২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সামাজিক কল্যাণমূলক পদক্ষেপে আরও জোর দিল শাসকদল। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকাদের জন্য বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০ মার্চ প্রকাশিত তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী ইশতেহারে এই সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়েছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে হাজার হাজার কর্মীর জীবনে।
ঘোষণা অনুযায়ী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং আশাকর্মীদের মাসিক সাম্মানিক বেতন আরও ₹১,০০০ বৃদ্ধি করা হবে। এই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে আগামী ১ এপ্রিল, ২০২৬ থেকে। এর ফলে ইতিমধ্যেই ২০২৪ সালে ₹৭৫০ বেতন বৃদ্ধি পাওয়ার পর আবারও আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন এই কর্মীরা, যা তাঁদের জন্য বড় স্বস্তির খবর বলেই মনে করা হচ্ছে।
২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের মাসিক বেতন ছিল ₹৯,০০০, যা ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ₹১০,০০০। অন্যদিকে অঙ্গনওয়াড়ি সহায়িকাদের বেতন ₹৬,৫০০ থেকে বেড়ে হবে ₹৭,৫০০। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৪ সালের আগে এই বেতন আরও কম ছিল কর্মীদের জন্য ₹৮,২৫০ এবং সহায়িকাদের জন্য ₹৬,০০০। ফলে গত দুই বছরে ধারাবাহিকভাবে এই খাতে বেতন বৃদ্ধি হয়েছে।
শুধু বেতন বৃদ্ধি নয়, ইশতেহারে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। অঙ্গনওয়াড়ি ও আশাকর্মীদের জন্য ১৮০ দিনের মাতৃত্বকালীন ছুটির সুবিধা চালু করার কথা বলা হয়েছে, যা তাঁদের কাজের পরিবেশে বড় পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি, কোনো কর্মীর ৬০ বছর বয়সের আগে মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারের নিকটাত্মীয়কে ₹৫ লক্ষ এককালীন আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ শিক্ষা-শিল্প জলাঞ্জলি; ঈদের নামাজে মমতা, কালীঘাটে পুজো শুভেন্দুর, জোরদার জনসংযোগে শাসক-বিরোধী
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা মূলত শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। গ্রামীণ ও শহরতলির স্তরে এই কর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাঁদের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা বাড়ানোর এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। রাজনৈতিক মহলের মতে, আসন্ন নির্বাচনের আগে এই ধরনের ঘোষণা ভোটারদের কাছে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে। বিশেষ করে মহিলা কর্মীদের একটি বড় অংশ এই প্রকল্পের আওতায় থাকায়, তাঁদের সমর্থন আদায়ে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
তবে বিরোধী শিবির থেকে এই ঘোষণা নিয়ে প্রশ্নও তোলা হয়েছে। তাঁদের দাবি, শুধুমাত্র নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দেওয়া নয়, বাস্তবে তা কতটা কার্যকর হয়, সেটাই দেখার বিষয়। যদিও শাসকদলের তরফে জানানো হয়েছে, পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতির মতো এটিও বাস্তবায়িত হবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই।



