বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে শিলিগুড়িতে জিততে না-পারার আক্ষেপ এবার শোনা গেল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়। তাই শিলিগুড়িবাসীর মন জয় করতে, সভামঞ্চ থেকে গৌতম দেবকে জয়ী করলে শহরের রাশ নিজের হাতে রাখার কথা ঘোষণা করলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড ।
সোমবার বিকেলে শিলিগুড়ির তরাই তারাপদ আদর্শ বিদ্যালয়ের ময়দানে দলীয় প্রার্থী শিলিগুড়ির প্রার্থী গৌতম দেব, মাটিগাড়া নকশালবাড়ির প্রার্থী শঙ্কর মালাকার, ফাঁসিদেওয়ার প্রার্থী রীনা এক্কা টোপোর সমর্থনে নির্বাচনী জনসভা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ।
জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শিলিগুড়ি বিদায়ী বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ, সাংসদ রাজু বিস্তাকে তীব্র আক্রমণ করেন অভিষেক । তাঁর গলায় উঠে আসে প্রবীণ সিপিএম নেতা অশোক ভট্টাচার্যর বামের ভোট রামে যাওয়ার প্রসঙ্গও । যদিও এদিন শহরবাসীর মন জয় করতে শহরের নাগরিক পরিষেবা উন্নত করা, যানজট সমস্যা সমাধান করা ও শিলিগুড়ি পুরনিগমকে ঢেলে সাজানোর মতো প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড ।
এদিন সভার শুরু থেকেই বিজেপি ও বিদায়ী বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাতে থাকেন অভিষেক । তিনি বলেন, “শিলিগুড়ির মানুষ ডাবল ইঞ্জিন সরকারের স্বাদ জানে । ২০১৪, ২০২১, ২০২৪প্রতিটি নির্বাচনে বিজেপিকে জয়ী করেছে শিলিগুড়ি । কিন্তু কোনও লাভ হয়নি । বিজেপির বিধায়ক থাকে কলকাতায় আর সাংসদ থাকেন দিল্লিতে । তাই শিলিগুড়ির বিধায়ক এমন হওয়া উচিত যাকে মানুষ সবসময় পাবেন । উত্তরবঙ্গের বন্যায় (২০২৫) শঙ্কর ঘোষ গিয়েছিলেন ত্রাণ দিতে । কিন্তু সেখানকার মানুষ তাঁকে মারতে উদ্যত হয়েছিললেন ৷ সেইসময় তিনি চোট পান বলে দাবি করেন ৷”
আরও পড়ুনঃ শীর্ষে মুর্শিদাবাদ, ৯০ লাখের বেশি নাম বাদ, বিজ্ঞপ্তি কমিশনের
এরপরই কটাক্ষের সুরে অভিষেক বলেন, “তাঁর বাঁ-হাতে চোট লাগে ৷ আর পরে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করে ব্যান্ডেজ লাগিয়েছিলেন ডান হাতে । এমন মানুষকে এবার আপনাদের জবাব দিতে হবে । আমি চ্যালেঞ্জ করছি শঙ্কর ঘোষকে, তাঁর সময়, স্থান অনুযায়ী বিতর্কে বসতে । মোদির ১২, আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৫ বছরে কী করছেন সেই রিপোর্ট কার্ড প্রকাশ করতে ৷ ১০-0 গোল দিয়ে যদি ল্যাজেগোবরে না-করতে পারি আমার নাম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নয় ।”
‘তৃণমূল সেনাপতি’ অভিষেকের কথায়, “শিলিগুড়ির ১৫ হাজার যুবক-যুবতীদের মাসে ১৫00 টাকা, আর ৬৫ হাজার মা-বোনেদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার মিলছে । পাঁচ বছরে ছ’শো কোটি টাকা খরচ করেছে । তাও শিলিগুড়ি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জেতায়নি ।”
এরপর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শহরের সামগ্রিক সমস্যার কথা তুলে ধরে বলেন, “আমি যতদূর জানতে পেরেছি শহরের মূল সমস্যা যানজটের । গৌতম দেবকে জেতান । আমরা সেই সমস্যার সমাধান করব । আপনারা শিলিগুড়ি জেতান, গৌতম দেবকে জেতান । তারপর শিলিগুড়ির রাশ আমার হাতে থাকবে । সরকার গঠনের পর পুরসভা নির্বাচনে আমরা ঢেলে সাজাব । এমন পরিষেবা দেব যে, আগামী ২০ বছরে আপনারা তৃণমূল কংগ্রেসের থেকে মুখ ফেরাবেন না ।”
এরপর অশোক ভট্টাচার্যর প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আপনারা অশোক ভট্টাচার্যকে জিতিয়েছিলেন । উনি অনেক বয়োজ্যেষ্ঠ । কিন্তু কিছুদিন আগে এক সভায় তিনি বলেছিলেন বামের ভোট যেন আর বিজেপিতে না-যায় । তৃণমূলকে শিক্ষা দিতে গিয়ে বামেরা নিজেরাই শিক্ষা পেয়ে গিয়েছে । আমরা ১০ বছর আগে যে কথা বলেছিলাম, অশোকবাবু দু’মাস আগে সেই কথা বললেন । আমাদের জব্দ করতে গিয়ে বামেরা নিজেরাই জব্দ হয়ে গিয়েছে ।”
শেষে বিজেপির বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে ভোট করানোর প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এখন বিজেপি ফোন করে টাকা বিলোচ্ছে । আমি বলছি, এই টাকা আমার-আপনার টাকা । আমাদের ন্যায্য পাওনার টাকা । সমস্ত ক্লাব কর্তৃপক্ষকেও বলছি । বিজেপি টাকা দিলে সেই টাকা নিয়ে নেবেন । পদ্মফুলের থেকে টাকা নিয়ে জোড়াফুলে ভোট দেবেন ।”



