দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের একটি যৌথ অভিযানে দেশের নিরাপত্তার জন্য বড়সড় সাফল্য অর্জন হয়েছে। পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স এবং বাংলাদেশভিত্তিক উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে যোগসূত্রযুক্ত একটি সন্ত্রাসী মডিউল ভাঙতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। এই অভিযানে তামিলনাড়ুর এবং পশ্চিমবঙ্গের আট জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, বিদেশি হ্যান্ডলারদের নির্দেশনায় এই গ্রুপ ভারতের কোনো বড় সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করছিল।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ছয় জনকে যাদের নাম জানা গেছে: মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ সাবাত, উমার, মোহাম্মদ লিতান, মোহাম্মদ শাহিদ এবং মোহাম্মদ উজ্জল তামিলনাড়ুর তিরুপপুর জেলার বিভিন্ন গার্মেন্টস ইউনিট থেকে আটক করা হয়েছে। অন্য দুই জনকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এই অভিযান অনলাইনে সন্ত্রাসী কার্যক্রমকে সমর্থনকারী পোস্টগুলির তদন্তের পর শুরু হয়। তদন্তে পুলিশকে তিরুপপুরে স্থানীয় পুলিশের সহায়তা নিতে হয়। তদন্তে জানা যায়, গ্রেফতার হওয়া ছয় জন তিরুপপুরের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কাজ করছিলেন। এরা নকল আধার কার্ড ব্যবহার করছিল এবং স্থানীয়ভাবে নিজেদের পরিচয় গোপন রাখার চেষ্টা করছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের দল তাদের শনাক্ত করে এবং অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় পুলিশ আটটি মোবাইল ফোন এবং ১৬টি সিম কার্ড উদ্ধার করেছে। এগুলো এখন ডিজিটাল প্রমাণ ও অন্যান্য সন্ত্রাসী অপারেটরের সঙ্গে যোগসূত্র খুঁজে বের করতে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
তামিলনাড়ুর তিরুপ্পুর জেলায় গারমেন্টস তৈরির ইউনিটে কাজ করার ছদ্মবেশে থাকত মিজানুর রহমান (Mizanur Rahman), মহম্মদ শাবাত (Mohammed Shabat), উমর (Umar), মহম্মদ লিতন (Mohammed Litan), মহম্মদ শাহিদ (Mohammed Shahid) এবং মহম্মদ উজ্জল (Mohammed Ujjal)। ওই ছ’জনকে সেখান থেকেই গ্রেফতার করে তামিলনাড়ু পুলিশ। পশ্চিমবঙ্গ থেকেও আরও দু’জনকে ধরা হয়েছে।
জানা যাচ্ছে, নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে ভুয়ো আধার কার্ড ব্যবহার করছিল তারা। তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে আটটি মোবাইল ফোন ও ১৬টি সিম কার্ড। গোটা চক্রকে তামিলনাড়ু পুলিশই প্রথমে আটক করে। পরে তদন্তের সুবিধার জন্য তাদের দিল্লি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।
কয়েকদিন আগেই কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা সূত্রে জানা যায়, পাকিস্তান-ভিত্তিক লস্কর-ই-তইবা দিল্লির লালকেল্লা সংলগ্ন এলাকা ও চাঁদনি চকের এক মন্দির-সহ দেশের নানা গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানে বিস্ফোরণের ছক কষছে। সন্দেহ, আইইডি হামলার পরিকল্পনা করছিল জঙ্গিরা। পাকিস্তানের ইসলামাবাদের এক মসজিদে ৬ ফেব্রুয়ারির আত্মঘাতী বিস্ফোরণে ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আহত হয়েছিলেন ১৬০ জনেরও বেশি। যদিও সেই হামলার দায় স্বীকার করেছিল আইএস।
তিন মাস আগেই, ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর, দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লা মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় একটি গাড়িবোমা বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল রাজধানী। বিস্ফোরণে প্রাণ যায় ১২ জনের, জখম হন প্রায় দু’ডজন মানুষ। তদন্তে জানা যায়, গাড়িটি চালাচ্ছিল উমর মহম্মদ ওরফে উমর উন নবী (Umar Mohammad alias Umar Un Nabi), যিনি ফারিদাবাদের আল-ফলাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ডাক্তার। বিস্ফোরণের দিনই ফারিদাবাদে ২,৯০০ কেজি বিস্ফোরক—অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট-সহ উদ্ধার হয়। এর আগেই মডিউলের দুই সদস্য ড. মুজাম্মিল শাকিল (Dr. Muzammil Shakeel) এবং ড. আদিল রাথার (Dr. Adil Rather)–কে গ্রেফতার করেছিল তদন্তকারীরা। সূত্রের দাবি, সে কারণে চাপে পড়েই উমর ওই বিস্ফোরণ ঘটায়।
বর্তমানে ধৃত আট জনকে জেরা করে গোটা চক্রের যোগসূত্র, জঙ্গি যোগাযোগ এবং চূড়ান্ত পরিকল্পনার খতিয়ান খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তদন্তে মিলতে পারে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।









