পদত্যাগ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। বিকেলেই সরকার গড়বে বিএনপি। এই আবহেই ফের বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন। তিনি তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ইউনুসকে আপদ বলে উল্লেখ করেছেন। নিজের পোস্টে তসলিমা লেখেন, “ফাইনালি! ইউনুস নামের আপদ বিদেয় হচ্ছেন।”
আরও পড়ুনঃ ‘আমি জগদম্বা, জগদ্ধাত্রীরূপে তোমার পূজা নেবো’; কঠিন পুজো, অত টাকা কোথায়!
তসলিমা লেখেন ইউনূসের ইচ্ছে ছিল বাকি জীবনটা উপদেষ্টা হিসেবেই কাটিয়ে দিতে। এরপর তিনি আরও একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, ক্ষমতায় বসে ইউনুস ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন, বিপুল অঙ্কের ঋণ মওকুফ করিয়েছেন, এমনকি আত্মীয়দের সরকারি চাকরিতে বসিয়েছেন। এছাড়াও, জঙ্গি ও জামাতপন্থী শক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর অভিযোগও তোলেন তসলিমা।
তসলিমা অভিযোগ করেছেন, ইউনুস নিজের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংকের কর কমিয়ে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে বিপজ্জনক করে তুলেছেন। তার অভিযোগ, সরকারের সময়কালে জঙ্গিদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং ভিন্নমতাবলম্বী লেখক-সাংবাদিকদের জেলে পাঠানো হয়েছে। পোস্টের শেষদিকে তিনি দাবি করেন, ইউনুসের আমলে দেশ নাকি ভয়াবহ অস্থিরতার মধ্যে পড়েছিল, যদিও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা সফল হয়নি।

এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। একাংশ তসলিমার বক্তব্যকে সমর্থন করে বলছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে সরব এবং তার মন্তব্য ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ থেকে এসেছে। অন্যদিকে, অনেকেই তার বক্তব্যকে ‘অতিরঞ্জিত’ এবং ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে সমালোচনা করছেন।
আরও পড়ুনঃ টিআরপি তুঙ্গে বামেদের! প্রতীক–উরে প্রতিকূল
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউনুসের পদত্যাগ নিজেই একটি বড় রাজনৈতিক ঘটনা। তার ওপর এমন সময় তসলিমার এই মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। বিশেষ করে যখন নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে, তখন এই ধরনের মন্তব্য রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করতে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত ইউনুস বা তার ঘনিষ্ঠ মহল থেকে তসলিমার এই অভিযোগগুলির বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি। রাজনৈতিক মহলও অপেক্ষা করছে, নতুন সরকার গঠনের পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা দেখার জন্য। সব মিলিয়ে, ইউনুসের পদত্যাগের ঘটনাকে ঘিরে যখন বাংলাদেশের রাজনীতি নতুন অধ্যায়ের দিকে এগোচ্ছে, তখন তসলিমার এই মন্তব্য সেই পরিবর্তনের আবহে নতুন করে উত্তেজনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।









