শ্রীনগরের রাস্তায় আজ সকাল থেকে শোকের পরিবর্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইয়ের হত্যার প্রতিবাদে বের হওয়া শোক মিছিলকে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। শিয়া সম্প্রদায়ের শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিলেন কালো পতাকা, খামেনেইয়ের ছবি হাতে নিয়ে।
আরও পড়ুনঃ ইরানে মার্কিন-ইজরায়েলি হামলার নিন্দায় সরব জামাতে ইসলামি হিন্দ
কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনী বিভিন্ন জায়গায় ব্যারিকেড তৈরি করে, রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে মিছিলকে থামাতে চেয়েছিল। প্রতিবাদকারীরা বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শেষে সেনাবাহিনীকে বাধ্য হয়ে লাঠিচার্জ করতে হয় এবং শোক মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
গতকাল রাতে তেহরানে আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় খামেনেইমারা গিয়েছেন বলে ইরানের সরকারি মিডিয়া নিশ্চিত করেছে। এই খবর কাশ্মীরে পৌঁছতেই শিয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে শোকের ঢেউ ওঠে। আজ রবিবার সকালে সাইদা কাদল, লাল চৌক, সোনাওয়ারি, বান্দিপোরা এসব জায়গায় মানুষ জড়ো হতে শুরু করেন।
আরও পড়ুনঃ বন্ধ হল হরমুজ প্রণালী; ভারতের কাছে তেল আছে মাত্র ৭৪ দিনের
তারা নৌহা পড়ছিলেন, স্লোগান দিচ্ছিলেন “খামেনেই শহীদ”, “মুর্দাবাদ আমেরিকা”, “মুর্দাবাদ ইসরায়েল”। কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনী আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে ছিল। লাল চৌকের কাছে, সাইদা কাদলের রাস্তায় ব্যারিকেড, কাঁটাতারের বেড়া, ভারী সশস্ত্র জওয়ান মোতায়েন করা হয়। প্রতিবাদকারীদের বলা হয়, মিছিল করা যাবে না, জমায়েত নিষিদ্ধ।
প্রতিবাদকারীরা এতে থামেননি। তারা বলছেন, “এটা শোক প্রকাশের অধিকার, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে চলছি।” কয়েকজন যুবক ব্যারিকেড ঠেলে সরানোর চেষ্টা করেন। নিরাপত্তা বাহিনী লাঠিচার্জ করে, কয়েক রাউন্ড টিয়ার গ্যাস ছোড়ে। কিছু জায়গায় পাথর ছোড়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষে অন্তত কয়েকজন আহত হয়েছেন, যদিও আনুষ্ঠানিক সংখ্যা এখনও জানা যায়নি। মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়, কিন্তু মানুষ ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে অন্য রাস্তা দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। লাল চৌকে হাজার হাজার মানুষের ভিড় জমে, কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনীর চাপে মিছিল পুরোপুরি এগোতে পারেনি।









