কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
এবার বিশ্বের আঙিনায় পাহাড়ের ঐতিহ্য ! হেরিটেজ টয়ট্রেনকে প্রচারের আলোয় তুলে ধরতে ইতিহাসে প্রথমবার বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পর্যটন মেলায় অংশ নিল দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে ।
দিল্লিতে ‘সাউথ এশিয়া ট্র্যাভেল অ্যান্ড টুরিজম এক্সচেঞ্জ’-এ হাজির দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে ৷ ‘সার্ক’-ভুক্ত দেশগুলির পর্যটকদের টানতেই কর্পোরেট ধাঁচে এই উদ্যোগ ডিএইচআর-এর ৷ বুধবার এই মেলায় তারা তুলে ধরেছে টয়ট্রেনের বিভিন্ন সাধারণ পরিষেবা, জয় রাইড ও চার্টার্ড পরিষেবার সম্ভার ৷ ডিএইচআরের এই উদ্যোগে খুশির হাওয়া পর্যটন মহলে ৷
আরও পড়ুনঃ রণক্ষেত্র শিলিগুড়ি! অন্তঃসত্ত্বাকে ‘মার’ সিভিকের, মৃত্যু গর্ভস্থের
গত কয়েক মাসে একের পর এক নানা নতুন আকর্ষণীয় পরিষেবা চালু করেছে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ । শুধু তাই নয়, পরিষেবার সঙ্গে পাহাড়ের বিভিন্ন জনজাতি, চা বাগানে শ্রমিকদের খাওয়া-দাওয়া, লোক-সংস্কৃতির মেলবন্ধনও ঘটানো হয়েছে । যেমন পূর্ণিমার রাতে টয়ট্রেনে চেপে চা পাতা তোলার দৃশ্য দেখার মতো পরিষেবা । যার নাম কোচবিহারের মহারানির গ্রেট এসকেপ । আবার থাকছে ঘন জঙ্গল, পাইন বনের ভিতর দিয়ে জঙ্গল ট্রেইল সাফারি । বাতাসিয়া লুপে চালু হয়েছে ‘জয় রাইড’।
এখানেই থেমে না-থেকে এখন থেকে বিয়ে, অন্নপ্রাশনের মতো একাধিক অনুষ্ঠানের জন্য ‘চার্টার্ড’ পরিষেবাও চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে ডিএইচআর । আর এসবকে প্রোমোট করাই লক্ষ্য রেল কর্তৃপক্ষের । তিনদিনের ওই পর্যটন মেলায় ডিএইচআর-এর নতুন পরিষেবাগুলিকেই প্রচারে রাখা হচ্ছে ।
ডিএইচআরের অধিকর্তা ঋষভ চৌধুরী বলেন, “এ বার দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের লক্ষ্য সার্ক গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির পর্যটকদেরও টয়ট্রেনের আকর্ষণে শৈল শহরে এনে হাজির করানো ।” আন্তর্জাতিক স্তরে এমন মেলায় টয়ট্রেন পরিষেবার প্রচার দরকার বলে সংস্থাকে পরামর্শ দিয়েছিল উত্তরবঙ্গের পর্যটন ব্যবসায়ীদের অন্যতম সংগঠন ‘হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড টুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক’। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সম্রাট সান্যাল বলেন, “যত ব্যবসায়িক মঞ্চগুলিতে টয়ট্রেন হাজির হবে, তত বেশি গ্রাহক দার্জিলিংয়ের টয়ট্রেনে হাজির হবেন ।”
আরও পড়ুনঃ এক ঘণ্টার মধ্যে ২ বার কাঁপল উত্তরবঙ্গ, বারবার কেন এত কম্পন?
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘সার্ক’ গোষ্ঠীর দেশগুলির মধ্যে বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান থেকে অল্প সংখ্যায় পর্যটক আসেন দার্জিলিংয়ে । তাঁরা ছাড়াও, আফগানিস্তান, মলদ্বীপ, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কার পর্যটকদের কাছে বিভিন্ন পরিষেবা তুলে ধরবে ডিএইচআর ।
1999 সালে ইউনেস্কো থেকে ঐতিহ্যবাহী টয়ট্রেন পরিষেবার (সাংস্কৃতিক) খেতাব পায় ডিএইচআর । কর্তৃপক্ষের দাবি, গত এক বছরে স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং ব্যবসায়ীদের ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে টয়ট্রেনের নতুন নতুন পরিষেবা চালু হয়েছে । সেগুলি ক্রমাগত জনপ্রিয়ও হচ্ছে ।









