আমাদের সমস্ত সংগ্রামে জয় আসে মাতৃকার নামে। তাই মাতৃকার নামে একাকার হয়ে থাকে আমাদের জয়ধ্বনি। আমাদের হৃদয়ে তাই তিনি কখনও জয়দুর্গা, কখনও জয়া, কখনও জয়কালী, কখনও জয়চণ্ডী।
আরও পড়ুনঃ দু’জনের মধ্যে কথাবার্তা! এই প্রশ্ন করুন আজই, আরও মাখোমাখো হবে সম্পর্ক!
রায়নগরের রাজা দুর্গাদাস রায়ের সেনাধ্যক্ষ ছিলেন নীলকন্ঠ মতিলাল। তাঁর বংশের কুলদেবীই মা জয়চণ্ডী।
বাংলায় বারোভূঁইয়াদের উত্থানকালে অতুল শৌর্য্য বীর্য্যের অধিকারী নীলকন্ঠ মতিলাল ছিলেন দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার রায়নগরের স্থানীয় ভূস্বামী। ষোড়শ শতকে তাঁর বাসভবনে দুর্গাপূজা করতেন তিনি। মগ ফিরিঙ্গিদের দমন করার জন্য তাঁর ছিল চার চারহাজার সৈন্য, রণহস্তি এবং চারটি রণপোত। ১৫৯৫ সালের প্রলয়ঙ্কর বন্যা এবং তৎপরবর্তী ভয়ঙ্কর মড়কে রায়নগর একপ্রকার মৃত নগরীতে পরিণত হয়। মতিলালরাও পরিবার নিয়ে যশোরে চলে যান। সপ্তদশ শতকের শেষে যশোরের বিক্রমপুর থেকে নীলকন্ঠের উত্তরপুরুষ গুণানন্দ মতিলাল গঙ্গাসাগরে পুণ্যস্নানের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে ভাগীরথীপথে জয়নগরে আসেন। এখানে রাজার গঙ্গা ঘাটে নৌকায় রাত্রিযাপনকালে দেবী জয়চণ্ডীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে বনমধ্যে বকুলগাছের নিচে থেকে শিলাময়ী দেবী জয়চণ্ডীকে তুলে প্রতিষ্ঠা করেন এবং দেবীর কৃপায় হৃতনগরী পুনরুদ্ধার করেন।
আরও পড়ুনঃ ধর্ম কি মানুষের প্রাথমিক প্রয়োজন! নাকি রাজনৈতিক আফিম?
মা জয়চণ্ডী দ্বিভুজা। বরাভয়া।.সৌম্য ভাবের অপূর্ব প্রকাশ তাঁর বিগ্রহ। পদ্মের উপর রাঙা চরণ রেখে হাসিমুখে তিনি দাঁড়িয়ে আছেন।
তাঁর মধুর বিগ্রহ দেখে মনে পড়ে সদুক্তিকর্ণামৃতের এক অজ্ঞাত কবির সেই তারাস্তোত্রের মাতৃবন্দনা:
তুমিই গৌরী, তুমিই গিরিনন্দিনী, তুমিই মঙ্গলচণ্ডী। তুমিই মনসা। তুমিই সমস্ত জ্ঞানমার্গের জননী। হৃদয়ের গভীর অন্ধকারে তুমিই বিদ্যুতের মতো প্রকাশিতা। হে বিশ্বজননী! তোমায় মন, বাক্য ও কর্ম দিয়ে প্রণাম করি।









