বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। গতকাল তৃণমূলের ৫ বছরের ইস্তেহার প্রকাশ করে মমতা বলেন কেন্দ্রীয় সরকার নির্বাচন কমিশকে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন নিয়ে আসতে চাইছে। এই মন্তব্যের পরেই মুখ খোলেন যাদবপুরের এবারের বাম প্রার্থী বর্ষীয়ান নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। । তিনি অভিযোগ করেছেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেইরাষ্ট্রপতি শাসন চান যাতে তিনি নিজের ব্যর্থতা থেকে পালানোর রাস্তা পান।
বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য আরও বলেছেন যে, ২০১১ সাল থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিটি নির্বাচনী ইশতেহার দেখলে বোঝা যাবে যে, একটি প্রতিশ্রুতিও পূরণ হয়নি। তিনি এগুলোকে “হোয়াক্স” এবং “জুমলাবাজি” বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর কথায়, “তাঁর ইশতেহারগুলো সব জালিয়াতি। তিনি শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে নষ্ট করে দিয়েছেন। কাটমানির কাঠামো তৈরি করেছেন। এসবই তৃণমূলের কাজ।”
এই আক্রমণের পটভূমিতে রয়েছে রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি। নির্বাচন কমিশনের তরফে বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ আইএএস এবং আইপিএস অফিসারের বদলি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই “অঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন” চলছে বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশন মিলে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোকে দুর্বল করে দিচ্ছে, যাতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করা যায়।
এই পরিস্থিতিতে বিকাশবাবুর মন্তব্যকে অনেকে দেখছেন তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিরোধী শিবিরের একটা সমন্বিত আক্রমণের অংশ হিসেবে। সিপিআই(এম) নেতা মনে করছেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে কেন্দ্রের উপর দোষ চাপাচ্ছেন এবং রাষ্ট্রপতি শাসনের কথা তুলে নিজে ভিক্টিম কার্ড খেলতে চাইছেন। বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের এই বক্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে।
আরও পড়ুনঃ ‘আপনি সবচেয়ে বড় অনুপ্রবেশকারী’, নিশানায় মোদী; হুংকার মমতার
বামফ্রন্টের প্রথম প্রার্থী তালিকায় তাঁকে এবং মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায়কে মতো প্রবীণ নেতাদের মাঠে নামানো হয়েছে, যা দেখায় যে বামেরা এবার জোরালো লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি বলেছেন যে, তৃণমূলের শাসনামলে শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে স্কুল-কলেজে দুর্নীতি, নিয়োগ দুর্নীতি, শিক্ষকদের অবহেলা। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও একই অবস্থা হাসপাতালে ওষুধ নেই, ডাক্তার নেই, রোগীদের দুর্ভোগ। আর সবচেয়ে বড় অভিযোগ “কাটমানি” যেখানে প্রতিটি প্রকল্প, চাকরি, সরকারি সুবিধা থেকে টাকা কাটা হয়।



