খুব চুপচাপ, কোনো বড় প্রচার ছাড়াই ভারত এক মাস আগে এমন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার প্রভাব এখন ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে। যখন আমেরিকায় H-1B ভিসা কড়াকড়ি, অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো এবং ভারতীয় কর্মীদের নিয়ে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছিল, ঠিক সেই সময় ভারত ও Russia একটি অস্থায়ী শ্রম সরবরাহ চুক্তিতে পৌঁছায়। এই চুক্তির আওতায় ভারতীয় শ্রমিকদের রাশিয়ায় কাজ করার প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে, আর তার ফল চোখে পড়ার মতো।
আরও পড়ুনঃ নজরে ৫ জেলা, ২ মার্চ ঘোষণার সম্ভাবনা! ৩ দফায় বাংলায় বিধানসভা ভোট
একসময় যেখানে মাত্র কয়েক হাজার ভারতীয় শ্রমিক রাশিয়ায় কাজ করতেন, এখন সেই সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। শিল্প, শিপইয়ার্ড, প্রতিরক্ষা উৎপাদন, পৌর পরিষেবা, হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে কঠিন আবহাওয়ার অবকাঠামো প্রকল্প—প্রায় সব ক্ষেত্রেই ভারতীয় শ্রমিকদের উপস্থিতি বাড়ছে।
রাশিয়া বর্তমানে ভয়াবহ শ্রম সংকটে ভুগছে, জন্মহার কম, যুদ্ধজনিত চাপ এবং অভিবাসন নীতির কড়াকড়ির কারণে দেশটির প্রায় এক কোটির বেশি কর্মীর প্রয়োজন। এই জায়গায় ভারত হয়ে উঠেছে তাদের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস।
আরও পড়ুনঃ ভারতের ২ ন্যানোমিটার চিপ; নীরবে বদলে যাচ্ছে দেশের প্রযুক্তিগত ভবিষ্যৎ
এই চুক্তির লাভ শুধু রাশিয়ার নয়, ভারতেরও। একদিকে ভারতীয় কর্মীরা সম্মানজনক ও নিয়মিত কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন, অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স আবার দেশে ফিরছে। রাশিয়ার সঙ্গে তেল বাণিজ্যে যে রুপি জমে ছিল, সেই রুপিই এখন কার্যত রিসাইকেল হয়ে ভারতীয় শ্রমিকদের মজুরি ও রেমিট্যান্সের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে ফিরে আসছে। ফলে তেল বাণিজ্য, বৈদেশিক মুদ্রা চাপ এবং কর্মসংস্থান—তিন দিকেই ভারতের লাভ।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই পুরো পদক্ষেপটি কোনো সংঘর্ষ ছাড়াই, কূটনৈতিক শোরগোল ছাড়াই নেওয়া হয়েছে। একদিকে আমেরিকার ভিসা কড়াকড়ির ধাক্কা সামলানো, অন্যদিকে রাশিয়ার শ্রম সংকটকে সুযোগে পরিণত করা, আর তার সঙ্গে রুপি-তেল বাণিজ্যের জট খুলে ফেলা—সব মিলিয়ে এটি নিঃসন্দেহে ভারতের এক নীরব কিন্তু বহুমুখী কৌশলগত সাফল্য।









