কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
পুজোর ছুটিতে বাঙালির ডেস্টিনেশন ‘দি-পু-দা’ থেকে কি ‘দা’ ক্ষয়িষ্ণু হচ্ছে? জমিয়ে ঘোরাফেরা করা বাঙালি মুখ ফেরাচ্ছেন দার্জিলিংয়ের থেেক! পুজোর মরশুমে দার্জিলিং শহরের হোটেল ফাঁকা থাকা নিয়ে এমন লাখ টাকার প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে। কেননা পাহাড়ের বেশ কিছু অফবিট জায়গায় তুলনায় কম হলেও হোটেল, হোমস্টে বুক হলেও, দার্জিলিং শহরের একাধিক হোটেলে সেভাবে বুকিং হয়নি। পুজোর এক সপ্তাহ আগেও অর্ধেকের বেশি রুম ফাঁকা রয়েছে।
পুজো মরশুমে পাহাড়ে পা ফেলার জায়গা থাকে না। দার্জিলিংয়ের ম্যাল, চকবাজার, চিড়িয়াখানা সর্বত্রই থিকথিকে ভিড় থাকে। হোটেল ব্যবসায়ীরা বলছেন, মহালয়া থেকেই একটু একটু করে পর্যটকদের ভিড় শুরু হয়। দশমী, একাদশী থেকে প্রতিটি হোটেল পূর্ণ হয়ে যায়। এমনকি কোভিড পরিস্থিতির পরেও দার্জিলিংয়ে পুজো মরশুমে ভালো ব্যবসা হয়েছে। কিন্তু চলতি বছর ব্যবসা খুব খারাপ, বলছেন ব্যবসায়ীরা।
আরও পড়ুনঃ পুজোর আগে সময়ের অভাবে স্যালোঁয় যেতে পারছেন না? বানিয়ে নিন এই সুগার ওয়াক্স
হোটেল ফাঁকা থাকলেও, উত্তরবঙ্গে আসার ট্রেনের টিকিট বুকিং শুরু হওয়ার দিনই সব টিকিট শেষ হয়ে গিয়েছে। কনফার্ম হওয়ার আশায় ওয়েটিং থাকা অবস্থাতেও টিকিট কাটছেন অনেকে। ট্রেন ছাড়াও দক্ষিণবঙ্গ থেকে পাহাড়ে আসার অন্যতম মাধ্যম সড়কপথ। দক্ষিণের একাধিক শহর থেকে আসা ডিলাক্স, সুপারডিলাক্স বাসগুলির টিকিটের দাম বাড়ছে হুহু করে। বিমানভাড়াও বেড়েছে অনেকখানি। এই পরিসংখ্যানগুলি থেকে একটা কথা পরিষ্কার যে, পর্যটকরা উত্তরে আসতে মুখিয়ে রয়েছেন। তাহলে হোটেল, হোমস্টে ফাঁকা কেন? তাহলে কি উত্তরের পুজো পর্যটনে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বৃষ্টির ভয়? নাকি প্রতিবেশী দেশ নেপালের উত্তেজনার প্রভাব ফেলছে পর্যটকদের মনে! অনেকে আবার বলছেন, ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে একাধিকবার ভাঙন, ধসের জেরে সিকিম যাওয়ার অনিশ্চয়তার কারণেই হোটেল বুকিং করছেন না অনেকে। পর্যটন ব্যবসায়ীদের একাংশের মতে, মেপে পা ফেলতে চাইছেন পর্যটকরা। অনেকেই হয়তো শিলিগুড়িতে পা রাখার পর পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চিন্তাভাবনা করছেন। তবে উত্তর যাই হোক, পুজো মরশুমে ব্যবসায় এমন মন্দায় চিন্তার মোটা ভাঁজ পড়েছে পর্যটন ব্যবসায়ীদের কপালে।
দার্জিলিং হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য প্রদীপ খান্না বলছেন, ‘নেপালে অশান্তি, সিকিমের রাস্তায় ভোগান্তির কারণে দার্জিলিংয়ে এবার ভালো ব্যবসা আশা করেছিলাম। কিন্তু এখনও পর্যন্ত পুজো মরশুমের বুকিং নেই। তবে, দীপাবলির সময় আসবেন বলে কিছু পর্যটক খোঁজখবর করছেন।’ একই বক্তব্য শোনা গিয়েছে দার্জিলিং অ্যাসোসিয়েশন অফ ট্রাভেল এজেন্টস (ডাটা)-এর সম্পাদক প্রদীপ লামার গলায়। তাঁর কথায়, ‘দার্জিলিংয়ের অফবিট পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে এবার পুজোর ক’দিন বুকিং রয়েছে। কিন্তু শহরের হোটেলগুলিতে বুকিং নেই। গাড়িরও বুকিং সেভাবে হয়নি। শহরে পর্যটক না এলে তো সামগ্রিকভাবে সমস্ত ব্যবসাতেই প্রভাব পড়ে।’
আরও পড়ুনঃ ভূতুরে বস্তু? ঘাবড়ে গেলেন বিজ্ঞানীরা! আইনস্টাইন মোড়ে ‘নিষিদ্ধ’ আলোকবিন্দু
মহালয়ার দিন থেকেই উত্তরে পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হয়ে যায়। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণে এবছর এমন হাল বলে মেনে নিয়েছেন পর্যটন ব্যবসায়ীদের একাংশ। পর্যটন ব্যবসায়ী সম্রাট সান্যালের মতে, ‘কিছু ভুল বার্তা যাওয়ায় পর্যটকরা বিভ্রান্ত। কালিম্পং, সিকিমের রাস্তায় মাঝেমধ্যে কিছু সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু এটা নিয়ে অনেক সময় সমাজমাধ্যমে ভুল বার্তা দেওয়া হচ্ছে। অনেকেই বলে দিচ্ছেন যে, পাহাড়ে যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ। ফলে পর্যটকরাও ভাবছেন হয়তো দার্জিলিং, কালিম্পং, সিকিম কোথাও যাওয়া যাবে না।’ এটা বন্ধ করতে রাজ্য সরকারের পর্যটন দপ্তর এবং ব্যবসায়ী মহলকে পদক্ষেপ করতে হবে বলে জানান তিনি।
ইস্টার্ন হিমালয়া ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের (এতোয়া) সম্পাদক দেবাশিস চক্রবর্তী অবশ্য অন্য কথা বলেছেন। নেপালের অশান্তি সেভাবে পর্যটকদের মধ্যে প্রভাব ফেলেনি বলে তিনি মনে করছেন। তাঁর কথায়, ‘নেপালের বুকিং কিন্তু বাতিল হয়নি। আসলে আমাদের এখানে পাহাড়ের বুকিং হয় সিকিম, দার্জিলিং প্যাকেজ হিসাবে। সিকিমের রাস্তা মাঝেমধ্যেই বন্ধ থাকায় পুরো প্যাকেজটাই পর্যটকরা বাতিল করে দিচ্ছেন। ফলে দার্জিলিং, কালিম্পংয়েও তার প্রভাব পড়ছে।’







