কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
শ্রেণিকক্ষে ক্লাস চলাকালীন গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআই-এর (SFI) প্রথম বর্ষের এক ছাত্রনেতা। সোমবার জলপাইগুড়ির আনন্দ চন্দ্র (AC) কলেজে এই মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। সহপাঠী ও শিক্ষকের সময়োচিত তৎপরতায় বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। আহত ও মানসিক ট্রমার শিকার ওই ছাত্রনেতার অভিযোগ, কলেজের ডানপন্থী ছাত্র সংগঠন এবিভিপি-র (ABVP) ধারাবাহিক শারীরিক নিগ্রহ ও র্যাগিং সহ্য করতে না পেরে তিনি এই চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন।
ক্লাসরুমে তাণ্ডব ও শিক্ষক-সহপাঠীদের তৎপরতা
ঘটনাসূত্রে জানা গেছে, সোমবার এসি কলেজে যথারীতি ক্লাস চলছিল। সেই সময় হঠাৎই প্রথম বর্ষের ওই ছাত্রনেতা ব্যাগ থেকে কেরোসিন তেল বের করে নিজের শরীরে ঢেলে দেন এবং লাইটার/দেশলাই জ্বালিয়ে আগুন লাগানোর চেষ্টা করেন।
-
শিক্ষকের ভূমিকা: ক্লাসে উপস্থিত অধ্যাপক গৌরবাবু এবং সহপাঠীরা দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেন। অধ্যাপক তৎক্ষণাৎ ওই ছাত্রের পকেট থেকে লাইটারটি কেড়ে নেন এবং তাঁকে শান্ত করেন।
-
পূর্বপরিকল্পিত পদক্ষেপ: পরে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, প্রতিনিয়ত মারধর ও লাঞ্ছনার শিকার হওয়ায় তিনি বাড়ি থেকেই বোতলে করে কেরোসিন ও দেশলাই নিয়ে এসেছিলেন।
অভিযোগ ও অ্যান্টি-র্যাগিং সেলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
আক্রান্ত ছাত্রনেতার দাবি, কলেজে ঢোকার মুখেই তাঁকে মারধর করা হয়। তিনি বলেন:
“এবিভিপি-র কর্মীরা নিয়মিত আমাকে নিগ্রহ করত। কলেজের অ্যান্টি-র্যাগিং কমিটিকে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। বাধ্য হয়ে আত্মরক্ষার শেষ পথ হিসেবে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই, কারণ আমি তো অন্য কাউকে মারতে পারব না।”
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত কলেজে পৌঁছায় পুলিশ। পরবর্তীতে ওই ছাত্রকে অধ্যক্ষের ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। এসএফআই-এর রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে অভিযোগ করে বলেন, “এবিভিপি ক্যাম্পাসের ভেতরে একটি নির্দিষ্ট অপরাধচক্র তৈরি করেছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর প্রতিনিয়ত মারধর চালাচ্ছ।”
আরও পড়ুনঃ অসম্ভবই কি হতে চলেছে সম্ভব? ২০২৯-এ ‘তৃণমূল-সিপিএম’ মেগা জোট!
অভিযোগ উড়িয়ে দিল এবিভিপি
তবে এসএফআই-এর তোলা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রণোদিত বলে খারিজ করে দিয়েছে এবিভিপি (ABVP)।
| পক্ষ | অবস্থান ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া |
| এসএফআই (SFI) | এবিভিপি-র ধারাবাহিক নিগ্রহ ও অ্যান্টি-র্যাগিং সেল নিষ্ক্রিয় থাকার ফলেই এই চরম পদক্ষেপ। |
| এবিভিপি (ABVP) | “ঘটনার সঙ্গে আমাদের কোনো যোগ নেই। মারধরের কথা বললেও কারও নাম বলতে পারছে না ও। কলেজের পরিবেশ ও শিক্ষার আবহ নষ্ট করতেই পরিকল্পিতভাবে এই নাটক তৈরি করা হয়েছে।” |
ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলেজ প্রাঙ্গণে চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। আনন্দ চন্দ্র কলেজ কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।


