দুর্গোৎসব, বিজয়ার আমেজ কাটতে না কাটতেই বঙ্গে শুরু শক্তি আরাধনা। সোমবার কালীপুজো হলেও শহরের নামী মণ্ডপগুলির প্রস্তুতির পালা শেষ। এমনকী দর্শনার্থীদের আগমনও শুরু হয়ে গিয়েছে। বারাসতে কালীপুজোর রমরমা হলেও পিছিয়ে নেই কালীক্ষেত্র কলকাতা। চলুন দেখে নেওয়া যাক এবার কোন ভাবনায় সেজেছে শহরের জনপ্রিয় পাঁচ পুজো।
বিজয়গড় ৬-এর পল্লীর এবারের ভাবনা ‘বহমান’। শিল্পী সুশোভন রায়ের ভাবনায় সেজে উঠেছে এই ক্লাবের পুজো মণ্ডপ। মাতৃ প্রতিমাতেও রয়েছে থিমের ছোঁয়া।
আরও পড়ুনঃ স্বমহিমায় ‘কেষ্ট’, ফের জেগে উঠছে ৫৭০ ভরির! বোলপুরে কেষ্টর কালী আরাধনা
সময়কে ধরে রাখা যায় না। কালের নিয়মেই তা ‘বহমান’। এই সময়ে কখনও ঘটে প্রাপ্তিযোগ আবার কখনও বিয়োগ। শুধু তাই নয়, এক এক দিন পেরিয়ে আবারও বাংলার ঘরে আসেন দেবী দুর্গা, কালের নিয়মে চারদিন পরে ফিরে যান। আবার একটা বছরের অপেক্ষা। আর এই অপেক্ষার মধ্যেই থাকে এক আনন্দ। দেবী আসছেন…। সেই ভাবনা থেকেই বিজয়গড় ৬-এর পল্লীর পুজো মণ্ডপকে সাজিয়ে তুলেছেন শিল্পী সুশোভন।
বড়িশা শান্তি সংঘের এবারের পুজোর থিম ‘পরম্পরা’। সময়ের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে বাংলা এবং বাঙালির ‘পরম্পরা’ও। হারিয়ে যাচ্ছে পাড়ার পুজোয় স্থানীয়দের আন্তরিকতা। তা মাথায় রেখেই এবারের বড়িশা শান্তি সংঘের পুজো মণ্ডপকে সাজিয়ে তুলেছেন শিল্পী মানস দাস।
শিল্পীর কথায়, শহর কিংবা গ্রামের ক্লাব এবং পাড়াগুলিতে একসময় ছিল আন্তরিকতা। কিন্তু ‘ডিজিটলাইজেশনে’র যুগে আজ সবাই ছুটছেন। আর এই ইঁদুর দৌড়ে হারিয়ে যাচ্ছে সেই চেনা পরম্পরা। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, আগামী প্রজন্মের জন্য আমরা কী রেখে যাচ্ছি? তাই ‘পরম্পরা’ মনে করিয়ে এই পুজোয় আগতদের বিজয়ার মিষ্টি মুখ করাবেন উদ্যোক্তারা।
গিরিশ পার্ক ফাইভ স্টার স্পোর্টিং ক্লাবের এবারের পুজোর থিম ‘ শাক্ত সুধা সিন্ধু’। শিল্পী দিপাঞ্জন দে-র ভাবনায় ফুটে উঠেছে মণ্ডপ। শুক্রবারেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যয়ের হাত ধরে এই পুজোর উদ্বোধন হয়।
আরও পড়ুনঃ ছোট্ট মেয়ের স্বপ্নাদেশে শুরু, চাঁদুনি মায়ের ইতিহাস শুনলে গায়ে কাঁটা দেবে
পুজোতে থিমের ছোঁয়া লাগলেও প্রতিমা কিন্তু সাবেকি। শুধু তাই নয়, এখানকার প্রতিমা দীর্ঘদেহী। প্রতিমা সজ্জায় স্বর্ণালঙ্কার ছাড়াও অপূর্বভাবে ব্যবহার করা হয়েছে শ্যামাসঙ্গীত লেখা সামগ্রী। তাতেই আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছেন শ্যামা মা।
দক্ষিণ ২৪ পরগণায় ডানলপের কাছে অন্যতম বড় পুজো হাওয়া সকাল। এবারে এই পুজোর থিম ‘খেলাঘর’। শিল্পী অনির্বাণ দাসের ভাবনায় ফুটে উঠেছে পুজো মণ্ডপ। গতবছরেও এই শিল্পীর ভাবনাতেই সেজে ছিল হাওয়া সকাল।
যাদবপুরের শ্যামা পল্লি শ্যামা সংঘও প্রস্তুত দর্শনার্থীদের জন্য। এবার তাদের থিম ‘১৯৩৪ স্বদেশে তৈরি স্বদেশের জন্য। থিংকার্স গ্রুপের ভাবনায় সেজেছে এবারের পুজো মণ্ডপ।
স্বদেশী আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল কলকাতার তৈরি সুলেখার কালির। দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে তার। ব্রিটিশ আমলে এই কালির ব্যবহারেই স্বদেশি পণ্যের ডাক দিয়েছিলেন বিপ্লবীরা। সেই টুকরো ইতিহাসই এবার এই মণ্ডপের আকর্ষণ। থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিমাও এখানে প্রতিবাদী। তাঁর হাতে ব্রিটিশ আমলের তেরঙ্গা।









