বাংলার ফুটবলে নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলার অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছে বিভিন্ন ফুটবল একাডেমি। কলকাতা ও আশপাশে যেমন মোহনবাগান একাডেমি, ইস্ট বেঙ্গল একাডেমি, সাই এর মতো পরিচিত নাম রয়েছে, তেমনই জেলাতেও দ্রুত গড়ে উঠছে ছোট-বড় অসংখ্য একাডেমি। কিন্তু এই বিস্তারের মাঝেই উঠে আসছে বড় প্রশ্ন, সব একাডেমি কি সত্যিই মানসম্মত প্রশিক্ষণ দিচ্ছে? অনেক তরুণ ফুটবলারই স্বপ্ন দেখছে বড় ক্লাবে খেলার। হাওড়ার এক কিশোর ফুটবলার সৌরভ মণ্ডল বলে, “আমি ছোট থেকে ফুটবল খেলতে ভালোবাসি। একাডেমিতে ভর্তি হওয়ার পর অনেক কিছু শিখেছি, কিন্তু সব সময় কোচদের সময় পাওয়া যায় না।” তার কথায় স্পষ্ট, পরিকাঠামো থাকলেও ব্যক্তিগত নজরদারির অভাব রয়ে যাচ্ছে অনেক জায়গায়।
আরও পড়ুনঃ রাজ্য জুড়ে ঝড়বৃষ্টি! মমতার পর অমিত শাহের বিমানও চক্কর কাটল কলকাতার আকাশে
অভিভাবকদের অভিজ্ঞতাও মিশ্র। কলকাতার এক অভিভাবক মধুমিতা দত্ত জানান, “ভর্তি নেওয়ার সময় বলা হয়েছিল নিয়মিত ম্যাচ খেলানো হবে, কিন্তু বাস্তবে সেই সুযোগ খুব কম। শুধু প্র্যাকটিস করেই তো উন্নতি সম্ভব নয়।” অনেকের অভিযোগ, উচ্চ ফি নেওয়া হলেও সেই অনুপাতে পরিষেবা মিলছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যা মূলত নিয়ন্ত্রণের অভাব। আইএফএ এর অধীনে সব একাডেমি সরাসরি নিবন্ধিত নয়, ফলে মান যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক একাডেমিতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোচ নেই, আবার কোথাও পর্যাপ্ত ফিটনেস ট্রেনিং বা স্পোর্টস সায়েন্সের ব্যবস্থাও অনুপস্থিত। তবে ইতিবাচক দিকও রয়েছে। বড় ক্লাবগুলির একাডেমিগুলিতে এখনও তুলনামূলকভাবে উন্নত প্রশিক্ষণ, নিয়মিত প্রতিযোগিতা এবং স্কাউটিংয়ের সুযোগ পাওয়া যায়। এই একাডেমিগুলি থেকে উঠে আসা অনেক ফুটবলার ইতিমধ্যেই জাতীয় স্তরে নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ রাত সাড়ে ১১টার পর ২-য় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ কমিশনের
ফলে আশা জাগছে, সঠিক দিশা পেলে বাংলার ফুটবল আবারও পুরনো গৌরব ফিরে পেতে পারে। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এখনই সময় একাডেমিগুলিকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনার। লাইসেন্সিং বাধ্যতামূলক করা, কোচদের প্রশিক্ষণ উন্নত করা এবং নিয়মিত টুর্নামেন্ট আয়োজন, এই পদক্ষেপগুলো না নিলে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।সব মিলিয়ে, বাংলার ফুটবল একাডেমিগুলির ছবি একদিকে আশাব্যঞ্জক, অন্যদিকে চিন্তারও। প্রতিভা রয়েছে, আগ্রহ রয়েছে, কিন্তু প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা ও স্বচ্ছতা। তরুণ ফুটবলার ও তাঁদের অভিভাবকদের আশা, একাডেমিগুলি যেন শুধু ব্যবসার জায়গা না হয়ে, সত্যিকারের প্রতিভা গড়ার কেন্দ্র হয়ে ওঠে।



