শিলিগুড়ি পুরনিগম এলাকায় অবৈধ নির্মাণ কাজের ভূরি-ভূরি অভিযোগ ৷ তাই এবার কলকাতার ধাঁচে ‘মিউনিসিপ্যাল বিল্ডিং ট্রাইব্যুনাল’ তৈরি করার উদ্যোগ নিল শিলিগুড়ি পুরনিগম ৷ এ ব্যাপারে রাজ্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে পুরনিগমের তরফে ৷ জানা গিয়েছে, শিলিগুড়ি শহরে ভবন নির্মাণে হিড়িক পড়েছে গত কয়েক বছরে ৷ অভিযোগ, বাম পরিচালিত বিগত পুরবোর্ডের তুলনায়, তৃণমূল পরিচালিত বর্তমান বোর্ড প্রায় পাঁচগুণ বেশি ভবন তৈরির অনুমোদন দিয়েছে ৷
আরও পড়ুনঃ খাইরুল ইসলামের উপর হামলার অভিযোগ! কাঠগড়ায় ISF
শিলিগুড়িতে বেআইনি নির্মাণ, জবরদখল মুক্ত করতে তৎপর পুরনিগম ৷ বাড়ি, বহুতল আবাসন, মার্কেট কমপ্লেক্স, শপিংমলে প্ল্যানের বাইরে নির্মিত অবৈধ অংশ নিয়মিত ভাঙছে ৷ এর বাইরে সরকারি রাস্তা, ফুটপাত, নিকাশি নালা, নদীর চর দখলমুক্ত করতে লাগাতার অভিযান চালাচ্ছে পুরনিগম ৷
পুরনিগম সূত্রে জানা গিয়েছে, চার বছরে 283টি বেআইনি নির্মাণ ভাঙা হয়েছে ৷ এক্ষেত্রে বেআইনি নির্মাণে অভিযুক্ত কর্তৃপক্ষকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে পুরনিগমের তরফে ৷ অনেক ক্ষেত্রেই অভিযুক্তরা আদালতের দ্বারস্থও হচ্ছেন ৷ এতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে ৷ কিংবা বেআইনি নির্মাণ ভাঙার উদ্যোগ ঝুলে থাকছে ৷ তাই একটি বিল্ডিং ট্রাইব্যুনাল তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে ৷
শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব বলেন, “কলকাতা পুরনিগমে মিউনিসিপ্যাল বিল্ডিং ট্রাইব্যুনাল রয়েছে ৷ নির্মাণ সংক্রান্ত বিরোধগুলি দ্রুত সমাধান করতে সেই আদলে এখানেও ট্রাইব্যুনাল গড়তে চাই ৷ এ ব্যাপারে বোর্ডে প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে ৷ তা অনুমোদনের জন্য শীঘ্রই পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরে পাঠানো হবে ৷”
একই সঙ্গে পুরনো ভবন সংস্কারের ক্ষেত্রে ফি আদায় করতে চায় শিলিগুড়ি পুরনিগম ৷ বিষয়টি ২০২৬-২৭পুর বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে ৷ পুরনিগম সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরে বেশকিছু ভবন দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার হচ্ছে না ৷ সেগুলির ছাদ, দেওয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ছে বলে ৷ এতে পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে ৷
আরও পড়ুনঃ হেঁসেল অপরিচ্ছন্ন, পচা খাবার, চাঞ্চল্যকর ছবি শিলিগুড়িতে
তাই এবার সেই ভবনগুলি সংস্কারের জন্য ফি নেওয়া হবে বলে প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে ৷ ভবনের প্রতি বর্গফুট 20 টাকা হারে অতিরিক্ত ফি নেওয়া হবে ৷ মেয়র বলেন, “বিল্ডিংয়ের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেই এমন চার্জ আদায়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এব্যাপারেও পুরবোর্ডে প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে।”
এদিকে শহরে বিল্ডিং নির্মাণের গতি ক্রমবর্ধমান ৷ ২০১৫-১৬ থেকে ২০১৯-২০ অর্থবর্ষ পর্যন্ত পুরনিগমের দায়িত্বে ছিল বামফ্রন্ট ৷ ওই পাঁচ বছরে শহরে বিল্ডিং প্ল্যানের অনুমোদন হয়েছে ৭৭৮টি ৷ বর্তমানে পুরনিগমের দায়িত্বে তৃণমূল কংগ্রেস ৷ আর তৃণমূলের আমলে ২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ পর্যন্ত শহরে বিল্ডিং প্ল্যানের অনুমোদন হয়েছে ৩১৯২টি ৷
অর্থাৎ, তৃণমূলের শাসনকালে অনুমোদনের সংখ্যা বেড়েছে ২৪১৪টি ৷ এ বিষয়ে মেয়র বলেন, “বামফ্রন্ট পরিচালিত বিগত বোর্ডের তুলনায় বর্তমান বোর্ড বিল্ডিং ও নির্মাণে বেশি অনুমোদন দিয়েছে ৷ এছাড়া ভবন নির্মাণের প্ল্যান জমা দেওয়ার সাতদিনের মধ্যে অ্যাভিয়েশন ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ইস্যু করা হচ্ছে ৷”









