তেলের বাজারে সংকট, গ্যাসের দাম লাগামছাড়া, বিদ্যুৎবিহীন শহরনগর– ইরানযুদ্ধের নানা কুফল নানা দিকে ফলছে। কিন্তু এই সর্বনাশের দিন দেখতে হবে বলেই বোধ হয় সকলে অপেক্ষায় ছিল। এবার চূড়ান্ত সর্বনাশ। এবার বন্ধ হতে বসেছে ইন্টারনেট। কেননা সমুদ্রের তলায় পাতা কেবল সংযোগ অচিরেই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে!
আরও পড়ুনঃ আশঙ্কা আগেই ছিল, সত্যিই তাই হল; দাম বাড়ল পেট্রোলের
নয়-নয় করে তৃতীয় সপ্তাহে পড়ল ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ। পরিস্থিতি আয়ত্তের মধ্যে নেই বলেই মনে হচ্ছে নানা পক্ষের। কেননা, হরমুজ প্রণালীতে আশঙ্কার মেঘ এখনও কাটেনি। বিশ্বের একাধিক দেশে পেট্রোলিয়াম-সংকট তৈরি হচ্ছে। ইরান নাকি হরমুজ প্রণালীতে জলের তলায় মাইন রেখে দিয়েছে! তাই যদি হয়, তাতে বিস্ফোরণের আশঙ্কা থাকছে, এবং সেই আশঙ্কা ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতির জেরে ইন্টারনেট দুনিয়ায় বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালীতে সমুদ্রের তলা দিয়ে গিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনেট কেবল। যুদ্ধের দ্বিতীয় পর্যায়ে সেই ইন্টারনেট লাইন কি বন্ধ করে দিতে পারে তেহরান? তাই যদি ঘটে, তবে সেক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ ডেটার সমূহ ক্ষতি হতে পারে। জানা গিয়েছে, সমুদ্রের তলা দিয়ে কয়েক হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে ফাইবার-অপটিক কেবল।
ভিডিয়ো কল থেকে ই-মেইল, এআই পরিষেবা থেকে ব্যাংকের তথ্য়ের মতো ডেটা রয়েছে এই লাইনে। এই কেবলের মাধ্যমেই ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার মধ্য়ে ইন্টারনেট ট্রাফিকের সংযোগ স্থাপন হয়। ডেটা সেন্টার, ডিজিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ক্ষেত্রে এই কেবল অত্যন্ত জরুরি। ভারতের সঙ্গে অন্যান্য দেশের তথ্য-সংযোগের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাজন, মাইক্রোসফটের মতো সংস্থা কোটি কোটি ডলার খরচ করে সৌদি আরব ও আরব আমিরশাহিতে ডেটা সেন্টার তৈরি করেছে। ওই অঞ্চলকে আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্সের সেন্টার তৈরি করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ধেয়ে আসছে ‘সে’! বিরল প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে ভারত
কিন্তু সেসব লহমায় বিনষ্ট হতে পারে। কেননা, আপাতত যা পরিস্থিতি, তাতে ওই সব কেবল মেরামতির কোনও উপায় থাকছে না। সমুদ্রের তলায় গিয়ে কাজ করা এমনিতেই ঝুঁকিপূর্ণ। সেই ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। যদি মাইন বিস্ফোরণ ঘটে তবে ঘটতে পারে বড় মাপের দুর্ঘটনা, নষ্ট হতে পারে কেবল। যার প্রভাব পড়বে বিশ্বের ইন্টারনেট দুনিয়ায়!




