বৃহস্পতিবার বেলায় মিলল মন খারাপের খবর। ভারতীয় টেলিভিশন সাংবাদিকতার এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান। প্রয়াত দূরদর্শনের প্রবীণ সংবাদপাঠিকা সরলা মহেশ্বরী । সরলা মহেশ্বরী ৭১ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর প্রয়াণের খবরে শোকস্তব্ধ সংবাদমাধ্যম ও দর্শকমহল।
আরও পড়ুনঃ একযোগে একাধিক নেতার ইস্তফা; ঘাশফুল শিবিরে ভাঙনের সুর
দূরদর্শন ন্যাশনাল সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বিবৃতিতে তাঁকে জানায় আন্তরিক শ্রদ্ধা। সেখানে উল্লেখ করা হয়, কোমল অথচ আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠস্বর, নিখুঁত উচ্চারণ এবং সংযত উপস্থাপনা সরলা মহেশ্বরীকে আলাদা মর্যাদা এনে দিয়েছিল। পর্দায় তাঁর উপস্থিতি মানেই ছিল আস্থা ও স্থিরতা। দর্শকের সঙ্গে এক নীরব কিন্তু গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন তিনি— যেখানে খবর শুধু তথ্য নয়, দায়িত্ববোধের প্রতীক হয়ে উঠত।
প্রবীণ সংবাদপাঠক এবং তাঁর প্রাক্তন সহকর্মী শাম্মি নারাংও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, সরলা ছিলেন সৌজন্য ও মর্যাদার প্রতিমূর্তি। শুধু বাহ্যিক ব্যক্তিত্বেই নয়, ভাষাজ্ঞান ও বিষয়বস্তুর উপর অসাধারণ দখল তাঁকে আলাদা উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিল। দূরদর্শনের পর্দায় তাঁর উপস্থিতির ছিল এক বিশেষ আভা, যা আজও দর্শকের মনে অম্লান।
অল ইন্ডিয়া মহিলা কংগ্রেসও তাঁর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করে একে “টেলিভিশন সাংবাদিকতার সোনালি যুগের সমাপ্তি” বলে অভিহিত করেছে। তাঁদের মতে, তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা, শালীনতা এবং পেশাদারিত্ব আগামী প্রজন্মের সংবাদকর্মীদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
আরও পড়ুনঃ উত্তপ্ত বাংলাদেশ, দুই শিবিরের ধস্তাধস্তি! খুলনায় নিহত বিএনপি নেতা
দূরদর্শনের সেই সময়টিতে, যখন সংবাদপাঠ মানেই ছিল নিখুঁত উচ্চারণ, সংযমী ভঙ্গি এবং দায়িত্বশীল উপস্থাপনা, সরলা মহেশ্বরী ছিলেন অন্যতম পরিচিত মুখ। তাঁর কণ্ঠস্বর বহু গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঘটনার সাক্ষী। সংবাদপাঠের মধ্য দিয়ে তিনি শুধু খবর পৌঁছে দেননি, বরং গড়ে তুলেছিলেন এক বিশ্বাসযোগ্য সাংবাদিকতার ধারা।
আজ বিকেল ৪টেয় দিল্লির নিগম বোধ ঘাটে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। কর্মজীবনের দীর্ঘ অধ্যায়ে তিনি যে সম্মান ও ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন, তা-ই তাঁকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে। তাঁর প্রয়াণে সংবাদজগতে যে শূন্যতা তৈরি হল, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।







