বিশেষ জাতীয় প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি:
শনিবার ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) আন্দোলন ঘিরে রাজধানী দিল্লিতে উদ্ভূত নজিরবিহীন পরিস্থিতি এবং লাগাতার পুলিশি ধরপাকড়ের জল গালড়াল দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। আদালতের স্বাভাবিক ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও এই সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলার জরুরি শুনানির জন্য রবিবার এক বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের আগের নির্দেশ ও গাইডলাইন অমান্য করে রাজধানীতে গণ-গ্রেপ্তার ও জনজীবন স্তব্ধ করার মতো পদক্ষেপ নেওয়ার অভিযোগ তুলে যে মামলা দায়ের হয়েছে, তার শুনানি আজ রবিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ দিল্লির গণগ্রেপ্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ জাতিসংঘের
বিশেষ বেঞ্চ ও মামলার মূল বিষয়বস্তু
সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে জানা গেছে, এই বিশেষ মামলার শুনানির জন্য গঠিত হয়েছে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনা-র বিশেষ বেঞ্চ।
-
আদালত অবমাননার অভিযোগ: আইনজীবী শৈলেন্দ্র মনি ত্রিপাঠী-র করা একটি বিশেষ মামলায় অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীর্ষ আদালতের নির্দেশিকা লঙ্ঘন করে নির্বিচারে আটক ও দমনপীড়ন চালানো হয়েছে। এই মামলায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন, দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার ও দিল্লি মেট্রো কর্পোরেশনের চেয়ারপার্সন ডি থারাকে বিবাদী করা হয়েছে।
-
হেবিয়্যাস কর্পাস আবেদন: আদালত অবমাননার মামলা ছাড়াও একটি হেবিয়্যাস কর্পাস (Habeas Corpus) আবেদনের শুনানি হচ্ছে এই বিশেষ বেঞ্চে। শনিবার আন্দোলনকারীদের আটকের ঘটনায় এই আবেদন করেছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ তথা বিশিষ্ট আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী। একাধিক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সহ বিরোধী নেতা-নেত্রীদের এভাবে আটকের ঘটনাকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ক্ষেত্রে আগে থেকে এ ধরনের প্রতিরোধমূলক আটক (Preventive Detention) আইনসম্মত নয়।
-
পরিবহন বন্ধ রাখার অভিযোগ: এর আগে শুক্রবার সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির দায়ের করা মামলায় সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, গণপরিবহন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা যাবে না। তা সত্ত্বেও মেট্রো স্টেশন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা স্তব্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ এনেই মূলত এই আদালত অবমাননার মামলা দায়ের হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘দিল্লির আঁচে উত্তাল মুম্বই, বেআইনি জমায়েতের অভিযোগে আটক অভিনেতা ইমরান খান
নজর এখন শীর্ষ আদালতের দিকে
শনিবার দিনভর চারজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতা, ছাত্রনেতা, আইনজীবী ও সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারের পর আন্তর্জাতিক মহল তথা রাষ্ট্রসংঘের উদ্বেগের মধ্যেই রবিবারের এই বিশেষ আদালতের শুনানি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও আইনি মহল। ছুটির দিনে সুপ্রিম কোর্টের এই সক্রিয়তা প্রশাসনের অতিরিক্ত কড়াকড়ি ও গণ-গ্রেপ্তারের পদক্ষেপে কতটা আইনি লাগাম পরাতে পারে, এখন সেটাই দেখার।


