ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা জানালেন জামাতে ইসলামি হিন্দের সভাপতি সৈয়দ সাদাতোল্লা হোসেইনি। সাদাতোল্লা বলেন, এই হামলার জেরে পশ্চিম এশিয়া জুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়েছে।
আরও পড়ুনঃ ভারতীয় বিমানবন্দরগুলিতে জারি অ্যালার্ট; কি এমন হল?
যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক হামলা ইরানের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে বর্ণনা করেছেন বিবৃতিতে জামাতের চেয়ারম্যান। এই হামলাকে বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে বেপরোয়া পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন।
সাদাতোল্লা বলেন, এই পরিস্থিতিতে ভারতকে স্বাধীন ও নীতিগত অবস্থান গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে মুসলিম দেশগুলোর প্রতি তাঁর বার্তা, এই সংঘাত যাতে বৃহত্তর যুদ্ধে পরিণত না হয়, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করতে হবে। তিনি বলেন, ‘এই অঞ্চলটি ইতিমধ্যেই অস্থিতিশীলতা ও অনেক মানবিক দুর্দশার মুখোমুখি। এমনই এক সময়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক পদক্ষেপ করা হল। এই হামলা এই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলবে। এরই সঙ্গে সাধারণ মানুষজনের দুর্ভোগের কারণ হবে। পরমাণু কর্মসূচি বা নিরাপত্তা নিয়ে দ্বন্দ্ব ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধজাহাজের পরিবর্তে সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। তবে এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনকে দুর্বল করে এবং শান্তি বজায় রাখার জন্য দায়ী বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃত্বকে ক্ষুণ্ণ করে।’
আরও পড়ুনঃ বন্ধ হল হরমুজ প্রণালী; ভারতের কাছে তেল আছে মাত্র ৭৪ দিনের
সৈয়দ সাদাতোল্লা হোসেইনি বলেন, এই অঞ্চলে ইজরায়েলের বারবার সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। এখন তারা ইরানের ওপর সরাসরি হামলা চালাল। মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে এই সব হামলা। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সংলাপের পথে না হেঁটে সামরিক পদক্ষেপ করেছে। এর জেরে একটি বড় আকারের সংঘাত তৈরি হতে পারে। জামাতে ইসলামি হিন্দের সভাপতি উত্তেজনা প্রশমন ও সমঝোতা গড়ে তুলতে অবিলম্বে সব পক্ষের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য আবেদন জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি।
তিনি ভারত সরকারকে সমস্ত বৈশ্বিক ফোরামে সংযম, যুদ্ধবিরতি এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধার পক্ষে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে জোট নিরপেক্ষতা, সার্বভৌমত্ব এবং বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য ভারতকে মুক্ত ও নীতিগত অবস্থান গ্রহণ করার বার্তা দেন সাদাতোল্লা। জামাতের প্রধান বলেন, সামরিক চাপের পরিবর্তে ন্যায়বিচার, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৎ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি আসবে।









