গত লোকসভা নির্বাচনে যাদবপুর কেন্দ্রে বাম সমর্থিত সিপিএম প্রার্থী হয়েছিলেন সৃজন ভট্টাচার্য । ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র, প্রাক্তন সাংসদ তথা আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে প্রার্থী করল সিপিএম ।
সোমবার বিকেলে আনুষ্ঠানিক নাম ঘোষণার কয়েকঘণ্টার মধ্যেই ভোট প্রচারে নামলেন বিকাশরঞ্জন । যদিও গত কয়েকদিন ধরেই যাদবপুর এলাকায় জনসংযোগে ধারাবাহিকভাবে অংশ নিচ্ছিলেন তিনি ।
আরও পড়ুনঃ ‘সাইলেন্ট কিলার’! নন্দীগ্রামে বড় জল্পনা
এদিন সন্ধ্যায় প্রার্থীর সমর্থনে যাদবপুর এইটবি থেকে গড়িয়া মোড় পর্যন্ত সুবিশাল মিছিল সংগঠিত হয় । সেখানে হুড খোলাগাড়িতে বিমান বসু, সুজন চক্রবর্তী ও সিপিএম ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্যকে স্লোগান দিতে দেখা গিয়েছে ।
সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন,”সব জায়গাতেই প্রচার শুরু করা হয়েছে । 294টি আসনেই আঞ্চলিক ইস্যুতে প্রচার শুরু হয়েছে । আজ থেকেই ভোট প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । যেখানে প্রার্থী নেই সেখানে আঞ্চলিক ইস্যু-সহ SIR-এ নাম বাদ যাওয়া নিয়ে প্রচারের কথা বলা হয়েছে ।”
শুধু যাদবপুর নয়, প্রার্থী তালিকা ঘোষণা পর্ব চলাকালীন কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বামপন্থী প্রার্থীদের সমর্থনে দেওয়া লিখন শুরু হয় এদিন । কোথাও পথসভা, মিছিলও চলে । বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু বলেন,”মানুষের দুঃখ দুর্দশা বাড়ানোর ক্ষেত্রে যে কলা কৌশল করছে তার বিরুদ্ধে আমাদের বামপন্থী শক্তি পুনরুত্থানের জন্য এই লড়াই এবারের নির্বাচনে । উত্তরবঙ্গ থেকে শুরু করে দক্ষিণবঙ্গ বা জঙ্গলমহলের সব জায়গায় রাজনৈতিক প্রচার পরিকল্পিতভাবে হবে রাজ্য বামফ্রন্ট আর পক্ষ থেকে । আমাদের মনোভাবের কথা আমরা জানিয়েছি সহযোগীদের কাছে তারাও সম্মতি জানিয়েছে । জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে চাই আমরা । ধর্ম-ভাষা-জাতির ভিত্তিতে মানুষকে বিভক্ত করার চেষ্টা হয় কে কেমন দেখতে সেটা নিয়েও কথা হয় । রাষ্ট্রপতি কেমন দেখতে সেনিয়ে কথা বলতে জনপ্রতিনিধি কুণ্ঠা বোধ করে না । এগুলোর প্রতিবাদে আমরা সোচ্চার হব ।”

এদিকে, প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর বামফ্রন্ট শরিকদের মধ্যে বিবাদ দেখা দিয়েছে । সারা ভারত ফরওয়ার্ড ব্লক বাংলা কমিটির তরফে অভিযোগ তোলা হয়েছে । কমিটির সাধারণ সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায় বামফ্রন্ট সভাপতি বিমান বসুকে চিঠি পাঠিয়েছেন । তাতে তিনি লিখেছেন,”দ্বিপাক্ষিকস্তরে নিষ্পত্তি হওয়ার ভিত্তিতে আপনার নির্দেশে 22টি আসনে প্রার্থী তালিকা পাঠাই । ১৬ মার্চ ২০২৬ বিকেল ৩টেয় আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে সাংবাদিক সম্মেলনে আমাকে বসিয়ে রেখে ২২টি আসনের মধ্যে শ্যামপুকুর কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম ঘোষিত হল না । এতে আমরা বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ ।”
আরও পড়ুনঃ তৃণমূলের কৌশলেই বাজি! তৃণমূল কংগ্রেসের পরীক্ষিত কৌশলই গ্রহণ করল বামফ্রন্ট
তিনি আরও লেখেন, “আমাদের 22টি কেন্দ্রে প্রার্থী তালিকা সম্বলিত চিঠিতে আমরা নির্দিষ্টভাবে কোচবিহার উত্তর, সিতাই, জলপাইগুড়ি, হরিশ্চন্দ্রপুর (মালদা), রানিনগর (মুর্শিদাবাদ), মধ্যমগ্রাম (উত্তর 24 পরগনা) এবং গলসি (পূর্ব বর্ধমান) এই সাতটি কেন্দ্রে আলোচনায় নিষ্পত্তি হয়নি বলে পরে প্রার্থীর নাম জানাব বলা হয়েছিল । কিন্তু আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করলাম উক্ত তালিকার মধ্যে কোচবিহার উত্তর, জলপাইগুড়ি, হরিশ্চন্দ্রপুর এবং গলসি কেন্দ্রে একতরফাভাবে সিপিআইএম প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হল, এতে আমরা ক্ষুব্ধ । এই কেন্দ্রগুলিতে দীর্ঘ বাম আন্দোলনে ফরওয়ার্ড ব্লকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে । তার নিরিখে কোনও অবস্থাতেই উক্ত কেন্দ্রগুলি আমাদের পক্ষে ছাড়া সম্ভব নয় । এমতবস্থায় বাম ঐক্যের স্বার্থে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবেন ।”







