spot_img
Thursday, 15 January, 2026
15 January
spot_img
Homeআন্তর্জাতিক নিউজBangladesh Unrest: বাংলাদেশের কর্মীঠাসা একাধিক মিডিয়া অফিসে আগুন কট্টরপন্থীদের, ঢাকায় 'প্রথম আলো'...

Bangladesh Unrest: বাংলাদেশের কর্মীঠাসা একাধিক মিডিয়া অফিসে আগুন কট্টরপন্থীদের, ঢাকায় ‘প্রথম আলো’ দপ্তরে হামলা; প্রচুর প্রাণহানির আশঙ্কা!

সংবাদমাধ্যমের অফিসে একের পর এক হামলা, তারপর অগ্নিসংযোগ—আর সেই আগুনের মধ্যেই আটকে পড়েছেন কর্মীরা। তাণ্ডব থামার কোনও লক্ষণ নেই।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

ফের ভয়াবহ অস্থিরতার ছবি বাংলাদেশে। সংবাদমাধ্যমের অফিসে একের পর এক হামলা, তারপর অগ্নিসংযোগ—আর সেই আগুনের মধ্যেই আটকে পড়েছেন কর্মীরা। তাণ্ডব থামার কোনও লক্ষণ নেই। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা। অনেকেই বলছেন, এটাই আজকের “আধুনিক বাংলাদেশ”, নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনুস–এর যুগের বাংলাদেশ, যেখানে সংবাদমাধ্যমও রেহাই পাচ্ছে না হিংসার হাত থেকে।

আরও পড়ুনঃ জ্বলছে গোটা বাংলাদেশ! রাস্তায় সেনা, উদ্বেগজনক পরিস্থিতি; ওসমানের মৃত্যুতে মুখ খুললেন ইউনূস

ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদি–র মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই বৃহস্পতিবার রাত থেকে উত্তাল হয়ে ওঠে ঢাকাসহ বাংলাদেশের একাধিক অঞ্চল। অভিযোগ, এই মৃত্যুকে ঘিরেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে কট্টরপন্থী বিক্ষোভকারীরা। তারই জেরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় অবস্থিত বাংলা দৈনিক দৈনিক প্রথম আলো এবং ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার–এর অফিসে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে যখন সংবাদপত্র অফিসগুলিতে কাজের ব্যস্ততা তুঙ্গে—কারণ ভোরে বাড়ি বাড়ি কাগজ পৌঁছনোর প্রস্তুতি চলছে—ঠিক সেই সময়ই বিক্ষোভকারীরা মিছিল করে প্রথম আলো ভবনের দিকে এগিয়ে আসে। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। লাঠিসোঁটা নিয়ে ভবনে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। অফিসের আসবাব, কাচ, কম্পিউটার, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সবই তছনছ করে দেওয়া হয়। এরপর ভবনের সামনে ও ভিতরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

সবচেয়ে আতঙ্কজনক বিষয়, হামলার সময় অফিসের ভিতরে বহু সাংবাদিক ও কর্মী আটকে পড়েন। আগুন, ধোঁয়া আর ভাঙচুরের মধ্যে তাঁরা কার্যত অসহায় অবস্থায় ছিলেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছন প্রতিদ্বন্দ্বী সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও। তাঁরা বিক্ষোভকারীদের বোঝানোর চেষ্টা করেন যে ভিতরে কর্মীরা আটকে রয়েছেন, প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ, তাতেও কোনও লাভ হয়নি। উত্তেজিত জনতা তাণ্ডব চালিয়েই যায়।

প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ—ওসমান হাদির মৃত্যুর ঘটনায় সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা “পক্ষপাতদুষ্ট” ছিল এবং প্রকৃত সত্য আড়াল করা হয়েছে। এই অভিযোগকে সামনে রেখেই প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের মতো প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমকে নিশানা করা হয়। যদিও সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেট-সহ দেশের বিভিন্ন অংশে একযোগে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে বলে খবর। বহু জায়গায় রাস্তা অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর এবং সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তিতে আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজধানীতে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‍্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে ইন্টারনেট পরিষেবায় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ উত্তপ্ত বাংলাদেশ, চলে গেলেন জুলাই আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ মুখ ওসমান; ফের ফুঁসে উঠল বাংলাদেশ

ওসমান হাদির মৃত্যু নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। সরকারিভাবে মৃত্যুর কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। বিরোধী ও যুব সংগঠনগুলির একাংশ এটিকে “রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের ফল” বলে দাবি করছে। অন্যদিকে প্রশাসনের বক্তব্য, পরিকল্পিতভাবে হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা করছে কিছু সংগঠিত গোষ্ঠী, যারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে চাইছে।

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশের সাংবাদিক মহল। বিভিন্ন প্রেস ক্লাব ও সাংবাদিক সংগঠনের বক্তব্য, সংবাদমাধ্যমের উপর এই ধরনের হামলা সরাসরি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর আঘাত। প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সংবাদ পরিবেশনের জন্য কোনও মিডিয়া হাউসকে লক্ষ্য করে হামলা গণতান্ত্রিক সমাজের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক বার্তা বহন করে।

আন্তর্জাতিক স্তরেও এই ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলির মতে, বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, যুব আন্দোলন এবং সংবাদমাধ্যমের উপর ক্রমবর্ধমান চাপ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। এখন প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, হিংসা থামিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের জীবন সুরক্ষিত করা। দক্ষিণ এশিয়া জুড়েই নজর রাখা হচ্ছে, এই অস্থিরতা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন