২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হতেই ভাঙড়ের রাজনীতিতে সবথেকে বড় রদবদল। দীর্ঘদিনের মান-অভিমান আর দলের অন্দরে কোণঠাসা হওয়ার পর অবশেষে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা করলেন ভাঙড়ের একদা ‘বেতাজ বাদশা’ আরাবুল ইসলাম। সোমবার সকালেই তিনি জানিয়ে দিলেন, ঘাসফুল শিবিরের সঙ্গে তাঁর আর কোনও সংশ্রব নেই।
আরও পড়ুনঃ ভোট বঙ্গে রাতারাতি বদলে গেল প্রশাসনের খোলনলচে
‘দল চিনল না!’ ক্ষোভে ফেটে পড়লেন আরাবুল
দলের জন্য নিজের ত্যাগের কথা মনে করিয়ে দিয়ে আরাবুল ইসলাম বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন সিঙ্গুরে ২৬ দিন অনশন করেছিলেন, আমি ভাঙড় থেকে লোক নিয়ে সেখানে ঠায় বসে থাকতাম। নন্দীগ্রাম আন্দোলনে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে ২১ বার গিয়েছি। কত লড়াই করেছি এই দলের জন্য। অথচ সেই দলই আজ আরাবুল ইসলামকে চিনতে পারল না।” তৃণমূলের অন্দরে শওকত মোল্লার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের ‘অম্ল-মধুর’ সম্পর্ক এবং বারেবারে দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার যন্ত্রণা তাঁর গলায় স্পষ্ট। তিনি আরও যোগ করেন, “পাঁচবার কেস খেয়েছি, তিনবার বহিষ্কৃত হয়েছি। অনেক হয়েছে, আর নয়। মনের দুঃখে তৃণমূল থেকে পদত্যাগ করছি।”
গন্তব্য কি ফুরফুরা শরিফ? নওশাদের দলে যোগ নিয়ে জল্পনা
আরাবুলের দলত্যাগের পরেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, তাঁর পরবর্তী গন্তব্য কোথায়? তৃণমূল ছাড়ার কথা বললেও তিনি কোন দলে যোগ দিচ্ছেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখেছেন। তবে তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন নিজেই। আরাবুল জানিয়েছেন, তিনি ফুরফুরা শরিফে পীরজাদাদের আশীর্বাদ নিতে যাবেন এবং আগামী দু-একদিনের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন।
এদিকে ভাঙড়ের বর্তমান বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর দল আইএসএফ (ISF)-এ আরাবুলের যোগ দেওয়ার জল্পনা তুঙ্গে। যদিও অতীতে নওশাদ ও আরাবুলের আদায়-কাঁচকলায় সম্পর্কের কথা মাথায় রেখে অনেকেই এই সমীকরণ নিয়ে সন্দিহান। তবে রাজনীতির ময়দানে ‘অসম্ভব’ বলে কিছু হয় না, এই আপ্তবাক্য মেনেই নতুন সমীকরণের অপেক্ষা করছে ভাঙড়।
আরও পড়ুনঃ বড় প্ল্যাটফর্ম তৈরি! আজই বামেদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ
ভাঙড়ের ভোটে কী প্রভাব পড়বে?
আরাবুলের মতো প্রভাবশালী নেতার দলত্যাগে ভাঙড় তৃণমূলের বড়সড় ক্ষতি হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দলের অন্দরে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই কি এবার সরাসরি রাজপথে দেখা যাবে? আরাবুলের অনুগামীরা যদি দলবদল করেন, তবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংকে ধস নামতে পারে।
ভোটের আগে ভাঙড়ের ‘দাপুটে’ নেতা শিবির বদল করলে এলাকা ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা করছে প্রশাসন। “আমি ফুরফুরা শরিফে যাব। তারপর সব জানাব। দুই-একদিনের মধ্যেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।” সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেছেন আরাবুল ইসলাম।







