বিশেষ প্রতিবেদন:
সৌদি আরবের তেলসমৃদ্ধ শহর দাম্মামে অবস্থিত ব্যস্ততম ‘কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’-এ হঠাৎ আছড়ে পড়ল ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী হাউথিদের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র। হামলার পরপরই বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা এবং বিমানবন্দরের একাংশে বিধ্বংসী আগুন লেগে যায়। এই মর্মান্তিক ও সন্ত্রাসী হামলায় এক ভারতীয় নাগরিকসহ মোট দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত ৮ জন, যাঁদের মধ্যে ভারত, ইয়েমেন এবং বাংলাদেশের নাগরিকরা রয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ “আগামী ৩০ বছরেও ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না কংগ্রেস”; দাবি অমিত শাহের
জরুরি পদক্ষেপ ও ভারতীয় দূতাবাসের তৎপরতা
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে এই আকস্মিক হামলা চালায় হাউথিরা। ঘটনার পরপরই চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয় এবং নিরাপত্তা বজায় রাখতে দ্রুত বিমানবন্দর চত্বর থেকে যাত্রী ও কর্মীদের খালি করে দেওয়া হয়। সুরক্ষার খাতিরে বেশ কিছুক্ষণের জন্য সমস্ত বিমান চলাচল ও অন্যান্য পরিষেবা সম্পূর্ণ স্তব্ধ থাকে।
হামলার খবর পাওয়ার পরেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রিয়াদের ভারতীয় দূতাবাস। তারা দ্রুত এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ও শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির সাথে সার্বিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। এক বার্তায় রিয়াদস্থিত ভারতীয় দূতাবাস মৃতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে। দুর্ঘটনার পরপরই দমকলের একাধিক ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উদ্ধারকারীরা আহতদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করার ব্যবস্থা করেন। তবে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
আরও পড়ুনঃ হয়নি দেবীবরণ, অন্ধকার মণ্ডপ; সিট-এর তদন্ত চলায় চোরবাগানে মায়ের বিসর্জন নিয়ে অনিশ্চয়তা
আমেরিকান কর্মীদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ ও আন্তর্জাতিক উত্তাপ
মধ্যপ্রাচ্যের এই চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার মার্কিন বিদেশ মন্ত্রকের তরফে সৌদিতে অবস্থিত তাদের দূতাবাসের অপ্রয়োজনীয় কর্মী এবং তাঁদের পরিবারকে নিরাপদ জায়গায় চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে কারণ ব্যাখ্যা করে মার্কিন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র টমি পিগট সামাজিক মাধ্যমে জানান, “ইরান-সমর্থিত হাউথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত শত্রুতা ও সামরিক তৎপরতা বাড়িয়ে চলেছে। তারা সাধারণ মানুষের জন্য ব্যবহৃত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ একাধিক স্পর্শকাতর পরিকাঠামোয় একের পর এক হামলা চালাচ্ছে, যা আমজনতার জীবন মারাত্মক বিপন্ন করে তুলেছে।”


