পাকিস্তানের নিশানায় কি এ বার কলকাতা? পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ তেমনই ইঙ্গিত দিলেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ‘‘ভারত যদি ভবিষ্যতে কোনও মিথ্যা অজুহাতে পাকিস্তানে অভিযান চালায়, তবে আমরা তা কলকাতা পর্যন্ত নিয়ে যাব।’’
আরও পড়ুনঃ বাম ইশতেহারে চমক! প্রতিটি পরিবারে একটি চাকরি, ১০০ ইউনিট ফ্রি বিদ্যুৎ সঙ্গে ‘অভয়া বাহিনী’
ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। গত বছর কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গিহানার পর দু’দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে আরও। ওই সন্ত্রাসী হামলায় হাত রয়েছে পাকিস্তানের, এমনই অভিযোগ তুলে ‘সিঁদুর অভিযান’-এর মাধ্যমে প্রত্যাঘাত করে নয়াদিল্লি। গত বছর মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চার দিন সংঘর্ষ চলে। পরে সংঘর্ষবিরতি চুক্তির মাধ্যমে সংঘাতে ইতি পড়লেও উত্তেজনা এবং সম্পর্কের টানাপড়েন অব্যাহত।
সংঘর্ষবিরতির পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ করেছে ভারত। শুধু তা-ই নয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে ভারতের বিভিন্ন মন্ত্রী বার বার সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের কথা বলেছেন। কখনও সরাসরি পাকিস্তানের নাম নিয়ে আবার কখনও পরোক্ষ ভাবে নয়াদিল্লি বুঝিয়ে দিয়েছে, ভারত আর রক্ষণাত্মক ভূমিকা নেবে না। বরং ‘ঘরে ঢুকে মারবে’। অর্থাৎ, সন্ত্রাসীদের শেষ করতে ভারত যে কোনও আন্তর্জাতিক সীমানা মানবে না, তা বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। সম্প্রতি ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহও একই সুরে হুঙ্কার দেন।
আরও পড়ুনঃ নজিরবিহীন পদক্ষেপ; স্বাধীনতার পর প্রথমবার কলকাতা পুরসভার ‘দখল’ নিল নির্বাচন কমিশন
আসিফের গলা এ বার পাল্টা হুঁশিয়ারির সুর শোনা গেল। দিন দুয়েক আগেই তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘‘ভারত যদি মনে করে তারা আমাদের দেশে ঢুকে কাউকে মারবে, তবে আমরা চুপ থাকব না। আমরাও ভারতে ঢুকে মারার ক্ষমতা রাখি।’’ সেই সাক্ষাৎকারের রেশ আবার শোনা গেল পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী তথা বিদেশমন্ত্রীর কণ্ঠে। সংবাদসংস্থা পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দাবি করেন, তাঁরা নাকি খবর পেয়েছেন ভারত নিজেদের লোক দিয়ে বা সেখানে আটকে থাকা পাকিস্তানিদের দিয়ে একটি মিথ্যা অজুহাতে অভিযানের পরিকল্পনা করছে। যদিও সেই দাবির সপক্ষে কোনও প্রমাণ দাখিল করেননি আসিফ। তবে তাঁর হুঁশিয়ারি, ভারত যদি অভিযান চালায়, তবে পাল্টা হামলার রেশ কলকাতা পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।



