spot_img
Monday, 9 March, 2026
9 March
spot_img
HomeকলকাতাCEC: মিলে গেল বাম-বিজেপির দাবি, কমিশনে একসুর বাম-কং-বিজেপির! ছাব্বিশে এক দফায় ভোট?

CEC: মিলে গেল বাম-বিজেপির দাবি, কমিশনে একসুর বাম-কং-বিজেপির! ছাব্বিশে এক দফায় ভোট?

দু'পক্ষই চেয়েছে বাংলায় যাতে এক কিংবা দু'দফায় ভোট সম্পন্ন হয়।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

রবিবার রাতেই কলকাতায় চলে এসেছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। সোমবার সকাল থেকে বাংলার সব রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছেন CEC জ্ঞানেশ কুমার। এদিন সকালে প্রথমে বিজেপি-র প্রতিনিধি দল বৈঠক করে, পরে সিপিএম। বিজেপির প্রতিনিধি দলে ছিলেন শিশির বাজোয়িরা, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, তাপস রায়। বামেদের প্রতিনিধি দলে ছিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, রাজ্য কমিটির সদস্য আফরিন বেগম, শমীক লাহিড়ী। বেরিয়ে এসে তাঁরা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। তবে দু’পক্ষই কমিশনের কাছে যে বক্তব্য রেখেছে, তার ‘কমন ফ্যাক্টর’ ভোটের দফা। দু’পক্ষই চেয়েছে বাংলায় যাতে এক কিংবা দু’দফায় ভোট সম্পন্ন হয়।

ভোটের দফা নিয়ে অতীতের অবস্থা থেকে সরে আসছে বিরোধীরা ? সোমবার নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকে ভোটের দফা নিয়ে একই সুর শোনা গেল বাম-বিজেপির গলায় ৷

দুই দলের প্রতিনিধিরাই সাফ জানালেন, সর্বোচ্চ দুই দফায় রাজ্যে ভোট করাতে হবে ৷ অন্যদিকে, কংগ্রেস অবশ্য চাইছে এক দফাতেই হোক বিধানসভা ভোট ৷ আর এই দফা কমানোর কারণ হিসাবে বিরোধীদের ব্যাখ্যা, বেশি দফা মানেই শাসকদলের লাভ ৷ রাজ্যের শাসকদল অর্থাৎ তৃণমূলের বাহিনীকে সহজেই দফা অনুযায়ী সব ক্ষেত্রে বিচরণ করা থেকে আটকাতেই এবার দফায় লাগাম পড়াতে চাইছে বিরোধীরা ৷

আরও পড়ুনঃ CPM-এর কালো পতাকা, TMC-র ‘GO Back’; শান্ত মেজাজেই জ্ঞানেশ

রবিবার রাতেই রাজ্যে এসেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ । এদিন নিউটাউনের পাঁচতারা হোটেলে সকাল থেকে প্রথমে রাজনৈতিকদলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকেও বসেছে বেঞ্চ ৷ মোট আটটি স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করবে কমিশন ৷ সেই মতো, এদিন প্রথমেই কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করেন বিজেপির প্রতিনিধিরা ৷ দলে ছিলেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্য়ায়, তাপস রায় এবং শিশির বাজোরিয়া ৷ আর বৈঠক থেকে বেরিয়ে শিশির বাজোরিয়া সাফ জানান, ১৬ দফা দাবি তারা কমিশনের সামনে রাখেন ৷ যেখানে প্রথমেই বলা হয়েছে রাজ্যে এক অথবা সর্বোচ্চ দুই দফায় করতে হবে নির্বাচন ৷

বৈঠক সেরে বেরিয়ে এসে বিজেপির তরফে শিশির বাজোরিয়া জানান, তারা 16টি বিষয়ে বক্তব্য জানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে । এরপরই তিনি বলেন, “একাধিক দফা নয়, বরং এক বা বড়জোর দুটি দফায় নির্বাচন করাতে হবে ৷ কারণ এর আগে বেশি দফায় করানোর জেরে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে দেখা গিয়েছে ।”

পাশাপাশি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের আঙুল কাটা নিয়ে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের বক্তব্য নিয়েও অভিযোগ করেছে বিজেপি ৷ শিশির বাজোরিয়া বলেন, “আমরা বলেছি, আঙুল কেটে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, জ্ঞানেশ কুমারজি এটা আপনার ব্যক্তিগত আঙুল না ৷ এটা ভারতের সংবিধানের আঙুল কাটার কথা বলা হয়েছে ৷ আমরা এফআইআর দায়ের করছি, আপনারাও এফআইআর দায়ের করুন ৷ দয়া করে এটাকে হাল্কাভাবে নেবেন না ৷”

বিজেপি প্রতিনিধিদের দাবি, বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার একটি নির্দিষ্ট কথা আমাদের বলেছেন ৷ তিনি আঙুল দেখিয়ে বলেছেন, এই যে আঙুল যেখানে ভোটের সময় কালি লাগানো হয় এটা কারও ব্যক্তিগত আঙুল না ৷ এর পিছনে ১৪০ কোটি মানুষের শক্তি আছে, গণতন্ত্রের শক্তি আছে ৷

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়েও কমিশনের কাছে অভিযোগ করেছে বিজেপি ৷ এই বিষয়ে শিশির বাজোরিয়া বলেন, “বিভিন্ন জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বসিয়ে রাখা হয়, তেমনটা করলে চলবে না । শান্ত জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ করানো হচ্ছে । কেন্দ্রীয় বাহিনীকে যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হবে ।”

অন্যদিকে, কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের পর দফা নিয়ে বিজেপির সুরই শোনা গেল বামেদের মুখে ৷ কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকের পর সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, “এক দফায় ভোট করানো উচিৎ, খুব বেশি হলে দুই দফায় ৷ না হলে তৃণমূলের গুন্ডা, দুষ্কৃতীরা হিংসা ছড়াবেই ৷”

সেলিম আরও বলেন, “SIR-এর কাজ যে বিএলও বা রাজ্য প্রশাসনের আধিকারিকদের দিয়ে করানো হয়েছে তাদের মধ্যে বিস্তর গলদ ছিল ৷ আজ কমিশন নিজেও সেটা স্বীকার করেছে ৷ তারা বলেছে, প্রশাসনের যে আধিকারিকরা এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন সেই সর্ষের মধ্যে কিছু ভূত ছিল ৷ আমরা বলেছি কিছু না, সবটাই ভূত ৷ তবে ভাবুন এদের দিয়ে কীভাবে নিরপেক্ষ ভোট করানোর কথা আপনি বলতে পারছেন ?” সেলিমের দাবি, জ্ঞানেশ কুমার তাদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, “আমরা কড়াভাবে ভোট করব ৷”

অন্যদিকে, বৈঠকের পর কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেন,”আমরা খুশি হব একদফায় ভোট হলে ৷ তবে আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে ভোট যেন শান্তিপূর্ণ হয় ৷ কিন্তু যদি আপনি বলেন এক দফায় ভোট হলেও অশান্তি বা হিংসা আটকাতে পারব না তাহলে আমরা তাতে রাজি নই ৷”

আরও পড়ুনঃ ঘুমের মধ্যেই ঘুমের দেশে ‘জাতিশ্বর, রামধনু’ অভিনেতা তমাল রায়চৌধুরী

সিপিএমের তরফে কী কী দাবি রাখা হয়েছে কমিশনের কাছে?

১. মূলত লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি- এই বিষয়কে CEC-এর সামনে তুলে ধরা হয়েছে বলে মহম্মদ সেলিম বলেন। সেলিম প্রশ্ন তোলেন, “একটা ভোটার লিস্ট করতে গিয়ে কেন কমিশন মানুষকে শত্রু বানাল? নির্বাচন কমিশন কেন নির্যাতন কমিশন হয়ে গেল?” ভোটের আগে কমিশনকে নিজের সাংবিধানিক সম্মান পুনরুদ্ধার করতে হবে। 

২. বিচারাধীন ৬০ লক্ষ:  এই ৬০ লক্ষ ভোটারকে বাদ দিয়ে ভোটার লিস্ট তৈরি হতে পারে না। সুপ্রিম কোর্ট বলে দিয়েছে, নামের বানান সামান্য ভুল হলে ভোটার  লিস্ট থেকে নাম বাদ যায় না।

৩. সরষের মধ্যে ভূত: আজ কমিশন স্বীকার করেছে, যে সমস্ত প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে কাজ করানো হয়েছিল, তাতে সরষের মধ্যে ভূত ছিল। আমরা বলেছি, যখন স্বীকার করছেন, তখন এক-দু’জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। সেটা জানাতে হবে, তা না হলে তো ভোট আবার তাঁদেরকে দিয়েই করানো হবে।

৪. ফর্ম ৬ : ১৮ বছর হওয়ার পরও যাঁদের নাম তালিকায় উঠল না, তাঁদের নতুন করে ফর্ম ৬ পূরণ করতে হবে। কিন্তু ফর্ম ৬ পূরণ করতে হয় অনলাইনে। সেক্ষেত্রে সমাজের পিছিয়ে পড়াদের অসুবিধা। বিএলএ-রা তাঁদের সাহায্য করবে হবে কমিশন আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু সেলিমের বক্তব্য ছিল, বিএলএ এত কাজ করার পরও তো ম্যাপিংয়ে এত সমস্যা হচ্ছে।

৫. এক দফা ভোট: সেলিমের কথায়, “আমরা নির্দিষ্ট দাবি করেছি এক দফায় ভোট হবে। খুব বেশি হলে দু’দফা। ”

৬. ডিলিটেড নাম: সেলিমের কথায় কমিশন জানিয়েছেন, যাঁদের নাম ডিলিট করা হয়েছে, তাঁদেরও সুযোগ দিতে হবে।

৭. নিরপেক্ষতা: নির্বাচন কমিশন যাতে পক্ষপাতদুষ্ট না হয়, সেই স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে।

বিজেপির তরফে কী কী দাবি রাখা হয়েছে? 

১. কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: গত শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীর ধরনা মঞ্চ থেকে CEC জ্ঞানেশ কুমারের আঙুল কেটে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই নিয়ে রবিবারই কমিশনের কাছে কল্যাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে চিঠি করে বিজেপি। এবার CEC জ্ঞানেশ কুমারকে সরাসরি কল্যাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলল বিজেপি-র প্রতিনিধি দল।

২. স্পর্শকাতর বুথ: ভোটের আগে বাংলার সমস্ত স্পর্শকাতর বুথগুলিকে চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন বিজেপি নেতা শিশির বাজোরিয়া। স্পর্শকাতর অশান্ত এলাকায় রুটমার্চ যাতে বেশি করা হয়, তার দাবি জানিয়েছে বিজেপি।

৩. ভোটের দফা: বাংলায় যাতে এক থেকে দু’দফায় ভোট হয়, সেই দাবি জানানো হয়েছে।

৪. ভয়মুক্ত ভোট: এবারের নির্বাচনে যাতে একুশের ভোট পরবর্তী পরিস্থিতি ফিরে না আসে, তার জন্য বাংলায় ভোট আবহে ভয়মুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার দাবি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর যথাযথ ব্যবহার চায় বিজেপি।

৫. পুলিশ ওয়েলফেয়ার সংগঠনের অফিস বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে বিজেপির তরফে।

৬. সরকারি অফিসারদের যে ‘তন্ত্র’ কাজ করছে, তাদের বিরুদ্ধেও কড়া-কঠোর পদক্ষেপের দাবি বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন