পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে কোন দল এগিয়ে আর কোন দল পিছিয়ে? ভোট যত ঘনিয়ে আসছে, ততই মানুষের মধ্যে বাড়ছে কৌতুহল। এরই মাঝে এবার বাংলা নিয়ে জনমত সমীক্ষা প্রকাশ করল ‘ম্যাট্রিজ’। সেই সমীক্ষা অনুযায়ী, বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে আসন্ন নির্বাচনে। তৃণমূল এই লড়াইতে কিছুটা এগিয়ে। তবে খুব একটা পিছিয়ে নেই বিজেপি। এদিকে অন্যান্য দলগুলি এখানে খাতা খুলতে পারে এবারে।
আরও পড়ুনঃ বিতর্কে তৃণমূল নেতা অশোক চট্টোপাধ্যায়; নৈহাটি থানার IC-কে সাসপেণ্ড
ম্যাট্রিজের সমীক্ষা অনুযায়ী, আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ঝুলিতে যেতে পারে ১৪০ থেকে ১৬০টি আসন। উল্লেখ্য, বাংলায় ‘ম্যাজিক ফিগার’ হল ১৪৮। এদিকে আসন্ন নির্বাচনে বিজেপি ১৩০ থেকে ১৫০টি আসন জিততে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে সমীক্ষায়। এছাড়া বামফ্রন্ট, কংগ্রেস এবং অন্যান্য দলগুলি সব মিলিয়ে ৮ থেকে ১৬টি আসনে জিততে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এবং তা হলে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে অন্যান্য দলগুলি বড় ফ্যাক্ট হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এদিকে ভোটের নিরিখে তৃণমূল কংগ্রেস ৪৩ শতাংশ ভোট পেতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে সমীক্ষায়। বলা হচ্ছে, বিজেপির ঝুলিতে যেতে পারে ৪১ শতাংশ ভোট। এবং বামফ্রন্ট, কংগ্রেস এবং অন্যান্য দলগুলি সব মিলিয়ে প্রায় ১৬ শতাংশ ভোট নিজেদের দিকে টানতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। সেই ক্ষেত্রে অনেক আসনেই হয়ত ‘ভোট কাটাকাটির’ জন্য কোনও কোনও দলের সুবিধা হতে পারে বা মাথায় হাত পড়তে পারে।
এদিকে সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে, দক্ষিণবঙ্গের ১৮৩টি আসনে (মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি ও পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার) তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে থাকবে বিজেপির থেকে। এই জেলাগুলি থেকে তৃণমূল পেতে পারে ৯৫ থেকে ১০০টি আসন, বিজেপি পেতে পারে ৭৫ থেকে ৮০টি আসন। এবং অন্যান্য দলগুলির ঝুলিতে যেতে পারে ৪ থেকে ৮টি আসন। ভোটের নিরিখে বিজেপি এই আসনগুলি মিলিয়ে ৩৭ শতাংশ ভোট পেতে পারে, তৃণমূল পেতে পারে ৪৪ শতাংশ এবং অন্যান্য দলগুলি সব মিলিয়ে পেতে পারে প্রায় ১৯ শতাংশ ভোট।
আরও পড়ুনঃ সুপ্রিম হুঁশিয়ারি! “রাজ্য প্রশাসন ব্যর্থ হলে কী করতে হবে জানি..”
এদিকে রাঢ় বঙ্গেও (পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূম) এগিয়ে থাকবে তৃণমূল কংগ্রেস। এই অঞ্চলের ৫৭টি আসনের মধ্যে ৩৭ থেকে ৪০টি পেতে পারে তৃণমূল। বিজেপি পেতে পারে ১৭ থেকে ২০টি আসন। সেখানে তৃণমূলের ভোটের হার হতে পার ৪৩ শতাংশ এবং বিজেপি পেতে পারে ৪২ শতাংশ ভোট। তবে ভোটের হারে ফারাক কম থাকলেও আসনের নিরিখে এখানে তৃণমূল ছাপিয়ে যেতে পারে বিজেপিকে।
তৃণমূল বনাম বিজেপি: ম্যাজিক ফিগার কার হাতে?
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪টি আসনের মধ্যে সরকার গড়তে প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। সমীক্ষা অনুযায়ী:
তৃণমূল কংগ্রেস: ১৪০ – ১৬০ আসন (ভোটের হার ৪৩%)
বিজেপি: ১৩০ – ১৫০ আসন (ভোটের হার ৪১%)
অন্যান্য: ৮ – ১৬ আসন (ভোটের হার ১৬%)
সমীক্ষার মতে, তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ২ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে সামান্য এগিয়ে থাকলেও, এই ব্যবধান এতটাই নগণ্য যে নির্বাচনের আগে যে কোনও সময়ে পাল্টে যেতে পারে সমীকরণ। ১৪৮-এর ‘ম্যাজিক ফিগার’ ছোঁয়ার দৌড়ে দুই পক্ষই এখন সমানে সমান। শেষ পর্যন্ত বাংলার সাধারণ মানুষ কার ওপর আস্থা রাখেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
এই সমীক্ষায় অঞ্চল ধরে ধরে জনমত নেওয়া হয়েছে বলে ম্যাটিজ জানিয়েছে। সেই মোতাবেক ছবিটা এই রকম—
দক্ষিণবঙ্গ: তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি
দক্ষিণবঙ্গের ১৮৩টি আসনে (মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, দুই ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি ও দুই মেদিনীপুর) তৃণমূল কংগ্রেসের আধিপত্য বজায় থাকার সম্ভাবনা প্রবল।
আসন: তৃণমূল কংগ্রেস পেতে পারে ৯৫-১০০টি আসন। বিজেপি ৭৫-৮০টি এবং অন্যান্যরা ৪-৮টি।
ভোটের হার: তৃণমূল ৪৪%, বিজেপি ৩৭%, এবং অন্যান্যরা ১৯% ভোট পেতে পারে।
২. রাঢ় অঞ্চল: লড়াইতে এগিয়ে ঘাসফুল
পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, দুই বর্ধমান ও বীরভূম নিয়ে গঠিত রাঢ় অঞ্চলের ৫৭টি আসনেও তৃণমূল এগিয়ে রয়েছে।
আসন: তৃণমূল পেতে পারে ৩৭-৪০টি আসন। বিজেপির ঝুলিতে যেতে পারে ১৭-২০টি আসন।
ভোটের হার: এখানে লড়াই বেশ হাড্ডাহাড্ডি। তৃণমূল ৪৩% এবং বিজেপি ৪২% ভোট পেতে পারে। অর্থাৎ মাত্র ১ শতাংশের ব্যবধানে লড়াই হবে অত্যন্ত তীব্র।
৩. উত্তরবঙ্গ: বিজেপির দাপট অব্যাহত
কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং ও মালদহ সহ উত্তরবঙ্গের ৫৪টি আসনে প্রধান শক্তি হিসেবে উঠে আসছে বিজেপি।
আসন: বিজেপি পেতে পারে ৩০-৩৩টি আসন, যেখানে তৃণমূলের সম্ভাবনা ১৭-২০টি আসনের।
ভোটের হার: বিজেপি ৪৩% এবং তৃণমূল ৪০% ভোট পেতে পারে।



