আগামীকাল ৩ ফেব্রুয়ারী সুপ্রিম কোর্টে ইডি মামলার শুনানির দিন (Supreme Court)। গত দিন শুনানিতে আদালতের পর্যবেক্ষণে কিছুটা হলেও ব্যাকফুটে ছিলেন আইনজীবী কপিল সিব্বল। যদিও বেশ কিছু প্রশ্ন ইডিকেও করা হয়েছিল। ইডি দাবি করেছে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে CBI তদন্ত হোক। আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে যে যদি তল্লাশি হয়েছিল সেখান থেকে তিনি কিছু নথি জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে এসেছিলেন বলে অভিযোগ করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট অফিসাররা।
আরও পড়ুনঃ ধর্মের কল বাতাসে নড়ে, পাক সেনার পুরো কনভয় ওড়াল বালোচ বিপ্লবীরা
সেদিন মমতার সঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার এবং প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা। তাদের বিরুদ্ধেও CBI তদন্তের দাবি করেছিল ইডি। আদালত ইডির অভিযোগকে অত্যন্ত “গুরুতর” বলে অভিহিত করেছে। বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি বিপুল এম পঞ্চোলির বেঞ্চ মন্তব্য করেন যে, কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে যদি এভাবে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী হস্তক্ষেপ করে, তবে দেশে এক “নৈরাজ্যের পরিস্থিতি” তৈরি হতে পারে।
আদালত এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পশ্চিমবঙ্গ সরকার, রাজ্যের তৎকালীন ডিজিপি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে নোটিশ পাঠিয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। তল্লাশির দিন আইপ্যাক অফিসের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ এবং ইলেকট্রনিক প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। গত শুনানিতে আদালতের পর্যবেক্ষণে বেশ চিন্তিত দেখা গিয়েছিল সরকার পক্ষের আইনজীবী কপিল সিব্বলকে।
আরও পড়ুনঃ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের ধারাবাহিকতা ও জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের জোরে চতুর্থবারের সম্ভাবনা
তবে এই শুনানি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে গুঞ্জন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে আদালতের গতদিনের যে পর্যবেক্ষণ ছিল তাতে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে করা পদক্ষেপ নিতে আর বেশি সময় নেই সুপ্রিম কোর্টের। অনেকের মুখেই শোনা গিয়েছে যে ইডি তল্লাশিতে হস্তক্ষেপের ঘটনা যদি সত্যি প্রমাণিত হয় তাহলে চরম ব্যবস্থা নিতে দ্বিতীয়বার ভাববে না সুপ্রিম কোর্ট।
তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় আগেই বলেছিলেন যে তিনি দলের চেয়ারম্যান হিসেবে এই কাজ করেছেন এবং ইডি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রির নির্দেশে দলীয় নথি চুরি করতে এসেছিল। তাই তিনি ওই সবুজ ফাইল নিয়ে চলে এসেছিলেন। যদিও সেদিন গাড়ি ভর্তি অন্য ফাইলগুলির কোনও ব্যাখ্যা মেলেনি। তবে যাই হোক রাজনৈতিক থেকে সামাজিক সমস্ত মহলেই এখন একটাই প্রশ্ন আগামীকাল সুপ্রিম কোর্ট কি সিদ্ধান্ত নেয় এবং তাতে রাজনৈতিক মহলে কি ঝড় ওঠে।









