “এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান এবং সৌভাগ্যের মুহূর্ত।”

৩৪ বছর বয়সে নিউইয়র্কের মেয়র হওয়া মামদানি শুধু প্রথম মুসলিম নন – তিনি শহরের প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র, প্রথম আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া মেয়র এবং কয়েক প্রজন্মের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সি মেয়রও।

উগান্ডার কাম্পালায় ১৯৯১ সালে জন্ম মামদানির। তাঁর মা খ্যাতনামা চলচ্চিত্র পরিচালক মীরা নায়ার এবং বাবা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজচিন্তক মাহমুদ মামদানি। সাত বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে নিউইয়র্কে আসেন তিনি। ৯/১১ (9/11 Attack) পরবর্তী সময়ে বেড়ে ওঠা নিউইয়র্কে মুসলিম পরিচয় নিয়ে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতাই তাঁর রাজনীতির দর্শনে গভীর প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করেন অনেকে।

আরও পড়ুনঃ আজ তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবস; ক্ষমতার পথে জোড়াফুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা

২০১৮ সালে মার্কিন নাগরিকত্ব পান মামদানি। তার পর ডেমোক্র্যাটিক পার্টির একাধিক প্রচারে কাজ করেন। ২০২০ সালে কুইন্সের একটি এলাকা থেকে স্টেট অ্যাসেম্বলির সদস্য নির্বাচিত হন।

মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তাঁর নির্বাচনী প্রচারের মূল বিষয় ছিল ‘অ্যাফোর্ডেবিলিটি’ – অর্থাৎ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ কমানো। তাঁর প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে – বিনামূল্যে শিশু পরিচর্যা, ফ্রি বাস পরিষেবা, প্রায় ১০ লক্ষ পরিবারের জন্য ভাড়া বৃদ্ধি স্থগিত রাখা এবং শহর পরিচালিত মুদি দোকানের পরীক্ষামূলক প্রকল্প।

তবে প্রশাসনিক বাস্তবতা সহজ নয়। শহরের আবর্জনা ব্যবস্থাপনা, বরফ পরিষ্কার, ইঁদুরের সমস্যার মতো দৈনন্দিন প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি সাবওয়ে পরিষেবা বা রাস্তার গর্তের দায়ও এসে পড়বে তাঁর কাঁধে।

কোভিড পরবর্তী সময়ে নিউ ইয়র্ক ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ালেও মূল্যবৃদ্ধি ও বাড়তি ভাড়া এখনও বড় সমস্যা। সেই সঙ্গে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রাজনৈতিক টানাপোড়েনও মামদানির মেয়াদে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে ফেডারেল অনুদান বন্ধ বা ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের মতো পদক্ষেপ নিতে পারেন।

সব মিলিয়ে, নিউ ইয়র্কের মেয়র হিসেবে জোহরান মামদানির পথচলা শুধু প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক দিক থেকেও বিশেষ নজরে থাকবে গোটা বিশ্বের।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন