শুভজিৎ মিত্র,কলকাতাঃ
ব্রিটিশ শাসনের শৃঙ্খল ভেঙে ১৯৪৭ সালে যখন ভারত স্বাধীন হয়,তখন অনেক পশ্চিমী বিশ্লেষকই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে,এই বিশাল বৈচিত্র্যের দেশ বেশিদিন গণতান্ত্রিক থাকতে পারবে না।কিন্তু সব আশঙ্কা ভুল প্রমাণ করে ভারত আজ বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক শক্তি।১৯৫০ সালে,১৭ কোটির বেশি ভোটার নিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল,আজ ১০০ কোটির দোড়গোড়ায়।নিয়মিত ব্যবধানে ক্ষমতার হস্তান্তর এবং সাধারণ মানুষের ভোটদানের স্বতঃস্ফূর্ত অধিকার,এদেশের মাটিতে গণতন্ত্রের শিকড় গভীর করেছে।আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে বঙ্গবার্তা আলোকপাত করার চেষ্টা করল,ভারতের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার সাত দশকেরও বেশি সময় পার করার পর ঠিক কোথায় দাড়িয়ে আছে?
আরও পড়ুনঃ সানি দেওলের ‘গর্জন’ আরও তীব্র! বক্স অফিসে সানি-সুনামি
আম্যন্তরীণ বৈচিত্র্য রক্ষায় সাফল্য!
সাফল্যের বিচারে দেখলে,ভারতের সংসদীয় ব্যবস্থা সবথেকে বড় পরীক্ষা দিয়েছে দেশের অভ্যন্তরীণ বৈচিত্র্যকে একসূত্রে গেঁথে রাখতে।জাতি,ধর্ম,ভাষা ও বর্ণের বিপুল বৈষম্য সত্ত্বেও একটি সংবিধানের অধীনে ঐক্যবদ্ধ থাকা ভারতের গণতন্ত্রের অন্যতম বড় জয়।এছাড়াও,পঞ্চায়েতি রাজ ও পৌর ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ তৃণমূল স্তরের সাধারণ মানুষকেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় শামিল করেছে।পাশাপাশি,অধিকাংশ ক্ষেত্রে,ভারতের বিচারবিভাগের সক্রিয়তা এই গণতান্ত্রিক কাঠামোকে বারবার সুরক্ষা প্রদান করেছে।
সাফল্যের মুদ্রার উল্টো পিঠ
তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে,গণতন্ত্র কেবল ভোট উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলে না।তার প্রকৃত সার্থকতা লুকিয়ে থাকে,নাগরিকদের বাকস্বাধীনতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের মধ্যে।বর্তমান সময়ে, রাজনৈতিক মেরুকরণ,নির্বাচনী বন্ড সংক্রান্ত বিতর্ক এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ক্রমাবনতি গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর কিছুটা হলেও কালো ছায়া ফেলেছে।অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে,সংখ্যাগুরুবাদের দাপটে প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর ক্ষীণ হয়ে আসছে।একটি সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য কখনোই এটা কাম্য নয়।
আরও পড়ুনঃ নড়েচড়ে বসল প্রকাশক মহল! প্রয়াত নারায়ণ দেবনাথের হাঁদা-ভোঁদাদের নিয়ে বড় নির্দেশ হাইকোর্টের
গণতান্ত্রিক স্তম্ভগুলোতে দূর্বল্যের ছায়া
অর্থনৈতিক দিক থেকে ভারতের অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো হলেও, সম্পদ বণ্টন এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বৈষম্য রয়েছে।গণতন্ত্র সফল তখনই বলা যায়,যখন সমাজের শেষ সারিতে থাকা ব্যক্তিটির কাছেও রাষ্ট্রের পরিষেবা সমানভাবে পৌঁছায়।বিচার পাওয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং দুর্নীতির মতো সমস্যাগুলো সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভের জন্ম দেয়।এই প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে ওঠা না গেলে গণতন্ত্রের মূল স্তম্ভগুলো দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকে যায়।
আজ ৭৬ বছরের এই যাত্রাপথকে পুরোপুরি ব্যর্থ বলা যেমন অন্যায় হবে, তেমনি সবটুকু সফল বলে আত্মতুষ্টিতে ভোগারও কোনো অবকাশ নেই। আসলে,ভারতীয় গণতন্ত্র একটি চলমান প্রক্রিয়া।যা প্রতিনিয়ত ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে নিজেকে পরিশুদ্ধ করছে।জনগণের জাগ্রত চেতনা এবং সংবিধানের প্রতি আনুগত্যই পারে,ভারতের এই গণতান্ত্রিক ধারাকে আরও শক্তিশালী ও অর্থবহ করে তুলতে।ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যেতে হলে ত্রুটিগুলো সংশোধন করাই এখন সবথেকে বড় কাজ।









