বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি, কলকাতা:
মুকুন্দপুরে পার্টি অফিস দখল ও মিছিল কেন্দ্র করে শুরু হওয়া রাজনৈতিক সংঘর্ষ রাতে আরও চরম আকার ধারণ করল। ধৃত সহকর্মীদের মুক্তির দাবিতে পূর্ব যাদবপুর থানার সামনে বিক্ষোভ দেখানোর সময় আকস্মিক হামলায় রক্তাক্ত হন প্রাক্তন বিধায়ক ও সাবেক আইপিএস কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর।
উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং পুলিশি হস্তক্ষেপে থানা চত্বর দীর্ঘক্ষণ উত্তপ্ত হয়ে থাকে।
সংঘর্ষের উৎস ও ঘটনাপ্রবাহ
মঙ্গলবার বিকেলের ঘটনা থেকে শুরু করে পূর্ব যাদবপুর থানা পর্যন্ত গোলমালের পুরো চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
| স্থান ও সময় | মূল ঘটনা ও অভিযোগের বিবরণ |
| মুকুন্দপুর (বিকেল) | পার্টি অফিস দখল মুক্ত করার মিছিলে বিজেপির সাথে ধস্তাধস্তি। ভিডিও রেকর্ডিং করা নিয়ে বচসার জেরে ওড়না-পোশাক টেনে হামলার অভিযোগ তোলেন নেত্রী উপাসনা চৌধুরী। |
| পুলিশি পদক্ষেপ | পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং বেশ কয়েকজন দলীয় কর্মীকে আটক করে পূর্ব যাদবপুর থানায় নিয়ে যায়। |
| থানা চত্বর (সন্ধ্যা) | ধৃতদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিজেপির বিক্ষোভকারী কর্মীদের সঙ্গে বচসায় জড়ান হুমায়ুন কবীর। মাটিতে ফেলে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। |
আরও পড়ুনঃ ভরসন্ধ্যায় মুকুন্দপুরে উপাসনাকে ছোড়া হল ডিম, চলল লাঠিচার্জ
পাল্টাপাল্টি দাবি ও বিস্ফোরক বক্তব্য
হামলার শিকার হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভ করে ক্ষোভ উগরে দেন প্রাক্তন আইপিএস কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর।
-
হুমায়ুন কবীরের দাবি: “৫০ জন পুলিশের সামনে আমাকে টেনে-হিঁচড়ে ফেলে মারধর করা হয়েছে। বিনয়ের সঙ্গে ভেতরে যাওয়ার অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও এই হামলা চালানো হয়। ৩১ বছর পুলিশে চাকরি করেছি, এমন দৃশ্য কখনও দেখিনি।”
-
বিজেপির বক্তব্য: বিজেপির পক্ষ থেকে মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, হুমায়ুন কবীর ধাক্কাধাক্কির মধ্যে পায়ে হোঁচট খেয়ে পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়েছেন। তবে এই সংঘর্ষে তাদেরও কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দলটি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে পূর্ব যাদবপুর থানা চত্বরে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পুরো ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।


