পুলিশ বঙ্গভবন ঘিরে ফেলেছে শোনা মাত্রই সোমবার সকাল সকাল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে ছুটে গিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। খেয়াল করলেই দেখা যাবে, তখন তাঁর পরনে ছিল ঘরে পরার শাড়ি। আর তার উপর সাদা নকশা করা চাদর। সেই পর্বের ইতি। বেলা গড়াতেই দেখা গেল চাদরের রংটা বদলে গেল। এখন তাঁর পরনে কালো শাল। এসআইআরকে দায়ী করা মৃতদের পরিজনদের গায়েও কালো চাদর। আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরনে কালো সোয়েটার। বার্তা স্পষ্ট।
পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া চলাকালীন শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই ইস্যুতেই সোমবার বিকেল ৪টেয় তৃণমূলের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকের সময় দেয় নির্বাচন কমিশন। সেই বৈঠক ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে বলে খবর। এসআইআরে ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ পরিবারের সদস্যরাও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে কয়েকটি মৃত্যুর ঘটনার জন্য এসআইআর প্রক্রিয়াকেই দায়ী করেছেন মৃতদের পরিবার। সেই সব পরিবারের সদস্যদের দিল্লিতে নিয়ে যান মমতা। তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করা হয় বঙ্গভবনে। তবে সোমবার সকালে হঠাৎ করেই বঙ্গভবনের সামনে দিল্লি পুলিশের তৎপরতা নজরে আসে। অভিযোগ ওঠে, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং বঙ্গভবন ঘিরে রেখে ভিতরে তল্লাশি চালানো শুরু হয়।
আরও পড়ুনঃ “মঙ্গলে অমঙ্গলের শঙ্কা মমতার”! ব্যাকফুটে আইনজীবী কপিল সিব্বল
এই খবর পেয়েই বঙ্গভবনে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী-অভিষেক। তখনও মমতার গায়ে ছিল সাদা নকশা কাটা চাদর। কিন্তু চারটের খানিকক্ষণ আগে কমিশনে ঢোকার আগেই সেই রঙ পাল্টে কালো শাল হয়ে গেল।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় বাজেটে পশ্চিমবঙ্গকে ‘বঞ্চিত’ করার অভিযোগ তুলে রাজ্যসভা থেকে কক্ষত্যাগ করেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদেরা। বাজেট অধিবেশনের শুরুতেই এই প্রতিবাদে সামিল হয়ে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা রাজ্যের প্রাপ্য আটকে রাখার অভিযোগ তোলে শাসকদল। তৃণমূলের বক্তব্য, কেন্দ্রের এই আচরণ শুধু বাংলার প্রতি অবিচার নয়, বরং দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ও কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ককেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফরের মধ্যেই কেন্দ্রীয় ‘বঞ্চনা’র প্রশ্নে তৃণমূল আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিচ্ছে।









