নিউইয়র্কের আকাশে যে লাল আভা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে, তার প্রতিধ্বনি আজ ভারতের রাজনৈতিক মনোজগতেও শোনা যাচ্ছে। পুঁজিবাদের কেন্দ্রভূমি আমেরিকায় যখন ছাত্র–শ্রমিকের অধিকারকে সামনে রেখে সমাজতান্ত্রিক নেতৃত্ব ক্রমশ শক্তি অর্জন করছে, তখন ভারতের মানুষ নিজের অভিজ্ঞতার আলোয় সেই পরিবর্তনের গুরুত্ব আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করছে।
মেয়র জোহরান মামদানি নিউইয়র্কে এক ভিন্ন ধরনের নগরদর্শন তৈরি করেছেন—যার কেন্দ্রে রয়েছে মানুষের সম্মান, সাশ্রয়ী আবাসন এবং জনকল্যাণমূলক নীতি। ইথাকা শহরে হান্না শভেট্জের বিজয় সেই ধারাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। প্রভাবশালী ভূমিপতি প্রার্থীকে পরাজিত করে তিনি দেখিয়েছেন যে সংগঠিত জনতার শক্তির সামনে পুঁজির আধিপত্য টিকতে পারে না।
ভারতের পরিস্থিতির সঙ্গে এই পরিবর্তনের অদ্ভুত মিল রয়েছে। দিল্লি, কলকাতা, মুম্বই বা বেঙ্গালুরু—যেখানেই তাকানো যায়, শহরজীবনে মানুষের সমস্যা একই: ভাড়ার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, জমি–বাড়ি নিয়ে কর্পোরেটের দাপট, ছাত্রদের ওপর আর্থিক চাপ, এবং শ্রমজীবী মানুষের জন্য আবাসনের সংকট। হান্না শভেট্জের বিজয়ের বার্তা তাই ভারতের বাস্তবতাকেও স্পর্শ করে। তিনি বলেছিলেন, শহর মানুষের হবে—মুনাফাখোরের নয়। এই কথাটি যেন ভারতের হাজারো পরিবার, উদ্বাস্তু শ্রমিক, সংগ্রামী ছাত্র–যুবাদের কণ্ঠস্বরও বয়ে নিয়ে আসে।
ভারতে দীর্ঘদিন ধরেই কর্পোরেটমুখী নীতি, শ্রমআইনের দুর্বলতা, বেসরকারীকরণ এবং নাগরিক পরিষেবার সংকট বাড়ছে। ঠিক এই কারণেই নিউইয়র্কে বামপন্থী উত্থানের এই দৃশ্য ভারতীয়দের সামনে একটি প্রশ্ন তুলে ধরে—আমাদের শহর কার? মানুষের, না কি বাজারের? রাজনীতি কি সত্যিই মানুষের জীবনের উন্নতির জন্য ব্যবহার করা যায়? মানুষের অধিকার কি প্রশাসনের কেন্দ্রে ফিরে আসতে পারে?
আরও পড়ুনঃ মৃত্যু ৮, এবার শ্রীনগরে থানার মধ্যেই বিস্ফোরণ
মেয়র মামদানি ও কাউন্সিলর শভেট্জ এই প্রশ্নগুলোর উত্তর তাদের কাজ দিয়ে দেখাচ্ছেন। তাঁদের নেতৃত্ব প্রমাণ করছে, যেখানে মানুষ একত্রিত হয়, সেখানেই বিকল্পের পথ তৈরি হয়। সংগঠিত জনতার শক্তি ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিতে পারে।

নিউইয়র্কের আকাশের এই লাল হয়ে ওঠা তাই কেবল একটি শহরের গল্প নয়। এটি এক আশা, যা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের মানুষকেও ভাবতে বাধ্য করছে—পরিবর্তন সম্ভব, যদি মানুষের রাজনীতি ফিরে আসে।
নিউইয়র্কের আকাশটা সত্যিই লাল হচ্ছে—আস্তে আস্তে, তবু দৃঢ়ভাবে। সেই আভা আজ ভারতের দিগন্তেও ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে।








