পশ্চিমবঙ্গের বাম রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে যে কয়েকজন তরুণ মুখ আলোচনায় উঠে এসেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম Dipsita Dhar। ছাত্র-যুব আন্দোলনের মাটি থেকে উঠে আসা এই নেত্রী বর্তমানে Communist Party of India (Marxist)-এর সক্রিয় কর্মী এবং গত লোকসভা নির্বাচনে শ্রীরামপুর কেন্দ্র থেকে দলের প্রার্থী হিসেবে লড়াই করেন।
আরও পড়ুনঃ প্রতিকূলের (প্রতীক-উর) দলবদল পূর্বপরিকল্পিত চিত্রনাট্য নাকি সময়ের দাবি!
দীপ্সিতা ছাত্রজীবন থেকেই বামপন্থী আদর্শে বিশ্বাসী। শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দাবিতে একাধিক কর্মসূচিতে তাঁকে সামনের সারিতে দেখা গেছে। বিশেষ করে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং নারী নিরাপত্তার প্রশ্নে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট ও উচ্চকণ্ঠ।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে শ্রীরামপুরে প্রচারের সময় তিনি শিল্পাঞ্চলের শ্রমজীবী মানুষের সমস্যা, মূল্যবৃদ্ধি এবং বেকারত্বের প্রশ্নকে সামনে আনেন। যদিও তিনি জয়ী হননি, রাজনৈতিক মহলের মতে তরুণ ভোটারদের মধ্যে তাঁর প্রচার উল্লেখযোগ্য সাড়া ফেলেছিল।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, বাম রাজনীতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে তিনি সামাজিক মাধ্যম ও সরাসরি জনসংযোগ—দুই ক্ষেত্রেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
দীপ্সিতা ধর ধারাবাহিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষতা, সামাজিক ন্যায় এবং রাষ্ট্রায়ত্ত শিক্ষাব্যবস্থা রক্ষার পক্ষে বক্তব্য রেখেছেন। জাতীয় শিক্ষানীতি, শ্রম আইন পরিবর্তন এবং নারী অধিকারের প্রশ্নে তিনি প্রকাশ্যে মতামত দিয়েছেন। তাঁর মতে, “বিকল্প রাজনীতি গড়তে হলে সংগঠিত গণআন্দোলনের কোনও বিকল্প নেই।”
আরও পড়ুনঃ ‘প্রতীক’ হারাচ্ছে প্রাক্তন শাসক! টিউশন টিচারের পরামর্শে চলছেন প্রতীক উর
রাজ্যে বামফ্রন্টের শক্তি কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনার কৌশল নিয়েছে সিপিআই(এম)। সেই প্রক্রিয়ায় দীপ্সিতা ধরকে ভবিষ্যতের মুখ হিসেবে দেখছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক। তবে বাম শিবিরের অভ্যন্তরীণ মতানৈক্য ও সাম্প্রতিক কিছু পদত্যাগ ইস্যু দলকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
রাজপথের আন্দোলন থেকে নির্বাচনী রাজনীতির ময়দান—দীপ্সিতা ধরের রাজনৈতিক যাত্রা এখনও বিকাশের পথে। পশ্চিমবঙ্গের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাঁর মতো তরুণ নেত্রীদের ভূমিকা আগামী দিনে বাম রাজনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।









