রাজনৈতিক অঙ্গনে বামপন্থি আন্দোলনের তরুণ নেতাদের কেন্দ্র করেই আবারো প্রাধান্য পাচ্ছে Srijan Bhattacharya-এর নাম, যিনি শুরুর দিকে Students’ Federation of India (SFI)-র সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নতুন দায়িত্ব নেন। এ বছরের জুনে কেরলের একটি সম্মেলনে তিনি এই শীর্ষ স্থানে নির্বাচিত হন, যেখানে SFI-র নয়া সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি অবস্থান নেন।
আরও পড়ুনঃ প্রতিকূলের (প্রতীক-উর) দলবদল পূর্বপরিকল্পিত চিত্রনাট্য নাকি সময়ের দাবি!
সৃজনের মতো তরুণ নেতৃত্বকে সামনে রেখে Communist Party of India (Marxist) (CPIM) পশ্চিমবঙ্গে স্বকীয় পুনরুজ্জীবনের চেষ্টা চালাচ্ছে। এই গঠনে বাম শিবিরে যুব নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা একটি মুখ্য অঙ্গ বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দেখছেন।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে বামপন্থার অন্দরে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে অচলায়তনের এবং ব্যক্তিগত মতানৈক্যের কারণে উত্তেজনার ছাপ। CPIM-এর যুব নেতা প্রতীক উর রহমানের রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণার পর এখন জল্পনা উঠেছে যে সৃজন ভট্টাচার্যও কি একই পথে এগোতে পারেন। প্রতীক উর তথাকথিত অভ্যন্তরীণ মতানৈক্য ও দলীয় নীতি সম্পর্কিত অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং দলের বিরুদ্ধে খোলামেলা প্রশ্ন তুলেছেন, যা CPIM-এর অন্দরে অস্থিরতা তৈরি করেছে।
একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক জানিয়েছেন, প্রতীক-সৃজনের মতো নেতাদের ঘোর মতামত ও সম্ভাব্য দলত্যাগের গুঞ্জন বাম শিবিরের ইমেজ-এ একটা স্বল্প-সত্য সার্কুলেশনের কেন্দ্র হতে পারে, বিশেষ করে আগামী পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ২০২৬-এর আগে।
পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থার প্রভাব দীর্ঘ কয়েক দশকে কমে এসেছে। সাম্প্রতিক রাজনীতি-সূত্রে দেখা যাচ্ছে, রাজ্যে CPIM-সহ বামফ্রন্টের শক্তি রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রতিনিধিত্বে উল্লেখযোগ্য ভাবে হ্রাস পেয়েছে, এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সিপিএম সদস্যরা সংসদেও না থাকার দিকেও এগোচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে নতুন-তরুণ নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেয়ার উদ্যোগ CPIM-র পুনর্জাগরণের অংশ হিসেবে ধরা হলেও, অভ্যন্তরীণ মতানৈক্য ও নেতৃত্বের সিদ্ধান্তে বিভক্তি বাম শিবিরের জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে। সমালোচকেরা মনে করেন, এই অস্থিরতার মধ্যেই BJC (বামজোট-কমিউনিস্ট)-এর ঐক্য ও আদর্শিক স্থিতিশীলতা হারানোর ভয় বাড়ছে।
আরও পরুনঃ ঘুরে গেল রাজ্যের রাজনীতির বাইনারি! BJP-র স্ক্রিন টাইম শূন্য, TRP-তে শুধুই CPM-TMC
সৃজনের মতো নেতা নতুন প্রজন্মকে বাম আন্দোলনের সাথে জোড়া দেওয়ার চেষ্টা করছেন, বিশেষ করে ছাত্র এবং যুব ভোটারদের মধ্যে সংগঠিত কর্মসূচি ও গণআন্দোলন হতে পারে। তবে প্রবল রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) এবং কেন্দ্রীয় দলগুলোর সঙ্গে বাড়ছে, যা বাম শিবিরকে দুর্বল অবস্থায় রেখে দিয়েছে। আলাদা রাজনৈতিক দর্শন ও মতভেদ CPIM-এর সামনে নতুন সংকটও তৈরি করেছে, যেখানে তাদের আদর্শ, নীতি ও কার্যক্রম পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন বলে মনে করছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
সৃজন ভট্টাচার্য একজন তরুণ বাম নেতা হিসেবে CPIM/SFI-কে নতুন প্রজন্মের কাছে উপস্থাপন করছেন, কিন্তু দলের অভ্যন্তরে মতানৈক্য ও নেতাদের সম্ভাব্য পদত্যাগের গুঞ্জন মাঝে মাঝে বাম শিবিরে নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করছে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বামবাদী রাজনৈতিক আন্দোলন ভবিষ্যতে কি জায়গা পাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।









