মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ১৩ দিনে প্রবেশ করল। সংঘর্ষে লিপ্ত তিন দেশ। ইরান, আমেরিকা ও ইজ়রায়েল। কিন্তু, এই যুদ্ধের আঁচ পড়েছে সর্বত্র। ইরানের হরমুজ় প্রণালী বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বাণিজ্য ক্ষেত্রে একাধিক সংকট তৈরি করেছে। প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে গ্যাস। দেশজুড়ে একটা গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, উদ্বেগের কারণ নেই। দেশের অভ্যন্তরে এলপিজি উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু আতঙ্ক কাটছে না। অভিযোগ গ্যাস বুক করতে পারছেন না গ্রাহকরা। কেন্দ্র স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, একটা গ্যাস বুক করার ২৫ দিন পর আরেকটা গ্যাস বুক করতে পারবেন। কিন্তু, নিয়ম মেনেও গ্যাস বুকতে পারছেন না বলে অভিযোগ। ডিস্ট্রিবিউটারদের অফিস, গ্যাসের দোকানগুলিতে লম্বা লাইন। সিলিন্ডার নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকছেন সাধারণ মানুষ। তারই মধ্যে ব্যাপক কালোবাজারির অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে কী করবেন সাধারণ মানুষ?
গ্রাহকদের অভিযোগ, এলপিজি ডিলাররা ইচ্ছাকৃত গ্যাস ডেলিভারি দিতে দেরি করছে। তাছাড়া, অনেকসময় অতিরিক্ত টাকা চাইছেন। কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এটা অবৈধ। ইনভয়েসে নেই, এমন অতিরিক্ত চার্জ দেওয়া উচিত নয়। যদি, কোনও ডিলার অতিরিক্ত অর্থ চায়, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গ্যাস বুকিংয়ে সমস্যা হলেও অভিযোগ করতে হবে। বা গ্যাস বুকিংয়ের পর গ্যাস না এলে বা বুকিং ক্যানসেল হয়ে গেলে কোথায়, কীভাবে অভিযোগ করবেন?
অতিরিক্ত চার্জ বা বুকিং সংক্রান্ত বিষয়ে অভিযোগ জানাতে গেলে গ্যাস কোম্পানিগুলির হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করতে হবে।
আরও পড়ুনঃ “গোদের ওপর বিষফোঁড়া”! অটোর ভাড়া বাড়ল ৫ টাকা
ইন্ডেন গ্যাস (ইন্ডিয়ান অয়েল)
টোল-ফ্রি নম্বর: ১৮০০-২৩৩৩-৫৫৫ এলপিজি জরুরি হেল্পলাইন: ১৯০৬ (গ্যাস লিকেজের জন্য ২৪x৭)
গ্রাহকরা ইন্ডিয়ান অয়েল গ্র্যাভিয়েন্স পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে অভিযোগ নথিভুক্ত করতে পারেন। যেমন- রিফিল সরবরাহে দেরি হওয়া বা বাড়িতে গ্যাস সময়মতো না পৌঁছলে অভিযোগ জানানো, ক্যাশ মেমো না দেওয়া হলে বা রিফিল বুকিং বাতিল হয়ে গেলে অনলাইনে অভিযোগ জানাতে পারেন।
ভারত গ্যাস
স্মার্টলাইন: ১৮০০ ২২ ৪৩৪৪ গ্যাস লিকেজের জন্য ২৪x৭ জরুরি হেল্পলাইন হিসেবেও কাজ করে।
এইচপি গ্যাস (এইচপিসিএল)
হেল্পলাইন নম্বর: ১৮০০ ২৩৩ ৩৫৫৫ গ্রাহকরা এইচপি গ্যাস অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমেও অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।
উজ্জ্বলা যোজনা
টোল-ফ্রি নম্বর: ১৮০০-২৩৩-৩৫৫৫ হেল্পলাইন: ১৮০০-২৬৬-৬৬৯৬
গ্রাহকরা যে কোম্পানির গ্যাস ব্যবহার করেন, তাঁরা বুকিং সংক্রান্ত কোনও সমস্যার সম্মুখীন হলে টোল ফ্রি নম্বরগুলিতে যোগাযোগ করতে পারেন। নিজের সমস্যার কথা জানাতে পারেন।
আরও পড়ুনঃ সতর্কবার্তা লালবাজারের! গ্যাস নিয়ে আইনশৃঙ্খলার অবনতি যেন না হয়
কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, গৃহস্থালির জন্য ব্যবহৃত এলপিজিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। আর বাণিজ্যিক গ্যাসগুলি হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো জরুরি পরিষেবার পাঠানো হচ্ছে। কেন্দ্র জানিয়ে দিচ্ছে, রান্না ও পরিবহনে গ্যাস সরবরাহ থাকবে ১০০ শতাংশ। সার কারখানায় সরবরাহ করা হবে ৭০ শতাংশ গ্যাস। চা শিল্পে সরবরাহ করা হবে ৮০ শতাংশ গ্যাস। অন্যান্য শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহ হবে ৮০ শতাংশ।







