আফগানিস্তানের তালিবান সরকার দেশে পাকিস্তান থেকে আসা সব ধরনের ওষুধের আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে। তালিবানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্দুল কাইয়ুম নাসির ৯ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) এই ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছেন যে এখন থেকে সব কাস্টমস পয়েন্টে পাকিস্তানি ওষুধের প্রবেশ বন্ধ। এই নিষেধাজ্ঞা শুধু আনুষ্ঠানিক বাণিজ্যের জন্য নয়, চোরাচালানের মাধ্যমে আসা ওষুধের ক্ষেত্রেও কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে।
চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জব্দ করা পণ্য ধ্বংস করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।এই সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে আফগানিস্তান-পাকিস্তান সম্পর্কের অবনতি। গত অক্টোবর থেকে দু’দেশের মধ্যে সীমান্তে সংঘর্ষ, হামলা এবং বন্ধের ঘটনা ঘটেছে। তালিবান নেতৃত্ব পাকিস্তানি ওষুধকে ‘নিম্নমানের’ বলে অভিযোগ করে আসছিল।
উপপ্রধানমন্ত্রী মোল্লা আব্দুল গনি বারাদার নভেম্বরে এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়ে আমদানিকারকদের তিন মাসের সময় দিয়েছিলেন পাকিস্তানের সঙ্গে লেনদেন শেষ করার জন্য। এখন সেই সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। আফগান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শরাফত জামান বলেছেন, এই পদক্ষেপ দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো এবং সরবরাহ চেইন বৈচিত্র্যময় করার অংশ।
পাকিস্তান আফগানিস্তানের ওষুধের বাজারে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী ছিল। অনুমান করা হয়, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ ওষুধ পাকিস্তান থেকে আসত। এই নিষেধাজ্ঞায় পাকিস্তানের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের জন্য বড় ধাক্কা। বছরে কয়েকশ কোটি রুপির ব্যবসা হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। এই খাত ইতিমধ্যে চাপে ছিল, এখন একটি ‘ক্যাপটিভ মার্কেট’ হারিয়ে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
পাকিস্তানের প্রভাবও কমবে, কারণ বাণিজ্যিক সম্পর্কের মাধ্যমে তারা আফগানিস্তানে প্রভাব বিস্তার করত।অন্যদিকে, এই সিদ্ধান্ত ভারতের জন্য একটি কৌশলগত সুযোগ তৈরি করেছে। আফগান ব্যবসায়ীদের পাকিস্তানকে এড়িয়ে বিকল্প রুট খোঁজার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তালিবান কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে ভারত, ইরান, চিন, মালয়েশিয়া, তুরস্ক এবং উজবেকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
আরও পড়ুনঃ ত্রিবেণীতীর্থে কুম্ভস্নান! ১১ তারিখ থেকে এবার মিনি কুম্ভ বাংলায়
ভারতীয় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোর উচ্চমানের ওষুধ, সাশ্রয়ী মূল্য এবং নির্ভরযোগ্য সরবরাহের কারণে আফগানিস্তানের বাজারে প্রবেশের সম্ভাবনা উজ্জ্বল। কয়েক মাস আগে আফগান প্রতিনিধিরা ভারতে গিয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। ভারত ইতিমধ্যে ক্যান্সারের ওষুধসহ চিকিৎসা সহায়তা পাঠিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে ভারত-আফগানিস্তানের বাণিজ্যিক ও মানবিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে।
তবে এই নিষেধাজ্ঞার ফলে আফগানিস্তানে ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। কাবুলের ফার্মেসিতে রক্তচাপ, ডায়াবেটিসের ওষুধের দাম ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। অনেক জায়গায় অভাব দেখা যাচ্ছে। তালিবান সরকার দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে সরবরাহ পূরণ করা কঠিন। আফগান জনগণের স্বাস্থ্যসেবা এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।









