ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন অর্থ সচিব স্কট বেসেন্ট। বুধবার সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর এই পদক্ষেপে তিনি অত্যন্ত হতাশ।
আরও পড়ুনঃ আবারও কি ঐতিহাসিক ভুলের পথে সিপিএম! নিউটাউনের হোটেলে সেলিম-হুমায়ুন গোপন বৈঠক
ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে নীতির সঙ্গে আপস করার অভিযোগ তোলেন ইউরোপের বিরুদ্ধে। বেসেন্ট ইউরোপীয় দেশগুলিকে নিয়ে বলেন, তারা একদিকে ইউক্রেনকে সহায়তা করার কথা বলছেন এবং অন্যদিকে রাশিয়ার যুদ্ধে পরোক্ষভাবে অর্থায়নের কথা বলছেন।
স্কট বেসেন্ট বলেন, ‘ইউরোপীয় দেশগুলো ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সামনের সারিতে রয়েছে। কিন্তু তারা নিজেদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অর্থায়ন করছে।’ তিনি যুক্তি দেন, ভারত রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কিনছে। তারপরে ইউরোপীয় দেশগুলি ভারত থেকে সেই তেল পরিশোধিত পণ্য হিসেবে কিনছে। বেসেন্টের মতে, এটি রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞাকে উপহাস করার মতো কাণ্ড। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ান তেল কেনার জন্য ভারতের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করার বদলে ভারতের সাথে বাণিজ্য চুক্তি করেছে ইউরোপ।
‘মাদার অব অল ডিলস’ প্রসঙ্গে বেসেন্ট বলেন, ইউরোপ ইউক্রেনের জনগণের জীবনের চেয়ে তাদের বাণিজ্যিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘মনে রাখবেন ইরোপীয়রা ব্যবসাকে ইউক্রেনের জনগণের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে’। উল্লেখ্য, প্রায় দুই দশকের আলোচনার পর সম্প্রতি ভারত-ইউরোপ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে এই বাণিজ্য চুক্তির ফলে বিনা বা কম শুল্কে বাণিজ্য হতে পারে ৯৭%-৯৯% পণ্যের।
এর ফলে ভারতের বস্ত্র, তাঁত, চামড়া, প্রক্রিয়াজাত খাবারের শিল্প লাভবান হবে। আর ইউরোপের ওয়াইন, গাড়ি, উন্নত প্রযুক্তির পণ্যের শিল্প লাভবান হবে। এদিকে বিফ, চিনি বা চালের বাজার ভারতের জন্য উন্মুক্ত করতে প্রস্তুত নয় ইউরোপ। একই ভাবে ভারতও দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের বাজারে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না ইউরোপকে। এই আবহে কৃষি এবং দুগ্ধজাত পণ্য এই চুক্তির আওতাধীন থাকবে না। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে ভারতের মোট পণ্যদ্রব্য বাণিজ্য ছিল প্রায় ১৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের। এর মধ্যে প্রায় ৭৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রফতানি এবং প্রায় ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে ভারত।









