সোমেন দত্ত, কোচবিহারঃ
দিনভর নেশায় ডুবে থাকত দিনহাটার ‘নরমাংস খাদক’ ফিরদৌস আলম। ভবঘুরেকে খুনের পর দেহ বাড়িতে আনতে দেখেছিল পরিবারের সদস্যরা। কলতলায় লাশ ধুতে দেখে আঁতকে উঠেছিল তাঁরা। এরপরই ফিরদৌসকে রিহ্যাবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রকাশ্যে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রাথমিকভাবে অভিযুক্তের মানসিক ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও পুলিশের দাবি, সেরকম কোনও সমস্যা নেই তার।
আরও পড়ুনঃ বাঙালির এই প্রিয় পানীয় দিয়েই শরীরে ঢুকছে ‘বাদুড়ে-নিপা’, সতর্ক থাকতে বলল প্রশাসন; চালু হেল্পলাইন
সম্প্রতি কোচবিহারের দিনহাটায় শ্মশান সংলগ্ন মাঠে ভবঘুরের মুন্ডহীন দেহ উদ্ধার হয়। তদন্তে নেমে ফিরদৌস আলমের কথা জানতে পারে পুলিশ। সূত্র মারফত পাওয়া খবরে চক্ষুচড়কগাছ দশা হয় পুলিশকর্তাদের। তাঁরা জানতে পারেন, দিন কয়েক আগেই নাকি বাড়ির কলতলায় বসে ভবঘুরের লাশ জলে ঘুয়ে পরিষ্কার করছিল ফিরদৌস। এরপরই তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। উঠে আসে হাড়হিম করা তথ্য। পুলিশের দাবি, খুনের কথা স্বীকার করে নিয়েছে ফিরদৌস। কিন্তু আদৌ নরমাংস সে খেয়েছিল কি না স্পষ্ট নয়।
জানা গিয়েছে, বরাবরই নেশায় ডুবে থাকত ফিরদৌস। একাধিকবার রিহ্যাবে পাঠানো হয়েছে তাকে। ফিরে এসেও নিজেকে পালটায়নি সে। এলাকায় মারধর, অশান্তিতেও বহুবার নাম জড়িয়েছে তার। কিন্তু ফিরদৌস যে এতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে তা ভাবতে পারেনি পরিবারের সদস্যরা। সম্প্রতি একদিন তাঁরা দেখেন, বাড়ির কলতলায় বসে আছে সে। ফিরদৌসকে মৃতদেহ ধুতে দেখে আঁতকে ওঠেন তারা। যদিও মাংস খেতে তারা দেখেনি। এরপর পরিবার-প্রতিবেশীদের সামনে কী করবে বুঝতে না পেরে দেহ নিয়ে বেরিয়ে যায় যুবক। তখনই তাকে রিহ্যাবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার। পরবর্তীতে প্রকাশ্যে আসে গোটা বিষয়টা।
দিনহাটা মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ধিমান মিত্র সাংবাদিক বৈঠক করে এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন। জানা গেছে, গত ১০ জানুয়ারি দিনহাটার সীমান্তবর্তী এলাকা কুড়শা হাটের একটি প্রত্যন্ত শ্মশান থেকে এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ওই ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ। কিন্তু মৃতদেহ পরীক্ষা করে যে তথ্য মেলে তা সহজে মেনে নেওয়ার মতো নয়।
আরও পড়ুনঃ সাতসকালে জোড়া বিপত্তি শহর কলকাতায়! মেট্রো থেমে গেল সুড়ঙ্গে আর তপসিয়ায় উল্টে গেল সরকারি বাস
দিনহাটা মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ধিমান মিত্র জানান, “এটি একটি অত্যন্ত নৃশংস ঘটনা। শ্মশান এলাকায় একটি মৃতদেহ পাওয়া গেছে বলে খবর আসার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় দেহের গলা ও ঘাড়ে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আশপাশে কোনও সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি। পরে জানা যায়, নিহত ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন।”
তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত জেরায় স্বীকার করেছে খুনের কথা। তবে কোনও ব্যক্তিগত শত্রুতা বা লাভের উদ্দেশ্য ছিল না। সে শুধু খুনের জন্যই খুন করেছে। শুধুমাত্র উদ্দেশ্য ছিল তা থেকে মাংস খাওয়া। এটি বিরলের থেকেও বিরলতম ঘটনা বলে মনে করছে পুলিশ।
বর্তমানে অভিযুক্তকে চার দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর দিনহাটার মতো শান্ত এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও এমন পাশবিক মানসিকতার প্রকাশ সমাজকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে – সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে কোচবিহার জুড়ে।









