spot_img
Saturday, 7 February, 2026
7 February
spot_img
HomeকলকাতাSwami Vivekananda: ডেথ সার্টিফিকেটহীন এক মহাপ্রয়াণ; বাঙালি কি আজও বিবেকানন্দকে চিনেছে?

Swami Vivekananda: ডেথ সার্টিফিকেটহীন এক মহাপ্রয়াণ; বাঙালি কি আজও বিবেকানন্দকে চিনেছে?

আজও কি আমরা সত্যি তাঁকে চিনেছি, নাকি কেবল ক্যালেন্ডারের পাতায় তাঁকে বন্দি করে রেখেছি?

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

স্বামী বিবেকানন্দকে আমরা আজ ‘বিশ্ববরেণ্য’ বলি, তাঁর মূর্তিতে মালা দিই, কিন্তু তাঁর সমকালীন সমাজ তাঁকে কতটা দগ্ধ করেছিল, সেই ইতিহাস অত্যন্ত বেদনার।

বাঙালি জাতি হিসেবে আমরা বরাবরই আবেগপ্রবণ, কিন্তু অদ্ভুতভাবে আমাদের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের তাঁদের জীবদ্দশায় চিনতে আমরা বারবার ভুল করেছি। স্বামী বিবেকানন্দ আজ বিশ্বজয়ী বীর সন্ন্যাসী, কিন্তু তাঁর নিজের শহরের মানুষ তাঁকে যে লাঞ্ছনা, অপমান আর অবহেলার বিষ দিয়েছিল, তা আধুনিক ভারতের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়।

আরও পড়ুনঃ মা কালী ছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর শক্তির উৎস স্থান! দেশত্যাগ করার পূর্বে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের মায়ের পায়ের ফুল নিয়ে গিয়েছিলেন

“মা, আমি আজ বাইরে এক বন্ধুর বাড়িতে খেয়ে এসেছি, তোমরা খেয়ে নাও।”

পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দিতে নিজে উপোস করে নরেন্দ্রনাথ এই মিথ্যাটি প্রায়ই বলতেন।

বিবেকানন্দের সন্ন্যাস জীবন এক সময় ব্যতীত হয়েছিল চরম দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে।

তাঁর পিতা বিশ্বনাথ দত্তের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবার কার্যত রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছিল। এমন দিন গেছে যখন তরুণ নরেন্দ্রনাথ তাঁর মা ও ভাইবোনদের জন্য খাবার জোটাতে না পেরে নিজে উপোস করেছেন।

সন্ন্যাস জীবনেও দিনের পর দিন না খেয়ে কাটিয়েছেন তিনি। বাঙালির ঘরের ছেলে যখন ক্ষুধার জ্বালায় বনের মধ্যে অচৈতন্য হয়ে পড়ে থাকতেন, তখন আমাদের তথাকথিত ‘ভদ্রসমাজ’ তাঁর কোনো খোঁজ রাখেনি।

নিজের দেশের লোকেরাই আমার পথে সবচেয়ে বেশি কাঁটা ছড়িয়েছে। বিদেশের মাটিতে আমি যেটুকু সম্মান পেয়েছি, তার এক শতাংশও আমার নিজের দেশের লোকেরা আমাকে দেয়নি।

স্বামীজির চিঠিপত্র থেকে সংগৃহীত হয়েছে ওনার মনের কষ্টের কথা গুলো।

এছাড়াও বিবেকানন্দ ছিলেন কায়স্থ। সেই সময়কার গোঁড়া রক্ষণশীল সমাজ এবং কিছু তথাকথিত ব্রাহ্মণ পণ্ডিত দাবি করেছিলেন যে, শাস্ত্র মতে কায়স্থদের সন্ন্যাস নেওয়ার অধিকার নেই। শিকাগো জয় করে ফেরার পর যেখানে তাঁকে রাজকীয় সম্মান দেওয়ার কথা, সেখানে তাঁকে মন্দিরে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে, তাঁর আহার ও বেশভূষা নিয়ে কুকথা বলা হয়েছে। দক্ষিণেশ্বরে শ্রীরামকৃষ্ণের প্রিয়তম শিষ্য হয়েও তাঁকে সহ্য করতে হয়েছে জাতপাতের কুৎসিত আক্রমণ।

তিনি বলে ছিলেন, “আমাদের ধর্ম এখন কেবল ভাতের হাঁড়িতে সীমাবদ্ধ। আমরা এখন আর ‘বেদান্তবাদী’ নই, আমরা হয়েছি ‘ছূৎমার্গী’। আমাকে সন্ন্যাসী বলে মানতে যাদের আপত্তি, তাদের বলব , মানুষের সেবা করাই আমার আসল সন্ন্যাস।

আরও পড়ুনঃ স্বর্গারোহণ করলেন খাতড়ার “ভারত সেবাশ্রম সংঘের” প্রধান মহারাজ অরুনানন্দজী

বিবেকানন্দ যখন বিদেশে হিন্দুধর্মের বিজয়পতাকা ওড়াচ্ছেন, তখন একদল ঈর্ষাকাতর বাঙালি এবং কিছু মিশনারি তাঁর চারিত্রিক হননে মেতে উঠেছিল। তাঁর মাংস খাওয়া বা বিদেশের চালচলন নিয়ে সে সময়কার পত্রিকায় নোংরা বিদ্রূপ করা হতো। এমনকি তাঁর গুরুভাইদের কাছেও তাঁর নামে মিথ্যা রটানো হয়েছিল। বিবেকানন্দ আক্ষেপ করে বলেছিলেন ,  “নিজের দেশের লোকেরাই আমার পথে সবচেয়ে বেশি কাঁটা ছড়িয়েছে।”

স্বামীজির শেষ জীবন ছিল অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। বহুমূত্র , হাঁপানি এবং অনিদ্রায় তিনি জীর্ণ হয়ে পড়েছিলেন। মাত্র ৩৯ বছর বয়সে তাঁর শরীর ভেঙে পড়েছিল কঠোর পরিশ্রম আর পুষ্টির অভাবে। আজকের দিনে ভাবলে অবাক লাগে, যে মানুষটি জাতির পুনরুত্থানের জন্য নিজের রক্ত জল করলেন, তাঁর সুচিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো বা আর্থিক স্বচ্ছলতা সে সময় গড়ে ওঠেনি। একরকম বিনা চিকিৎসাতেই ধুঁকে ধুঁকে অকালমৃত্যুর দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।

১৯০২ সালের ৪ জুলাই যখন তিনি মহাসমাধি নিলেন, তখনো প্রশাসনের বা সমাজের বড় অংশের মধ্যে সেই তৎপরতা দেখা যায়নি। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, ভারতের এই শ্রেষ্ঠ সন্তানের মৃত্যুর পর কোনো বিধিবদ্ধ ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়নি। কোনো কোনো ইতিহাসবিদের মতে, ব্রিটিশ প্রশাসন এবং তৎকালীন মিউনিসিপ্যাল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাই এর জন্য দায়ী। যে মানুষটি সারা বিশ্বকে ভারতের আধ্যাত্মিকতার সার্টিফিকেট দিলেন, তাঁর নিজের মৃত্যু সংবাদটি নথিবদ্ধ করার প্রয়োজনটুকুও সেদিনের সমাজ মনে করেনি।

বাঙালি বিবেকানন্দকে পেয়েছিল, কিন্তু তাঁর ‘বিবেক’কে ধারণ করতে পারেনি। তিনি যখন বেঁচেছিলেন, তখন আমরা তাঁকে ‘উন্মাদ’ বা ‘ম্লেচ্ছ’ বলে দূরে ঠেলেছি। আজ তাঁর ছবির সামনে ধূপ জ্বালি সত্য, কিন্তু তাঁর সেই একাকিত্ব, ক্ষুধা আর অপমানিত হওয়ার ইতিহাসকে আমরা সযত্নে এড়িয়ে যাই।

ঈশ্বর আমাদের মধ্যে রক্তমাংসের মানুষ হয়ে এসেছিলেন, কিন্তু বাঙালি জাতি তাঁকে কদর করতে শেখেনি। আজও কি আমরা সত্যি তাঁকে চিনেছি, নাকি কেবল ক্যালেন্ডারের পাতায় তাঁকে বন্দি করে রেখেছি?

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন