কালিয়াচকে এলাকায় ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে ঘিরে এবার বড় পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। বিচারক ও নির্বাচনকর্মীদের নিরাপত্তা প্রশ্নে যখন উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছিল, তখনই বিষয়টির তদন্তভার তুলে দেওয়া হল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)-র হাতে। কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহল থেকে প্রশাসনিক স্তর সব জায়গাতেই শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।
ঘটনাটি ঘটে মালদহ জেলার কালিয়াচকের বিডিও অফিসে। সেখানে বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বা SIR-এর কাজ চলছিল। এই প্রক্রিয়ার আওতায় ভোটার তালিকা খতিয়ে দেখা চলছিল এবং সেই কাজে যুক্ত ছিলেন একাধিক বিচারবিভাগীয় আধিকারিক। অভিযোগ, হঠাৎ করেই একদল দুষ্কৃতী সেখানে জড়ো হয়ে ওই অফিস ঘেরাও করে ফেলে এবং বিচারকদের কার্যত আটকে রাখা হয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং শারীরিক হেনস্থার অভিযোগও সামনে আসে।
আরও পড়ুনঃ হরির লুট একেই বলে! মদ কিনতে হুড়োহুড়ি
এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন শুরু থেকেই কঠোর অবস্থান নেয়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট বার্তা দেন নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কোনও আধিকারিকের উপর হামলা বা হেনস্থা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি জানান, দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, তার জন্য সব রকম ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এর মধ্যেই বিষয়টি পৌঁছে যায় সুপ্রিম কোর্টে। বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তা নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করে শীর্ষ আদালত। শুনানির সময় আদালত নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেয়, এই ঘটনার তদন্ত একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংস্থার হাতে তুলে দিতে হবে। সেই নির্দেশ মেনেই কমিশন NIA-কে তদন্তভার দেয়। পাশাপাশি, বিকল্প হিসেবে CBI-র কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত NIA-ই দায়িত্ব পাচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই NIA-র ডিরেক্টর জেনারেলকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। সেখানে বিস্তারিত তদন্তের অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং বলা হয়েছে, প্রাথমিক রিপোর্ট সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে জমা দিতে হবে। আদালতের নির্দেশ মেনে দ্রুত তদন্ত শুরু করার জন্য NIA-র একটি বিশেষ দল শুক্রবারই পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ দু চারটে ইন্দ্রপতন হতেই পারে; কমিশনের লাভ কী হল!
এই ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও কম নয়। বিরোধীরা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, অন্যদিকে শাসকদল এই ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন বলে দাবি করছে। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে বিশেষ করে যখন নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বিচারক ও আধিকারিকরাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তারা খুব শিগগিরই সুপ্রিম কোর্টে একটি কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দেবে, যেখানে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া পদক্ষেপগুলির বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে। কমিশনের মতে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে হলে নির্বাচনী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।



