গত ৩০ জানুয়ারি রাজ্য ও কলকাতা পুলিশে বড়সড় রদবদলের পর ফের প্রশাসনিক অদলবদল। সেদিন রাজ্য পুলিশের নতুন ভারপ্রাপ্ত ডিজি হিসেবে দায়িত্ব নেন। পাশাপাশি একাধিক উচ্চপদে বদল করে নবান্ন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিল যে প্রশাসনিক কাঠামোয় নতুন করে গতি আনা হবে। তার রেশ কাটতে না কাটতেই শনিবার আবারও রাজ্য পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল করা হলো। যদিও নবান্নের দাবি, এটি সম্পূর্ণ রুটিন বদলি।
আরও পড়ুনঃ “চিরকাল রেলায় আছে থাকবে মোহনবাগান…”; ভ্যালেন্টাইন্স ডে-তে যুবভারতী হয়ে উঠল মোহনভারতী
সর্বশেষ নির্দেশ অনুযায়ী, রাজ্যের এডিজি অ্যান্ড আইজিপি পদে থাকা রাজীব মিশ্রকে এডিজি অ্যান্ড আইজিপি পদে পাঠানো হয়েছে। আধুনিকীকরণ ও সমন্বয়ের দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতা থাকায় দক্ষিণবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা তদারকিতে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত নানা চ্যালেঞ্জ সামনে এসেছে, ফলে এই বদলি তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, এডিজি অ্যান্ড আইজি পদে থাকা লক্ষ্মী নারায়ণ মিনাকে পাঠানো হয়েছে সিআইডির এডিজি অ্যান্ড আইজিপি পদে। কারা দফতরে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকলেও এবার তাঁকে অপরাধ তদন্ত দফতরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হলো। সিআইডি-র একাধিক সংবেদনশীল মামলার তদন্ত চলছে, সেই প্রেক্ষিতে এই বদল বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। প্রশাসনিক মহলের মতে, তদন্তের গতি ও দক্ষতা বাড়াতেই এই পদক্ষেপ।
আরও পড়ুনঃ বসন্ত জাগ্রত দ্বারে! ঐতিহ্যের সঙ্গে আপস নয়; বিশ্বভারতীতে বসন্ত উৎসব রুদ্ধদ্বারেই
জেলা পুলিশের ক্ষেত্রেও বদল আনা হয়েছে। মুর্শিদাবাদ ও জঙ্গিপুর রেঞ্জের আইজিপি পদে থাকা মুকেশকে পাঠানো হচ্ছে আইবির আইজিপি হিসেবে। গোয়েন্দা শাখায় তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। সীমান্তবর্তী জেলা ও সংবেদনশীল অঞ্চলে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো মাথায় রেখেই এই বদলি করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এছাড়াও নদিয়া ও রানাঘাট রেঞ্জের ডিআইজি পদে থাকা সৈয়দ ওয়াকুয়ার রাজাকে মুর্শিদাবাদের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলা রাজনৈতিক ও সামাজিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অভিজ্ঞ অফিসারকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে রাজ্য পুলিশের শীর্ষ ও মধ্যস্তরে একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। শুধু উচ্চপদস্থ অফিসারই নন, বদলি করা হয়েছে দুই জেলার পুলিশ সুপারকেও। যদিও সংশ্লিষ্ট জেলার নাম সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি, প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।নবান্নের তরফে জানানো হয়েছে, এই বদলিকে অতিরঞ্জিত করার কোনও কারণ নেই। এটি সম্পূর্ণ রুটিন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। নির্দিষ্ট সময় অন্তর কর্মকর্তাদের বদলি করা হয়, যাতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও কর্মদক্ষতা বজায় থাকে। তবে রাজনৈতিক মহলে এই রদবদল নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা এবং আগামি প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখেই এই অদলবদল।









